সরকারি কর্মী ও সরকারি অর্থভোগীদের বাড়িতে প্রিপেইড স্মার্ট মিটার(Smart Meter) লাগানো বাধ্যতামূলক। সম্প্রতি নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্য সরকার। রাজ্যজুড়ে এই স্মার্ট প্রিপেইড মিটার(Smart Meter) লাগানোর বেআইনি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ আন্দোলন দানা বাঁধছে । জনস্বার্থে স্মার্ট প্রিপেইড মিটার লাগানোর চক্রান্ত রুখে দেওয়ার ডাক দিয়েছে বিদ্যুৎ গ্রাহকদের সংগঠন।

বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্মার্ট মিটার লাগানোর বিরোধিতা করেছিলেন। বলেছিলেন স্মার্ট মিটার লাগানো বাধ্যতামূলক নয়। কেউ যদি স্মার্ট মিটার লাগাতে না চায়, সে লাগাতে নাই পারে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসেই স্মার্ট মিটার লাগানো বাধ্যতামূলক করতে হুলিয়া জারি করা হয়েছে। সরকারি কর্মী ও সরকারী অর্থভোগীদের বাড়িতে স্মার্ট মিটার লাগাতেই হবে এমনই বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে।

এই নির্দেশিকা জারির প্রতিবাদে তীব্র বিক্ষোভ আন্দোলন শুরু হল সেই মুখ্যমন্ত্রীর জেলা পূর্ব মেদিনীপুর থেকে। বিক্ষোভ আন্দোলনে নামল বিদ্যুৎ গ্রাহকদের একমাত্র রেজিস্টার্ড সংগঠন অল বেঙ্গল ইলেকট্রিসিটি কনজিউমার্স অ্যাসোসিয়েশন বা অ্যাবেকা। নকল স্মার্ট মিটার পুড়িয়ে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়। দেউলিয়া বাজারে ১৬ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর আন্দোলনকারীরা নকল স্মার্ট মিটার জড়ো করে তাতে অগ্নিসংযোগ করেন। এর ফলে জাতীয় সড়ক সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। তৈরি হয় তীব্র যানজট।

জেলার বিদ্যুৎ দফতরের প্রধান কার্যালয় ‘বিজলী ভবন’, জেলার প্রবেশদ্বার মেছেদা পাঁচমাথা মোড়, কাঁথির পোস্ট অফিস মোড় এবং এগরা-র দীঘা মোড় ছাড়া একাধিক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম সংযোগস্থলে বিদ্যুৎ গ্রাহকেরা স্মার্ট মিটার পুড়িয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন বিদ্যুৎ দফতরের কার্যালয়ে স্মারকলিপি জমা দেন। ডিভিশনাল ম্যানেজার, স্টেশন ম্যানেজারদের ঘেরাও করে এই কর্মসূচি চলে।

কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎমন্ত্রী মনোহরলাল খট্টর মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে যাওয়ার পরেই রাজ্য সরকার প্রাথমিক স্তরে সরকারি দফতর ও কর্মীদের বাড়িতে মিটার লাগানোর নির্দেশিকা জারি করে। এমনকি এই নির্দেশিকা মানতে বাধ্য করার জন্য পুলিশ ও জেলা প্রশাসনকে সাহায্য করার নির্দেশ পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে অ্যাবেকা সাফ জানিয়েছে, ২০০৩ সালের বিদ্যুৎ আইনের কোথাও স্মার্ট মিটার বাধ্যতামূলকভাবে বসানোর কথা বলা নেই। যে আরডিএসএস স্কিমের দোহাই দিয়ে এই মিটার বসানো হচ্ছে, সেখানেও কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। এটি একটি প্রকল্প মাত্র। ফলে স্মার্ট মিটার নেওয়ার জন্য কাউকে বাধ্য করা যায় না। এই কথাই বিরোধী দলনেতা হিসেবে বলেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী হয়েই তিনি ভোল বদলে ফেললেন। প্রশ্ন উঠেছে, কার স্বার্থে তিনি এই জনবিরোধী সিদ্ধান্ত নিলেন? তবে কি আদানির সংস্থাকে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে তুলতেই এই সিদ্ধান্ত? ঘুরিয়ে কি বেসরকারিকরণেরই চেষ্টা চলছে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে।

সংগঠনের পক্ষে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নেতা নারায়ণচন্দ্র নায়ক বলেন, রাজ্য নজিরবিহীন নির্দেশিকা জারি করে জানিয়েছে, সরকারি কর্মচারী, সরকারি ভাতা প্রাপক, অর্থাৎ স্কুল-কলেজের শিক্ষক, অধ্যাপক, আশা কর্মী, অঙ্গনওয়াড়ী কর্মী, মিড-ডে মিল কর্মী এবং সাফাই কর্মী— সবার বাড়িতে বাধ্যতামূলকভাবে স্মার্ট মিটার বসাতে হবে। প্রাথমিকভাবে রাজ্যজুড়ে ২ কোটি স্মার্ট মিটার লাগাতে জেলা শাসকদের কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারের এই হুলিয়া জারির বিরুদ্ধেই আমাদের এই আন্দোলন। সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, স্মার্ট প্রিপেইড মিটার লাগানোর সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ বাতিল করতে হবে। দুই, ইতিমধ্যে লাগানো সমস্ত স্মার্ট মিটার অবিলম্বে খুলে নিতে হবে। তিন, ক্ষুদ্রশিল্পে ‘মিনিমাম চার্জ’ প্রথা প্রত্যাহার করতে হবে। চার, গৃহস্থালির ক্ষেত্রে ২০০ ইউনিট পর্যন্ত এবং কৃষিকাজে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হবে। একইসঙ্গে সংগঠন হুঁশিয়ারি দিয়েছে, সরকার এই জনবিরোধী সিদ্ধান্ত থেকে অবিলম্বে সরে না এলে রাজ্যের প্রতিটি ব্লকে ‘স্মার্ট মিটার প্রতিরোধ কমিটি’ গড়ে তোলা হবে। রাস্তায় নেমে লাগাতার আন্দোলন চলবে।

–

–
–
–
–
–
