তারাতলার নির্মীয়মাণ গুদামে ঠিক কতজন শ্রমিক সেই সময়ে কাজ করছিলেন, সঠিক কোনও হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না। ওই গুদামে কোনও শ্রমিকের উপস্থিতির হিসাব রাখা হত না। কোনও রেজিস্টার ছিল না। তাই ২৪ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও ঠিক কতজন ধ্বংসস্তূপের ভিতরে আটকে আছেন, তার সঠিক হিসাব নেই তবে উদ্ধারকাজ চলছে, এমনটাই সাংবাদিক বৈঠক করে জানালেন কলকাতার অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) কুণাল আগরওয়াল।

এদিন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার জানান, গোটা ঘটনার তদন্তে কলকাতা পুলিশ বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করেছে। এই দলে রয়েছেন গোয়েন্দা বিভাগের এক সহকারী পুলিশ কমিশনার, হোমিসাইড শাখার ওসি-সহ গোয়েন্দা বিভাগের চারজন আধিকারিক এবং তারাতলা থানার দুই সাব-ইন্সপেক্টর। তদন্ত প্রক্রিয়ার তদারকি করছেন গোয়েন্দা বিভাগের ডেপুটি কমিশনার। বুধবার মধ্যরাতে তারাতলা এলাকার একটি আবাসন থেকে শম্ভুনাথ বেহরাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা রুজু করেছে। মোট পাঁচ জনের নাম ছিল এফআইআর-এ। বৃহস্পতিবার সকালে তাঁদের মধ্যে প্রধান ঠিকাদার আসগর হুসেনের দেহ ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে । বাকি এফআইআর-এ নাম থাকা চারজনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। মোট ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহতের সংখ্যা ১৯ জন। তাঁরা এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এখনও উদ্ধারকাজ শেষ হয়নি। জানা গিয়েছে, শম্ভুনাথের স্ত্রীও সংস্থার অন্যতম অংশীদার।

ধৃত গুলজ়ার এবং মৃত ঠিকাদার আসগরের বিরুদ্ধে আগেও একাধিক অপরাধের অভিযোগ ছিল। একবালপুরের একটি মারপিটের ঘটনায় নাম ছিল গুলজ়ারের। আসগরের বিরুদ্ধে দু’টি মামলা ছিল, ২০১৩ সালে একটি দক্ষিণ বন্দর থানার মামলা। অন্যটি একবালপুর থানায় অপহরণের মামলা। তবে তারাতলাকাণ্ডে একাধিক উদ্ধারকারী দল এখনও কাজ করছে। জেরা করা যায় এমন ব্যক্তিদের একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। যাদের জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে, তাঁদের সঙ্গেও কথা বলা হবে। তাঁদের ফোন খতিয়ে দেখা হবে। কলকাতা পুরসভার থেকে তারাতলার ঘটনায় কিছু তথ্য এবং নথি চেয়েছে লালবাজার। পুর আধিকারিকদের ভূমিকাও দেখা হবে।

আরও পড়ুন – আর জি কর মামলায় CBI-কে ভর্ৎসনা হাই কোর্টের, কী দাবি পরিবারের

_

_

_

_
_
_
_
