ইয়েচুরি-ইস্যুতে সিপিএম নাটক করলে মমতার সমর্থন চাইবেন সোনিয়া, আহমেদ প্যাটেল তৈরি

রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণের কি নতুন বিন্যাস হতে চলেছে ?

রাজ্যসভার পঞ্চম আসন নিয়ে সিপিএমকে চরম বার্তা দিলো কংগ্রেস হাই-কম্যাণ্ড৷

সূত্রের খবর, রাজ্যসভার পঞ্চম আসনে প্রার্থী দেওয়া নিয়ে সিপিএম ২০১৮-র কায়দায় অহেতুক সময় নষ্ট করার পথে হাঁটলে কংগ্রেস হাই কম্যাণ্ড এবার তা বরদাস্ত করবে না৷ তেমন পরিস্থিতি এলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলতে তৈরি কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী৷

বাংলা থেকে রাজ্যসভার প্রার্থী হিসেবে সিপিএমের সাধারন সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরিকে সমর্থন করতে কংগ্রেস প্রাথমিকভাবে সম্মতি ইতিমধ্যেই দিয়েছে৷ কিন্তু সিপিএমের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও
কিছুই জানানো হয়নি৷ বিষয়টি এমন দাঁড়াচ্ছে, যেন সিপিএম রাজি নয়, অথচ কংগ্রেস জোর করে ইয়েচুরিকে সমর্থন করতে মরিয়া৷ এই অবস্থা মেনে নিতে কিছুতেই রাজি নন
কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী। সোনিয়া গান্ধী দলীয়স্তরে মঙ্গলবার বার্তা দিয়েছেন, এ বিষয়ে দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে নারাজ কংগ্রেস ৷ এবং একইসঙ্গে যথেষ্টই গুরুত্বপূর্ণ এক সিদ্ধান্তের কথাও জানিয়ে দিয়েছেন সোনিয়া৷ কংগ্রেস সভানেত্রী এ বিষয়ে এতটাই সিরিয়াস যে প্রার্থী চূড়ান্ত করার ব্যাপারে যত দ্রুত সম্ভব সিপিএমকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বার্তাও দিয়েছেন। এবং সিপিএমকে জানিয়ে দিয়েছেন, পঞ্চম আসনের প্রার্থী নিয়ে গোপালন ভবন গড়িমসি করলে কংগ্রেস তৎক্ষণাৎ নিজের কোনও প্রার্থীকে জিতিয়ে আনতে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলবে৷

AICC সূত্রে খবর, সোনিয়া গান্ধী এই ইস্যুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার জন্য মঙ্গলবার আহমেদ প্যাটেলকে তৈরি থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন৷ প্যাটেলকে বলা হয়েছে, বুধ-বৃহস্পতিবারের মধ্যে সিপিএমের অবস্থান জেনে নিতে হবে৷ সিপিএমের ভূমিকা সন্তোষজনক মনে না হলে আর সময় নষ্ট করা যাবেনা৷ দ্রুততার সঙ্গে
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা শুরু করতে আহমেদ প্যাটেলকে নির্দেশ দিয়েছেন কংগ্রেস সুপ্রিমো।

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালেও সিপিএম এই একই নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি করেছিলো। সেবারও সীতারাম ইয়েচুরিকেই পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজ্যসভায় পাঠাতে
চেয়েছিলেন তখনকার কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। কিন্তু সিপিএম সময়মতো সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হওয়ায় হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হন সোনিয়া গান্ধী। তিনি নিজে কথা বলেন মমতার সঙ্গে। এবং একেবারে শেষ মুহূর্তে তৃণমূলের সমর্থনে কংগ্রেস নেতা অভিষেক মনু সিংভিকে রাজ্যসভার পাঠিতে সফল হন সোনিয়া৷ কংগ্রেস সভানেত্রী নিজেই এবার রাজ্যসভার প্রার্থী বাছাইয়ের দিকটি দেখছেন৷ এবারও যাতে ২০১৮-র মতো নাটক সিপিএম করতে না পারে, তাই সিপিএমকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বার্তা দিয়েছে কংগ্রেস।

কংগ্রেস সূত্রে খবর, নির্বাচন হতে চলা পশ্চিমবঙ্গের পাঁচটি রাজ্যসভার আসনের মধ্যে একটিতে কংগ্রেসের জেতার সুযোগ যখন রয়েছে, তা সিপিএমের খেয়ালখুশিতে বানচাল হতে দিতে রাজি নন সোনিয়া৷ কংগ্রেস জানে,
পঞ্চম আসনে দলের প্রার্থীকে জেতাতে হলে হয় সিপিএম সহ বাম, অথবা তৃণমূলের সমর্থন প্রয়োজন। ইয়েচুরি-ইস্যুতে সিপিএম যদি ফের কংগ্রেসকে খেলানোর চেষ্টা করে, তাহলে কংগ্রেস হাই কম্যাণ্ড তৃণমূলের সমর্থন চাইবে৷

সেকারনেই সোনিয়া গান্ধী দ্রুত সিপিএমের অবস্থান স্পষ্ট জেনে নিতে চান। কংগ্রেস চায় সিপিএমের সমর্থনে কংগ্রেসের প্রার্থী, নয়তো একমাত্র সীতারাম ইয়েচুরি। ইয়েচুরি ছাড়া বামেদের অন্য কাউকে ওই পদ ছাড়তে রাজি নয় কংগ্রেস।

আগামী ২৬ মার্চ রাজ্যসভার ভোট। ৬ মার্চ থেকে শুরু মনোনয়ন পেশ। ১৩ মার্চ পর্যন্ত মনোনয়ন চলবে। তাই হাতে আর বেশি সময় নেই। রাজ্যসভায় এই মুহুর্তে বিজেপি সদস্য সংখ্যা ৮২। কংগ্রেসের ৪৬। আগামী ২৬ মার্চ ১৭টি রাজ্যের ৫৫টি আসনে ভোট। এই ভোটে নিজেদের আসন বাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ আছে
কংগ্রেসের কাছে৷ হাতছাড়া করতে চান না সোনিয়া গান্ধী৷