Tuesday, March 17, 2026

সিএবি পাশ হলে নথিপত্র না থাকলেও সমস্যা নেই হিন্দুদের, বোঝাচ্ছে বিজেপি

Date:

Share post:

নথিপত্র থাকুক বা না থাকুক, ভারতে থাকতে কোনও হিন্দুরই কোনও সমস্যা নেই। কারণ কোনও হিন্দুকেই ‘অনুপ্রবেশকারী’ মনে করবে না বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার। সমস্যা হবে না অমুসলিম অন্য সম্প্রদায়গুলিরও। নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল বা সিএবি পাশ করানোর আগে নিজেদের হিন্দু ভোটব্যাঙ্ককে এভাবেই আশ্বস্ত করতে চাইছে বিজেপি। নতুন এই ‘সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট বিল’ বা সিএবিতে নাগরিকত্ব দেওয়ার ভিত্তিবর্ষ ধরা হয়েছে ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৪। অর্থাৎ এই সময়ের আগে যেসব হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন, শিখ, পার্সি ও খ্রিস্টান ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তানের মত তিন মুসলিমপ্রধান দেশ থেকে শরণার্থী হয়ে এদেশে এসেছেন তাঁরা সবাই নাগরিকত্ব পাবেন। এক্ষেত্রে মুসলিমদের প্রশ্নটি অনুচ্চারিত আছে। এক্ষেত্রে বিজেপির ব্যাখ্যা, পার্শ্ববর্তী তিনটি মুসলিম দেশ থেকে মুসলিমরাও ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে ভারতে এসে আশ্রয় চাইবেন এই ধারণা অমূলক। তাই বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান থেকে আসা মুসলিমরা নাগরিকত্ব পাবেন না।

নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল সংসদের দুই কক্ষে (লোকসভা ও রাজ্যসভা) পাশ হয়ে যাওয়ার পর রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষর করলেই আইনে পরিণত হবে। তখন তা ব্যবহার করেই অসম এনআরসিতে বাদ যাওয়া ১২ লক্ষ হিন্দুকে নাগরিকত্ব দেওয়া সহজ হবে। বিজেপির বক্তব্য, সিএবি পাশ হওয়ার পর গোটা দেশে এনআরসি লাগু হলে কোনও হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন, শিখ, পার্সি ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী মানুষেরই আর অনুপ্রবেশকারী হিসাবে চিহ্নিত হওয়ার ভয় থাকবে না। নতুন নাগরিকত্ব আইনের সাহায্যেই তখন শরণার্থী হিসাবে তাঁরা ভারতের নাগরিকত্ব পাবেন। এজন্য ১৯৫৫ সালের আইনের কিছু শর্তও শিথিল করা হয়েছে সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট বিলে।

কিন্তু সংবিধান অনুযায়ী ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ ঘোষিত ভারতে এভাবে ধর্মীয় পরিচিতির ভিত্তিতে আইন করা কি সঙ্গত? এর জবাব দিতে গিয়ে বিজেপি নেতাদের যুক্তি, ভারতে হিন্দুরা যে সংখ্যাগরিষ্ঠ সেই বাস্তবকে অস্বীকার করা যাবে না। বিশ্বে মুসলিম, খ্রিস্টান এমনকী বৌদ্ধ রাষ্ট্রও অনেক আছে। কিন্তু হিন্দুরা ধর্মের কারণে অন্য দেশে বিপন্নতার মুখে পড়লে তাদের ভারত আশ্রয় দেবে না তো কে দেবে? বরং যেসব অনুপ্রবেশকারীর জন্য এদেশের বৈধ নাগরিকদের অধিকার সংকুচিত হচ্ছে তাদের চিহ্নিত করা হোক। ভারতীয় মুসলিমদের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। তাঁরা তো এদেশেরই নাগরিক!

spot_img

Related articles

ট্রান্সজেন্ডার সংশোধনী বিল নিয়ে উদ্বেগ, NALSA রায়ের পক্ষে সরব যুব সমাজ

ট্রান্সজেন্ডার সম্প্রদায়ের (Transgender Rights) সদস্য ও বিভিন্ন নাগরিক সমাজ সংগঠন ট্রান্সজেন্ডার পার্সনস (প্রোটেকশন অফ রাইটস) অ্যাক্ট, ২০১৯–এর প্রস্তাবিত...

পিছিয়ে গেল মিনি ডার্বি, মোহনবাগানে ফের চোটের উদ্বেগ

ঈদের কারণে পিছিয়ে দেওয়া হল আইএসএলের(ISL) মিনি ডার্বি। ইস্টবেঙ্গল(East Bengal )বনাম মহামেডান(Mohamedan ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৩ মার্চ।...

তৃণমূলের তালিকায় সাংবাদিকতা জগতের ২ প্রার্থী কুণাল ও দেবদীপ

অনেক কঠিন সময়ে ক্ষুরধার যুক্তি দিয়ে দলের হয়ে লড়েন। নানা ঘাত-প্রতিঘাত সত্ত্বেও ছাড়েননি মমতা-অভিষেকের হাত। রাজ্যসভার সাংসদের পর...

গ্রেফতার করেও কেন্দ্রের সরকারের স্বৈরাচারী বাধা! জেলের কাহিনী শোনালেন সোনম

দেশের শান্তি নষ্ট করার চেষ্টা। বিদেশি এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ। লাদাখকে অশান্ত করার চেষ্টা। এরকম হাজারো মামলা তাঁর বিরুদ্ধে...