অভিষেকের (Abhisek Banarjee)এক আইনি উপদেষ্টা( Legal Advisor)। যিনি একসময় ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে বসতেন। অভিষেক বসতেন সাত তলায়। আর তাঁর এলাহি চেম্বার ছিল আট তলায়। ওই চেম্বারে বসে তিনি যত না আইনের কাজ করতেন, তার চেয়ে বেশি অভিষকেকে চালানোর চেষ্টা করতেন, নত্ত্বসত্ত্ব জ্ঞানহীন ভুলভাল পরামর্শ দিতেন।

অভিষেক(Abhisek Banarjee) তাঁকে বিশ্বাস করতেন। এতটাই বিশ্বাস করতেন যে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ থেকে শুরু করে দলের অভ্যন্তরে বিভিন্ন বিষয়ে একসময়ে তাঁর উপদেষ্টার ভূমিকা নিয়ে ফেলেছিলেন তিনি। আজ অভিষেক যখন সমালোচিত এবং বিতর্কিত হচ্ছেন, তখন সেই ব্যক্তি নিজেকে বাঁচাতে বিক্ষুব্ধ সাজছেন। বিক্ষুব্ধ নেতাদের সঙ্গে নিজের ছবি দিচ্ছেন। আবার কখনও নিজের কোম্পানির নামে আইনি নোটিশ দিয়ে বলছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্ক নেই।

অভিষেকের এই আইনি উপদেষ্টার কর্মপরিধি নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানাবিধ প্রশ্ন। রাজ্য সরকারের থেকে এই ব্যক্তি ও তার সংস্থা বিপুল কাজ নিয়েছে ও বিরাট বিল করেছে। আইনজীবীদের পোস্টিং-রদবদল সামলাতেন। এর বাইরেও একাধিক শিল্পপতির সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল। এইসব শিল্পপতিদের স্ক্যুইজ করে টাকা আদায় করার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। এখন সে সব ঘটনার কথা দ্বিধাহীন ভঙ্গিতে বলে দিচ্ছেন শিল্পপতিরা।

লাগামছাড়া ‘তোলাবাজি’র কারণে সেই উপদেষ্টার বাড়িতে তদন্তকারীরাও গিয়েছিল। একটি চিটফান্ডের তদন্তে এক প্রতারকের সূত্র ধরে তার বাড়িতে গিয়েছিল তদন্তকারীরা। অভিযোগ তার বাড়িতে নাকি সেই প্রতারকের টাকাও পাওয়া গিয়েছিল। শিল্পমহল ও রাজনৈতিক মহলের খবর, তখন থেকেই তিনি বিজেপির পায়ে পড়ে যান। সেই কারণে তদন্ত খানিক সময় ধরে বন্ধ আছে। এখন সবটাই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘাড়ে চাপিয়ে বাঁচতে চাইছেন। যদিও অভিষেক তাঁকে একসময় চোখ বুজে এতটাই ভরসা করতেন যে আইনের বাইরেও বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর মতামত অনুযায়ী চলতেন। মাননীয় সেই উপদেষ্টা এখন চাচা আপন প্রাণ বাঁচা-র জন্য বিজেপি নেতা আর বিক্ষুব্ধদের ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করছেন। এর চরিত্র কেমন বুঝুন! তিনিই অভিষেককে বদবুদ্ধি দিয়ে অপ্রিয় করেছেন। এখন উলটো শিবিরে গিয়ে সেই এক চেষ্টাই শুরু করছেন। সেই সঙ্গে নানা ছবি ছাপিয়ে বিজেপি-ঘনিষ্ঠতা দেখাতে মরিয়া।

এই উপদেষ্টাটি নামেই আইনজীবী( Legal Advisor)। আজ অভিষেকের(Abhisek Banarjee) থেকে নিজেকে আলাদা দেখানোর চেষ্টা করছেন। অথচ তিনিই অভিষেকের সৌজন্যে একসময় ক্ষমতাসীন জগতে চলাফেরা করতেন। ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের দৌলতে এবং সুপারিশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্য সরকারের বহু মামলা তাকে দিয়ে করাতেন। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর বিদেশ সফরে তার ঘনিষ্ঠতম শিল্পপতিকেও দেখা গিয়েছিল।এক সময় তার বাড়িতে যখন এজেন্সির তল্লাশি চলছিল, তখন ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিচিত’ তাস খেলে তল্লাশি থেকে প্রাণে বাঁচেন। নেত্রীকে সম্মান জানিয়ে তদন্তকারীরা বেরিয়েও আসেন। আইনজীবী মহলে অভিযোগ, রাজ্য সরকারের মামলায় তিনি অতিরিক্ত বিল করতেন এমনকী ভুয়ো বিলও দাখিল করতেন। কী করে রাতারাতি তার ভুঁইফোড় সংস্থা দিল্লি, মুম্বই, চেন্নাই সহ দেশের বিভিন্ন শহরে বিলাসবহুল অফিস তৈরি করল, সে নিয়ে তদন্তের দাবি উঠেছে।

সরকারি মহল এখন স্পষ্ট জানাচ্ছে, শুভেন্দুর বিরুদ্ধে সব বদ মামলার পরামর্শ এই ব্যক্তিই দিতেন। শুভেন্দুকে কীভাবে ঝামেলায় ফেলা যায়, সে বিষয়ে নানা কূটকাচালির কাজ সে নিজেই ভাবত এবং পুলিশ অফিসারদের ফোন করে করে তা করতে বাধ্য করত। এসব ঘটনা এখন পুলিশ অফিসাররাও বলে দিতে শুরু করেছেন। তারা বলছেন, শুভেন্দুর বিরুদ্ধে বদ মামলাগুলি সবই উপদেষ্টার মস্তিষ্কপ্রসূত। অভিষেক চাননি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও চাইতেন না। কিন্তু দুজনের কাছে হিরো হওয়ার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে শুভেন্দুকে খুঁচিয়েছেন, বিরক্ত করেছেন। এখন বেহাল অবস্থা বুঝে নিজেকে বাঁচাতে কোম্পানির ব্যানারে নানা নোটিশ দিচ্ছেন। উপদেষ্টার বাঁচতে চাওয়ার মরিয়া চেষ্টা নিয়ে দুরকমের কথা শোনা যাচ্ছে। একটি শিবির বলছে, তিনি নিজেই বাঁচতে নেমেছেন। অন্য শিবির বলছে, তিনি অভিষেককে বলেই নিজেকে বাঁচাতে নেমেছেন।

কিন্তু যত সময় যাচ্ছে, খুলে যাচ্ছে মুখোশ। আগামিদিনে বেশ কিছু তথ্য প্রমাণ হাতে আসতে চলেছে বিশ্ববাংলা সংবাদের হাতে। সেগুলো সব ছবি দিয়ে যথাসময়ে প্রকাশিত হবে।

–
–
–
–
–
