পুণের বিশিষ্ট ব্যবসায়ীর ছেলে কেতন আগারওয়াল (Ketan Agarwal Murder Case) খুনে মূল চক্রী কে, তাই নিয়ে ধন্ধে পুলিশ। সিয়া গয়াল ও তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধুরীর বয়ানে অসঙ্গতি ধরা পড়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। ২৩ জুন গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই পুলিশি হেফাজতে আছেন তাঁরা। তবে দুই অভিযুক্ত এখন একে অপরের উপর খুনের দায় চাপিয়ে নিজেদের নির্দোষ প্রমাণের চেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে পুলিশের দাবি, সিয়া ও চেতন—দু’জন মিলেই ধাক্কা দিয়ে কেতনকে পাহাড়ের খাদে ফেলে খুন করেছেন।

গত ১৮ জুন পুণের কাছে লোনাওয়ালার লোহাগড় দুর্গে হবু বৌ সিয়ার সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে নিখোঁজ হন কেতন। পরে তাঁর দেহ খাদ থেকে উদ্ধার হয়। প্রাথমিক তদন্তে একে দুর্ঘটনা মনে করা হলেও, পরিবারের সন্দেহের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ কেতনের বাগ্দত্তা সিয়া এবং তাঁর প্রেমিক চেতনকে গ্রেফতার করে। আরও পড়ুন: আর জি কর মামলায় CBI-কে ভর্ৎসনা হাই কোর্টের, কী দাবি পরিবারের

প্রেমিক চেতনের দাবি, তিনি সিয়াকে ভালোবাসতেন এবং তাঁর সঙ্গে ঘর ছাড়তে চেয়েছিলেন। কেতনকে খুনের কোনো পরিকল্পনা তাঁর ছিল না। সিয়াই তাঁকে খুনের জন্য জোরাজুরি করেছিলেন। অন্যদিকে সিয়া জানিয়েছে কেতন খুনের মূল মাস্টারমাইন্ড হলেন চেতন। সিয়ার দাবি, এর আগে গত ১৪ জুন কেতনকে খুনের একটি পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ায় চেতন নাকি সিয়ার সামনে কান্নাকাটি করেছিলেন। তদন্তকারী আধিকারিকদের মতে, এটি আসলে নিজেদের বাঁচানোর একটি কৌশল। দু’জনেই সমানভাবে এই ষড়যন্ত্রে সামিল ছিলেন এবং তার একাধিক প্রমাণ পুলিশের হাতে রয়েছে।

পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। গত তিন বছর ধরে চেতনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল সিয়ার। তা সত্ত্বেও গত ১৯ ফেব্রুয়ারি কেতনের সঙ্গে তাঁর বাগ্দান সম্পন্ন হয়। দুই পরিবারে যখন বিয়ের প্রস্তুতি চলছিল, ঠিক তখনই কেতনকে সরিয়ে দেওয়ার ছক কষা হয়। অভিযোগ, গত কয়েক মাসে পর পর তিন বার কেতনকে খুনের চেষ্টা করেছিলেন এই যুগল, যার মধ্যে শেষ বার (১৮ জুন) তাঁরা সফল হন। এমনকি গত ৩১ মে থেকে ৪ জুনের মধ্যে পুণের একটি ক্যাফেতে সিয়া ও চেতন গোপনে দেখাও করেছিলেন। সেই বৈঠকটি এই খুনের ষড়যন্ত্রেরই অংশ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

–

–

–

–
