একুশে জুলাইয়ের আগে তৃণমূলে নব উন্মাদনা। কর্মীদের মধ্যে প্রবল উৎসাহ। যারা চলে গিয়েছে, তাদের তোয়াক্কা না করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ফের লড়াইয়ের ময়দানে এককাট্টা তৃণমূল কর্মীরা। নেতারা চলে গেলেও কর্মীদের উৎসাহে যে তার কোনও প্রভাব পড়েনি শনিবার সেই ছবিই দেখা গেল হুগলির কর্মিসভায়। একুশের প্রস্তুতিতে কর্মীদের উৎসাহ-উন্মাদনায় নজির তৈরি করল হুগলি। আর এই সভা থেকে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে বিধায়ক অসীমা পাত্র, জেলা সভাপতি অসিত মজুমদাররা গর্জে উঠলেন ধান্দাবাজদের বিরুদ্ধে। যারা গ্রেফতারির হাত থেকে বাঁচতে বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়েছে বা বিদ্রোহী হয়ে উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে একহাত নিলেন কল্যাণরা। আওয়াজ তুললেন বিজেপির বিরুদ্ধেও।


এদিনের কর্মিসভা থেকে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, শুধু কালিকে ধরলে হবে না। সঙ্গে কলম-দোয়াত সকলকেই ধরতে হবে। যারা তোলা তুলেছেন, চুরি করেছেন তাদের কেউ যেন রেয়াত না পায়। সবাইকে ধরতে হবে। এ ব্যাপারে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সহমত। শনিবার হুগলি জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি অসিত মজুমদারের ডাকে একুশে জুলাইয়ের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ভরা কর্মিসভায় কল্যাণের সাফ কথা, প্রচুর তোলা তুলেছে! ২০০৯ ভাঙাচোরা ঘর ছিল। এখন বিরাট বড় প্রাসাদ হয়ে গিয়েছে। নেতা-বিধায়কদের সঙ্গে যারা থাকত, তারা প্রচুর টাকা কামিয়ে এখন বলছে আর তৃণমূল করি না। তাদের সবাইকে ধরতে হবে। প্রাক্তন মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী থেকে শুরু চন্ডীতলার বিধায়ক স্বাতী খন্দকার, চাঁপদানির প্রাক্তন বিধায়ক অরিন্দম গুঁই এবং তার ছায়াসঙ্গী সন্তোষ সিং ওরফে পাপ্পু, সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ ধান্দাবাজদের বিরুদ্ধেও গর্জে ওঠেন।

মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে কল্যাণের স্পষ্ট কথা, আপনি যে বলেছেন যারা যারা চুরি করেছে, তোলা তুলেছে, তাদের গ্রেফতার করবেন, এতে আমার সমর্থন আছে। ঋতব্রতর বি ব্লকে যারা সব চোরগুলো জড়ো হয়েছে, আগে তাদের দেখুন। বিজেপি এখন ওদের নেবে না। সেজন্য বিজেপিই বি ব্লক তৈরি করেছে। আর দিল্লিতে হয়েছে এনডিএ বি ব্লক। বাঁচার জন্য এসব করা হয়েছে। চিন্তা করবেন না, ওদের সঙ্গে মানুষ নেই। তাই একটাও কর্মী মিটিং করতে পারেনি। এদিনের কর্মিসভাই বলছে বাংলার পূর্ণ সমর্থন অটুট রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি। যতই হুগলির ডেভেলপমেন্টের জন্য বি ব্লকে নাম লেখান, মানুষ ঠিক জবাব দেবে। রচনাকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, আপনি তো হুগলির মানচিত্রই জানেন না। এখন তো ফেস ভ্যালুও চলে গিয়েছে। দিদি নম্বর ওয়ান নেই। আপনার প্রতি উৎসাহও নেই। দিদি নম্বর ওয়ান তাড়িয়ে দিয়েছে বলে বলছেন আপনার সঙ্গে ঠিক করা হয়নি। আপনিও দলের সঙ্গে ঠিক করেননি, সেটা এবার বুঝতে শিখুন।

আরও পড়ুন- শোয়েবের দাদার শেষকৃত্যে পহেলগাম-হানার অভিযুক্তরা! তুঙ্গে বিতর্ক

_

_

_

_
_
_
_
