একইদিনে শাসক-বিরোধী তিন মিছিল। শাসক, বিরোধী সব রাজনৈতিকদলই বিভিন্ন কর্মসূচিতে পথে নামছে। এনআরসি-র বিরোধিতায় সরব তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার রাজপথে নামছেন তিনি। এর আগেও বহু দাবি, প্রতিবাদ, বিক্ষোভে পথে নেমেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হেঁটেছেন, আক্রান্ত হয়েছেন, রক্তাক্ত হয়েছেন। তবে, এবারের মিছিলের বিশেষত্ব তার রুটম্যাপে। এর আগে নির্বাচনী প্রচার ছাড়া বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তৃণমূল নেত্রীর মিছিল হয়েছে দক্ষিণ কলকাতা অথবা মধ্য কলকাতায়। এমনকী, শ্যামবাজার মোড়েও গিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন মিছিল। কিন্তু এবার পাঁচমাথা পেরিয়েও আরও উত্তরে পা। এবারের মিছিল সিঁথির মোড় থেকে শ্যামবাজার পর্যন্ত। মিছিল ঘিরে সাজো সাজো রব তৃণমূলের অন্দরে। ইতিমধ্যেই মিছিল সফল করতে দলীয় নেতা, কর্মীদের চিঠি দিয়েছেন কলকাতা উত্তরের সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মতে, উত্তর কলকাতার একদিকে সীমাবদ্ধ হলেও এই মিছিল থেরে বার্তা রাজ্যের সব প্রান্তে ছড়িয়ে দিতে চান তাঁরা। পদযাত্রা ঘিরে সর্তক প্রশাসনও। বিশেষ পুলিশি ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার মিছিল রয়েছে প্রদেশ কংগ্রেসেরও। কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র ও কংগ্রেস নেতা প্রদীপ ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে কেন্দ্র ও রাজ্যের বিভিন্ন নীতির বিরুদ্ধে ধর্মতলা চলো অভিযানের আয়োজন করা হয়েছে। কলকাতার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মিছিল থেকে এসে রানি রাসমণি রোডে জমায়েত হবে। একই দিনে মহানগরীর বুকে দুটি শাসক-বিরোধী মিছিল ঘিরে সতর্ক প্রশাসন। পর্যাপ্ত পুলিশি ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে লালবাজার সূত্রে খবর। একইসঙ্গে যান নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যেসব রাস্তায় দিয়ে মিছিল এগোবে, সেইসব রাস্তায় গাড়ি অন্যপথে ঘুরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন লালবাজারের ট্রাফিক কন্ট্রোলের কর্তারা।
শুধু শাসকদল বা বিরোধী কংগ্রেসই নয়, পিছিয়ে নেই রাজ্য রাজনীতিতে কোণঠাসা বা অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়া বামেরাও। এখনও, যে তাদের অস্তিত্ব রয়েছে, তার প্রমাণ দিতে যুব এবং ছাত্র বাম সংগঠনগুলির ডাকে এদিনই সিঙ্গুর থেকে নবান্ন পর্যন্ত পদযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে। শিক্ষা, শিল্প, কর্মসংস্থান ও বেকারভাতার দাবিতে বৃহস্পতিবার সকালে সিঙ্গুর থেকে মিছিল শুরু হবে। দীর্ঘপথ পেরিয়ে শুক্রবার সকাল 11 টা নাগাদ মিছিল পৌঁছোবে নবান্নে। মিছিলের ত্রাহ্য স্পর্শে যানজটের আশঙ্কায় পথচারীরা।
