Wednesday, April 29, 2026

সিএবি পাশ হলে নথিপত্র না থাকলেও সমস্যা নেই হিন্দুদের, বোঝাচ্ছে বিজেপি

Date:

Share post:

নথিপত্র থাকুক বা না থাকুক, ভারতে থাকতে কোনও হিন্দুরই কোনও সমস্যা নেই। কারণ কোনও হিন্দুকেই ‘অনুপ্রবেশকারী’ মনে করবে না বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার। সমস্যা হবে না অমুসলিম অন্য সম্প্রদায়গুলিরও। নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল বা সিএবি পাশ করানোর আগে নিজেদের হিন্দু ভোটব্যাঙ্ককে এভাবেই আশ্বস্ত করতে চাইছে বিজেপি। নতুন এই ‘সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট বিল’ বা সিএবিতে নাগরিকত্ব দেওয়ার ভিত্তিবর্ষ ধরা হয়েছে ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৪। অর্থাৎ এই সময়ের আগে যেসব হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন, শিখ, পার্সি ও খ্রিস্টান ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তানের মত তিন মুসলিমপ্রধান দেশ থেকে শরণার্থী হয়ে এদেশে এসেছেন তাঁরা সবাই নাগরিকত্ব পাবেন। এক্ষেত্রে মুসলিমদের প্রশ্নটি অনুচ্চারিত আছে। এক্ষেত্রে বিজেপির ব্যাখ্যা, পার্শ্ববর্তী তিনটি মুসলিম দেশ থেকে মুসলিমরাও ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে ভারতে এসে আশ্রয় চাইবেন এই ধারণা অমূলক। তাই বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান থেকে আসা মুসলিমরা নাগরিকত্ব পাবেন না।

নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল সংসদের দুই কক্ষে (লোকসভা ও রাজ্যসভা) পাশ হয়ে যাওয়ার পর রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষর করলেই আইনে পরিণত হবে। তখন তা ব্যবহার করেই অসম এনআরসিতে বাদ যাওয়া ১২ লক্ষ হিন্দুকে নাগরিকত্ব দেওয়া সহজ হবে। বিজেপির বক্তব্য, সিএবি পাশ হওয়ার পর গোটা দেশে এনআরসি লাগু হলে কোনও হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন, শিখ, পার্সি ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী মানুষেরই আর অনুপ্রবেশকারী হিসাবে চিহ্নিত হওয়ার ভয় থাকবে না। নতুন নাগরিকত্ব আইনের সাহায্যেই তখন শরণার্থী হিসাবে তাঁরা ভারতের নাগরিকত্ব পাবেন। এজন্য ১৯৫৫ সালের আইনের কিছু শর্তও শিথিল করা হয়েছে সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট বিলে।

কিন্তু সংবিধান অনুযায়ী ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ ঘোষিত ভারতে এভাবে ধর্মীয় পরিচিতির ভিত্তিতে আইন করা কি সঙ্গত? এর জবাব দিতে গিয়ে বিজেপি নেতাদের যুক্তি, ভারতে হিন্দুরা যে সংখ্যাগরিষ্ঠ সেই বাস্তবকে অস্বীকার করা যাবে না। বিশ্বে মুসলিম, খ্রিস্টান এমনকী বৌদ্ধ রাষ্ট্রও অনেক আছে। কিন্তু হিন্দুরা ধর্মের কারণে অন্য দেশে বিপন্নতার মুখে পড়লে তাদের ভারত আশ্রয় দেবে না তো কে দেবে? বরং যেসব অনুপ্রবেশকারীর জন্য এদেশের বৈধ নাগরিকদের অধিকার সংকুচিত হচ্ছে তাদের চিহ্নিত করা হোক। ভারতীয় মুসলিমদের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। তাঁরা তো এদেশেরই নাগরিক!

Related articles

ভোট পরিদর্শনে চেতলার পর চক্রবেড়িয়া, পর্যবেক্ষকদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ মমতার

দ্বিতীয় দফার ভোটের ভরকেন্দ্র ভবানীপুর। নিজের কেন্দ্রে সকাল থেকেই বুথ পরিদর্শনে বেরিয়ে পড়েছেন তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banarjee)।...

কমিশনের ‘অতি সক্রিয়তা’ সত্ত্বেও দিকে দিকে EVM বিভ্রাট! ভোগান্তিতে ভোটাররা 

বাংলায় সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করতে আশ্বাস দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন(Election Commission)। কিন্তু দ্বিতীয় দফা ভোট গ্রহণ শুরু হতেই...

দ্বিতীয় দফাতেই বিজেপির দফারফা! ফলপ্রকাশে ৫০-এর নিচে নামবে আসন সংখ্যা, আত্মবিশ্বাসী অভিষেক

বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় মিত্র ইনস্টিটিউশনে ভোট দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়(Abhisek Banarjee)। ভোটকেন্দ্র থেকে বেরিয়েই...

ভোটের পরে দুমাস রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী: হারের আশঙ্কায় ঘোষণা শাহর!

রাজ্যের ন্যায্য প্রাপ্য থেকে বকেয়া টাকা – কোনও ক্ষেত্রেই রাজ্যের মানুষের স্বার্থে এগিয়ে আসতে দেখা যায় না কেন্দ্রের...