বুধবার দুপুরে তারাতলার নির্মীয়মান গোডাউনের ছাদ ভেঙে পড়ার ঘটনায় প্রাথমিকভাবে ত্রুটিপূর্ণ প্ল্যানকেই দায়ী করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। তিনি নবান্নে জানান, যে জমিতে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে সেটি বেহরা ব্রাদার্সের পার্টনার লিজ নিয়েছিলেন। সব খতিয়ে দেখা হবে। যেহেতু বিধানসভা অধিবেশন চলছে তাই বৃহস্পতিবার সকালে বিস্তারিত বিবৃতি এবং আর্থিক সহায়তা সংক্রান্ত ঘোষণা করবেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি পূর্বতন সরকারের অনুমদিত বিল্ডিং প্ল্যানের কাজ আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর। জরুরি পরিষেবা এর আওতায় পড়বে না। নির্মীয়মাণ ইমারতগুলির স্বাস্থ্যপরীক্ষা করা হবে। ছাড়পত্র মিললে তবেই ফের শুরু হবে কাজ। এদিনের গোডাউন দুর্ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টও করেন শুভেন্দু অধিকারী।


এদিন বিকেলে তারাতলার হাইড রোডের গোডাউন দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ২১ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখনও ১৬-১৮ জন ভেতরে আটকে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সন্ধ্যায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন মুখ্যসচিব। দুর্ঘটনার সময়ে ওই বিশাল গুদামের ভেতরে অন্তত ৪০ থেকে ৫০ জন শ্রমিক কর্মরত ছিলেন। উদ্ধার হওয়া সবাইকে গ্রিন করিডোর করে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ব্যাটারি কারখানার দুর্ঘটনায় উদ্ধারকারী টিমের প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী। জানান, সিভিল ডিফেন্স, কলকাতা পুলিশ, দমকল, সেনাবাহিনী ও এনডিআরএফের যৌথ তৎপরতায় বড় বিপর্যয় এড়ানো গিয়েছে। তাঁর দাবি, ধ্বংসস্তূপে এখনও কয়েকজন আটকে থাকতে পারেন, তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগও স্থাপন করা হয়েছে। স্বাস্থ্য দফতরের প্রতিমন্ত্রী ও দফতরের শীর্ষ আধিকারিকরা সেখানে নজরদারি করছেন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সিওএমওই-এর অধীনে ২০টি অ্যাম্বুল্যান্স এবং কলকাতা পুলিশের গ্রিন চ্যানেলের মাধ্যমে আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান। তিনি আরও বলেন, বিকেল সাড়ে ৩টে নাগাদ মুখ্যসচিবের সঙ্গে আলোচনার পরই সেনা ডাকা হয়। তাঁর কথায়, “এক ঘণ্টার মধ্যেই” উদ্ধারকাজে নামে সেনা ও এনডিআরএফ। নবান্ন থেকে সোজা SSKM হাসপাতালে আহতদের দেখতে যান শুভেন্দু। শেষ খবর পাওয়া অনুযায়ী ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত ২৬। সন্ধ্যাতেও চলছে উদ্ধারকাজ। মৃতদের মধ্যে দুজনের নাম জানা গেছে, রোহিত চৌধুরী ও কৃষ্ণা চৌধুরী। বাকি দুজনের পরিচয় জানা যায়নি।

–

–

–

–

–

–
