Friday, May 15, 2026

‘বহমান’ দেখে এলাম, দেখে আসুন হলে গিয়ে

Date:

Share post:

অনুমিতা দাশগুপ্তের ‘বহমান’ দেখে এলাম। প্রথম আকর্ষণ স্বাভাবিক কারণেই সৌমিত্র অপর্ণা। আমাদের যুবক বয়সের ভাললাগা, ভালোবাসা। দ্বিতীয় ব্রাত্য বসুর অভিনয়, তৃতীয় অবশ্যি এই সবে যার সঙ্গে কাজ শেষ করলাম ‘হবুচন্দ্র রাজা গবুচন্দ্র মন্ত্রী’ তে সেই অর্পিতা চট্টোপাধ্যায় এর অভিনয়, এবং শেষত আমার ভ্রাতৃপ্রতিম ডি ও পি অরিন্দম ভট্টাচার্য্যের অনুরোধ, ও বহমান এ ক্যামেরার পেছনে।
সম্ভবত বয়স বাড়ার কারণে, দেশের রাজনীতি অর্থনীতি সমাজনীতির এমন তালগোল পাকানো সময়ে আর ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে ছবি আমাকে টানে না। একদম নয়। সমানে মনে হয় শিল্প সুচারু ভাবে নাই বা হল, এখন অনেক গুরুত্বপূর্ণ কথাগুলো বলা দরকার, সময় চলে যাচ্ছে, ডেমোক্লিসের খড়গ ঝুলছে আমাদের সব্বার মাথার ওপর। এরমধ্যে কী এসে যায় ‘গুনগুন গুঞ্জন প্রেমে’। আজ তো তার সময় নয়। কী এসে যায় সম্পর্কের দোলাচলের আলো আধাঁরির অসংলগ্ন কথা বার্তায়? আমার সঙ্গে সব্বাই একমত নাও হতে পারেন, অনেকেই একমত নাও হতে পারেন, এটা আমার ব্যক্তিগত ধারণা। আমি এমন ছবি দেখা ছেড়ে দিয়েছি।
তবুও তো প্রেম জাগে, হঠাৎই, বা অলসভাবে, সন্তর্পণে।
এখানেও তেমন প্রেম বহমান। কবেকার প্রেম কতদিন পর এসেছে ফিরিয়া। সেলিম আলি র সঙ্গে সুব্রতর মা মাধুরীর দেখা। যে সেলিম নাকি হঠাৎ রাত্রির বৃন্ত থেকে ফুটন্ত সকাল আনতে রওনা হয়েছিল, সেই কবে। এখানেই গল্প থামলে তো ল্যাটাই চুকে যেত। রাতের সব তারাই আছে দিনের আলো গভীরে বলে সেলিম আর মাধুরীর হাত ধরা। কিন্তু না এই খানে এসে গল্প অন্য এক বাঁক নেয়। সেলিব্রিটি অধ্যাপক সেলিমের মুখোমুখি দাঁড়ায় মাধুরীর সেলিব্রিটি ডাক্তার ছেলে সুব্রত চ্যাটার্জী। অসম্ভব কমপ্লেক্স চরিত্রের এই সুব্রত গল্পের দখল নেয়, বাকিরা সবাই তখন তার ক্রীয়ার প্রতিক্রীয়া কেবল। মজা লাগে। এরমধ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ৭০ দশক, ভ্রান্ত পথ, আদিবাসী সমস্যা, করপোরেট লালসা এসব এসেছে, কিন্তু তা মূল বিষয় হয়ে ওঠে নি। গল্প বলবো না।
ব্রাত্য তার অসম্ভব মুড সুইং, তার ক্রুরতা, অসম্ভব ভালোবাসা নিয়ে সারা সিনেমা জুড়ে। সিনেমায় আমার দেখা ব্রাত্য র অন্যতম চরিত্র। সৌমিত্র অপর্ণা কে দেখুন আগামী অভিনেতা রা, কত যত্ন নিয়ে চরিত্র নির্মাণ করতে হয়। অর্পিতা খুব ভালো। মাপা অভিনয়।
এ সিনেমা ক্লাস্ট্রোফোবিক হতে বাধ্য, পরিচালক অনুমিতা তাই চেয়েছেন, করেছেন ও। শেষটা ছোটগল্পের মত দর্শকদের হাতে ছেড়ে দেওয়া, এটাও বেশ ভাল লেগেছে আমার। সঙ্গত দিয়েছেন অরিন্দম, ওয়াইড লেন্স তাকে তুলে রেখেছিলেন। ছোট ট্রলি, ছোট ট্রাক, ছোট্ট মুভমেন্ট রেখে চলেছেন সিনেমা জুড়ে। অবশ্য দু একটা জায়গায় হ্যান্ড হেল্ড ক্যামেরা আমার ভাল লাগেনি। ও হ্যাঁ আর্ট ডিরেক্টর মলয় ভারি ভালো।
ছবিটা হলে গিয়ে দেখে আসুন।
বাংলা ছবি হলে গিয়ে দেখুন।

Related articles

বিজেপির পুরস্কার: শমীক এবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী? রাজ্য সভানেত্রী হতে পারেন লকেট!

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল। তৃণমূলের থেকে শাসনভার বিজেপির হাতে। আর মুখ্যমন্ত্রী ও পাঁচজন মন্ত্রী এবং বিধায়কদের শপথগ্রহণ হওয়ার পরেই...

অ্যাম্বুলেন্স অ্যাপ: স্বাস্থ্য দফতরের প্রথম বৈঠকে কেন্দ্র-রাজ্য হাসপাতাল জোড়ার বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের সঙ্গে প্রথম বৈঠকে সরকারি হাসপাতালের রেফার রোগ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। একদিকে রাজ্য...

গ্রেফতার শান্তনুকে সাসপেন্ড পুলিশ ক্লাবের, কড়া অবস্থান সিএবির

গ্রেফতার হওয়া পুলিশ কর্তা শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে(Santanu Sinha Biswas) নিয়ে সিএবিতে চিঠি পাঠাল কলকাতা পুলিশ ক্লাব । তাঁর...

ভোট পরবর্তী হিংসায় আক্রান্ত দলীয় কর্মীরা: শনি থেকেই জেলায় জেলায় ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে বিজেপি কর্মীদের সংযত থাকার বার্তা বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব দিলেও তাতে যে কোনও কাজ...