তৃণমূল যুব কংগ্রেসের কার্যালয়ে বিনামূল্যে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, পড়ুয়াদের উৎসাহ তুঙ্গে

উত্তর ২৪ পরগনার মহিষপোতায় রাজনৈতিক দলের কার্যালয়
হয়ে উঠেছে কম্পিউটার প্রশিক্ষণের মন্দির।
কম্পিউটার শিক্ষা এখন অপরিহার্য হলেও এখনও অনেক ছাত্রছাত্রী পয়সার অভাবে সেই কম্পিউটার থেকে অনেক দূরে। ইচ্ছে থাকলেও উপায় নেই। সেই সমস্ত অভাবী পরিবারের পড়ুয়াদের কথা মাথায় রেখেই অভিনব উদ্যোগ নিয়েছেন মহিষপোতার তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরা। দলীয় কর্মীদের উদ্যোগে ঘোলা মহিষপোতায় বিলকান্দা-১ আঞ্চলিক তৃণমূল যুব কংগ্রেসের কার্যালয়ের দোতলায় কচিকাঁচাদের নিয়ে চলছে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। এই কেন্দ্রে শুধু আর্থিক দিক থেকে পিছিয়ে পড়া পরিবারের ছেলেমেয়েরাই নয় বরং উদ্যোক্তাদের নজর এলাকার প্রতিটি ছেলেমেয়ের দিকেই। লক্ষ্য একটাই, কেউ যেন কম্পিউটারের প্রাথমিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়।
২০১৭ সালের অগস্ট মাসে শুরু হয়েছিল এই কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। যার মূল উদ্দেশ্য ছিল ছেলেমেয়েদের পুঁথিগত শিক্ষার পাশাপাশি যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কম্পিউটার শিক্ষার পাঠ দেওয়া। চারটি কম্পিউটার নিয়ে যাত্রা শুরু হলেও এখন বেড়ে আটটি হয়েছে। শিক্ষার্থীর সংখ্যাও নেহাত কম নয়। ৬০ জন। পার্টি অফিসের দোতলার ঘরে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এই কেন্দ্রে কম্পিউটারের বেসিক ও ডিটিপি কোর্স শেখানো হয় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে । সপ্তাহে চারদিন সকাল ও বিকেলে হয় ক্লাস। অমিত সিংহ রায় নামে শিক্ষক বলেন, ‘ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে কম্পিউটার প্রশিক্ষণই মূল উদ্দেশ্য। সেই উদ্দেশ্য সফল হলে পরিশ্রমটা আর পরিশ্রম বলে মনে হয় না।’
এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে শুধু মহিষপোতাই নয়, আশপাশের বোদাই, কর্ণমাধবপুর, ভাটপাড়ার বিভিন্ন এলাকা থেকেও ছাত্রছাত্রীরা এখানে কম্পিউটার শিখতে আসে।
এই কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণ শেষে একটি সংস্থার নামে সার্টিফিকেট দেওয়ারও ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানালেন বিলকান্দা-১-এর তৃণমূলের যুব সভাপতি প্রবীর দাস। তিনি বলেন, ‘গতানুগতিক রাজনীতির বাইরে বেরিয়ে একসঙ্গে এতগুলো বাচ্চাকে বিনামূল্যে কম্পিউটার শিক্ষা দিতে পারাটাই একটা বড় ব্যাপার। যাঁরা প্রশিক্ষক রয়েছেন তাঁরাও সামান্য পারিশ্রমিকের বিনিময়ে প্রশিক্ষণ দেন।’ ব্যারাকপুর-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সুপ্রিয়া ঘোষ বলেন, ‘পরিকল্পনাটা যখন আমাদের মাথায় আসে তখন বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বিধায়ক তথা অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্রর সঙ্গে কথা বলি। ওঁর সাহায্য ও পরামর্শ ছাড়া এই সুন্দর কাজটা হত না। অর্থমন্ত্রীর সৌজন্যে কিছু সরকারি অনুদানও মিলেছে। রাজনৈতিক দলের যুব সংগঠনের এই উদ্যোগকে এলাকার বাসিন্দারা বাহবাই দিচ্ছেন।