Thursday, June 25, 2026

সংস্কৃত পণ্ডিত ফিরোজের পাশে পরেশ — তাহলে রফির ভজন গাওয়া উচিত হয়নি!

Date:

Share post:

ফিরোজ খানকে নিয়ে উত্তাল দেশের শিক্ষা মহল। ফিরোজের একটাই দোষ তিনি মুসলিম, কিন্তু সংস্কৃতে বিষেশজ্ঞ এবং বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপনা করছেন। তাই পড়ুয়াদের একাংশ তাঁর কাছে সংস্কৃত পড়বেন না বলে বায়না তুলেছেন। এই ধরণের নোংরা জাতি-ধর্ম-বর্ণ দোষে দুষ্ট ঘটনায় বলিউড অভিনেতা পরেশ রাওয়াল শুধু ফিরোজের পাশে দাঁড়াননি, উদাহরণ টেনে বলেছেন তাহলে নওশাদজির ভজন লেখা বা রফি সাহেবের ভজন গাওয়া উচিত হয়নি!

ফিরোজ দুর্দান্ত ছাত্র ছিলেন। ভাল নম্বর নিয়ে শাস্ত্রী (স্নাতক), আচার্য (স্নাতকোত্তর) শিক্ষাশাস্ত্রী (বিএড) পাস এবং ২০১৮ সালে পিএইচডি শেষ করেন। সংস্কৃত নিয়ে যে ক’জন মানুষের সঙ্গে কথা বলতে পারেন তার অন্যতম ফিরোজ। ফরোজের বাবাও সংস্কৃতে স্নাতক। রীতিমতো পরীক্ষা দিয়ে যোগ্যতা প্রমাণ করে সবচেয়ে বেশি নম্বর পেয়ে বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় তিনি অধ্যাপনার চাকরি পান। আর তার পরেই শুরু হয় ঘটনার ঘনঘটা। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন ফিরোজ খানই এই পদে সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তি ছিল। ইউজিসির সিলেকশন কমিটি সমস্ত নিয়ম মেনে তাকে নিয়োগ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে সমস্ত ধর্ম, জাতি, সম্প্রদায়, লিঙ্গকে সমান অধিকার দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কিন্তু তারপরেও বিক্ষোভ চলতে থাকে। ফলে পড়াতে যেতে পারছেন না ফিরোজ। তার মোবাইল বন্ধ। কথা বলছেন না কারওর সঙ্গে। এ প্রসঙ্গে পরেশ রাওয়াল তার টুইটারে একহাত নিয়েছেন নেটিজেনদের। বলেছেন অধ্যাপক ফিরোজ খানের বিরুদ্ধে বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় যা চলছে তা দেখে আমি স্তম্ভিত। ধর্মের সঙ্গে ভাষার কী সম্পর্ক! আশ্চর্যের বিষয় হলো সংস্কৃত ভাষায় স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি করেছে ফিরোজ। তারপর এই প্রশ্ন আসে কোথা থেকে? অবিলম্বে তার বিরুদ্ধে এই প্রতিবাদ-বিক্ষোভ বন্ধ হোক। ভারতের মতো দেশে এ জিনিস শোভনীয় নয়।

দীর্ঘদিন চুপ থাকার পর একটি সর্বভারতীয় দৈনিকে মুখ খুলেছেন। বলেছেন, বহু বছর ধরে সংস্কৃতি চর্চা করছি। যখন দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ি তখন সংস্কৃত শিখতে শুরু করেছিলাম। কখনও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়নি। আমার এলাকায় বহু মুসলিম মানুষ বাস করেন। কেউ কখনও বলেননি কেন আমি সংস্কৃত পড়ছি। কোনও মুসলিম এসে এসে আমাকে মনে করিয়ে দেননি যে আমি মুসলিম। আমি যতটা সংস্কৃত জানি ততটা কোরআনও জানি। এলাকার বিশিষ্ট হিন্দুরা সংস্কৃত এবং সাহিত্যে আমার পড়াশোনার কারণে প্রশংসা করেন। আর এখন যখন পড়ুয়াদের শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করছি তখন আমার ধর্মটাকে বড় করে দেখা হচ্ছে।

তবু হেরে যাওয়ার প্রাত্র নন ফিরোজ। দৃঢ কণ্ঠে বলেছেন, আমি নিশ্চিত, ভাল পড়াতে পারলে ওদের মনের বাধা দূর হয়ে যাবে। এত তাড়াতাড়ি আমি হেরে যাব না।

আরও পড়ুন-করিমপুর উপনির্বাচনের প্রচারে তৃণমূলকে জোর টক্কর দিচ্ছে বিজেপি

 

Related articles

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার ‘সর্বজনীন’ নয়! বিধানসভায় স্পষ্ট স্বীকারোক্তি অর্থমন্ত্রীর

রাজ্য বিধানসভায় বাজেটের জবাবি ভাষণে এক তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, নতুন অন্নপূর্ণা...

মূল ষড়যন্ত্রকারী কে? কেতন খুনে ধন্দে পুলিশ

পুণের বিশিষ্ট ব্যবসায়ীর ছেলে কেতন আগারওয়াল (Ketan Agarwal Murder Case) খুনে মূল চক্রী কে, তাই নিয়ে ধন্ধে পুলিশ।...

ঋণমুক্তির কোনো রোডম্যাপ নেই বাজেটে! তোপ শোভনদেবের

রাজ্যের ঋণের বোঝা কমানোর কোনো সুস্পষ্ট রূপরেখা নেই বাজেটে। উল্টে বিরোধী আসনে থাকার সময় যে সব সামাজিক প্রকল্পের...

তারাতলার বিপর্যয়ে দোষী হলে প্রাক্তন মেয়রও গ্রেফতার হোন: দাবি তৃণমূল বিধায়কের

তারাতলার বিপর্যয় নিয়ে বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (CM Suvendu Adhikari) দোষীদের গ্রেফতারের প্রস্তাবকে সমর্থন করলেন তৃণমূল (TMC) বিধায়ক...