Tuesday, February 10, 2026

এই movement কেউ থামাতে পারবে না

Date:

Share post:

সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়

বাঘা যতীন এলাকায় নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে বিক্ষোভরত তরুন-তরুনীদের উপর “জয় শ্রীরাম” ধ্বনি দিয়ে হামলাকারীদের ঝাঁপিয়ে পড়ার প্রতিবাদে সরব হলেন বিশিষ্ট লেখিকা সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷

যে প্রজন্মকে আমরা ভেবেছিলাম যে ডাকলে সাড়া দেয় না, ফোন মুখে বসে থাকে, বাংলাটা বলে না, হেমন্ত শোনে না, রবীন্দ্রনাথ পড়ে না; যে ছেলে মেয়ে গুলোকে আমরা ভেবেছিলাম স্বার্থপর, দেশে জন্মায় কিন্তু বিদেশে চলে যাওয়ার জন্য উন্মুখ, নিজের দেশকে এড়িয়ে কোনমতে কেটে পড়তে চায়- সেই প্রজন্ম কিন্তু ঘুরে দাঁড়ালো। বুঝিয়ে দিল যে আমরা ভুল ভেবেছিলাম এদের। এমন কি বম্বের মত শহর, যে শহরে কারোর জন্য কারোর কোন ‘টাইম’ নেই, সেই শহরের ছেলেমেয়েরাও আন্দোলনে ফেটে পড়ল, রাস্তায় বেরিয়ে এল, এবং এই movement কেউ থামাতে পারবে না। কারণ এখানে ছেলেমেয়েরা স্বেচ্ছায় বন্দুকের গুলির সামনে দাঁড়িয়ে পড়ছে। কোথাও একটা পড়লাম এই আন্দোলনটা snow ball এর মত, যত গড়াচ্ছে বড় হচ্ছে। যারা এখনো aloof থাকার চেষ্টা করছেন, আমি জানি সবার মধ্যেই নানারকম ভয়, সীমাবদ্ধতা, কিন্তু মনে মনে একবার নতুন করে ভাবুন যে এত অত্যাচার চোখের সামনে দেখেও চুপ করে থাকবেন কিনা। অনেক সময়ই মানুষ নবজাগরণের চিহ্ন গুলো পড়তে পারে না। অনেক সময় সমসাময়িক শিল্প, সাহিত্য, সিনেমা আমাদের বিশ্বাস করায় যে নৈরাশ্যেই সব শেষ, নৈরাজ্যই আসল। কিন্তু জীবন শিল্পের থেকে বড়। তাই এই যে মন্ত্রের মত বলে গেছি আমরা,” যে কিছুই হবে না, কিসুই হয় না, প্রতিবাদ করে কি হয়!” এটা কিন্তু ঠিক না। হল তো? চোখের সামনে দেখলেন তো হিন্দুরা ফেটে পড়ল মুসলমানদের অপমানে, অবমূল্যায়নে। ফেটে পড়ল ছাত্রদল। এবং সেই পাশে থাকার আশ্বাস পেয়ে মুহূর্তে মুসলমানরা শান্তিপূর্ণভাবে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আন্দোলনের পথে এগোল। এই বিশ্বাসটা তৈরি হতে দেওয়া হয় না। কেন ছাত্রদল মুসলমানদের জন্য দাঁড়িয়ে গেল এভাবে? কারণ তারা প্রতিদিন মেলামেশা করে। মেলামেশা করলেই বোঝা যায় মানুষ সেই শেষমেশ এক! থোড়বড়িখাড়া, খাড়াবড়িথোড়। আমরা মিশি না। ফলে বুঝি না। 70 বছর ধরে আমাদের মেলামেশা বাড়েনি। ওই কোনমতে পাশাপাশি চলেছে। ফলে পান থেকে চুন খসলেই ভয় এসে দাঁড়ায়। অবিশ্বাস এসে দাঁড়ায়। কিন্তু সেই ভয় আর অবিশ্বাসের culmination pointএ পৌঁছে যাওয়ার পর আজ মানুষ রাস্তায় নেমেছে। এবং সেই সঙ্গে এটাও মনে রাখতে হবে যাদের #NRCর ভয় নেই তারাও রাস্তায় নেমেছে। কারণ এই সরকারের প্রতিটা কার্যকলাপ জনবিরোধী। সেগুলো আর এই সাত সকালে নতুন করে উল্লেখ করলাম না।

spot_img

Related articles

সুপ্রিম নির্দেশ মেনে SIR-এর সময়সীমা বাড়ালো কমিশন, ২৮ তারিখ চূড়ান্ত তালিকা

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে রাজ্যের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR)-এর নয়া জারি করা করল সময়সূচি জাতীয় নির্বাচন...

ভোটের আগেই আমলা-পুলিশ বদল! সময়সীমা বেঁধে দিল কমিশন 

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার আগেই প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় রদবদলের নির্দেশ দিল ভারতের নির্বাচন কমিশন। পশ্চিমবঙ্গ-সহ পাঁচ ভোটমুখী...

বাংলাদেশে মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি: বিপুল ক্ষতির মুখে ভারতের বস্ত্র শিল্প

ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর ভারতের তরফ থেকে দাবি করা হয়েছিল দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবথেকে লাভজনক বাণিজ্য...

টলিউড শিল্পীদের বন্ধ হয়ে যাওয়া মেডিক্লেম চালুর পথে আটিস্ট ফোরাম!

আর্টিস্ট ফোরামের বার্ষিক নির্বাচন (Artist Forum Election)শেষ হতেই এবার টলিউড শিল্পীদের বন্ধ হয়ে যাওয়া মেডিক্লেম ( Artist Mediclaim)চালুর...