Tuesday, March 31, 2026

মমতার সমর্থনে রাজ্যসভায়,আবার মমতার বিরুদ্ধে জোট, কোন পথে কংগ্রেস, কণাদ দাশগুপ্তের কলম

Date:

Share post:

কণাদ দাশগুপ্ত

রাজ্যসভার পঞ্চম আসনের প্রার্থী নিয়ে সিপিএমের টালবাহানার প্রভাব পড়তে পারে পুরভোটে বাম-কং জোটে৷ শুধু প্রভাব পড়াই নয়, সঙ্কটে পড়তে পারে এই জোটের অস্তিত্বও৷ সিপিএমের সঙ্গে জোট গড়ার পরিবর্তে বঙ্গ-কংগ্রেসকে একক শক্তিতে ভোটে যেতে বলতে পারে হাই-কম্যাণ্ড৷

রাজ্যসভা ভোটে বাংলার পঞ্চম আসনের যে ছবি আপাতত স্পষ্ট, তাতে দিল্লি-সিপিএম এবারও ইয়েচুরির নামে সিল-মোহর সম্ভবত দিচ্ছে না৷ ওদিকে কংগ্রেস হাই-কম্যাণ্ড সলতে পাকাচ্ছে ২০১৮-র মতো এবারও তৃণমূলের সমর্থন নিয়ে দলীয় প্রার্থীকে সংসদে পাঠানোর৷ তেমন কাণ্ড ঘটলে, তৃণমূলের বিরুদ্ধে বামেদের হাত ধরে পুরভোটের মঞ্চে কংগ্রেস দাঁড়ালে, তা হবে নিতান্তই এক ‘স্ট্যাণ্ড-আপ কমেডি’৷

পঞ্চম আসনের প্রার্থী হিসেবে আলিমুদ্দিনের তরফে অনেক আগেই সীতারাম ইয়েচুরির নাম প্রস্তাব আকারে পলিটব্যুরোয় পাঠানো হয়েছে৷ মনোনয়ন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেলেও দিল্লি থেকে এখনও চূড়ান্তভাবে কিছুই জানানো হয়নি বঙ্গ-সিপিএমকে৷ ফলে ওই পঞ্চম আসনে প্রার্থী দেওয়া নিয়ে বামেরা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই বলতে পারছে না৷

কংগ্রেসের সমর্থন নিয়ে সীতারাম ইয়েচুরিকে রাজ্যসভায় পাঠাতে দিল্লি-সিপিএমের যদি সমস্যা থাকে, তাহলে তো বাম ও কংগ্রেসের জোট অটুট রাখতে দু’পক্ষের সমর্থনপুষ্ট কোনও ‘নিরপেক্ষ’ প্রার্থী খুঁজে বার করা অথবা কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থন করা নিয়েও কোনও আলোচনা এতদিনে দরকার ছিলো৷ তেমন কিছুও তো হয়নি৷ তাহলে এই জোটের ভবিষ্যত কী ?

সিপিএমের ঠিক এই ধরনের ‘পরিকল্পিত’ সিদ্ধান্তহীনতায় ২০১৮-র মতো এবারও শেষমূহুর্ত পর্যন্ত ঝুলেই থাকতে হচ্ছে কংগ্রেসকে৷ সেবার তৎকালীন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী ঘোষনা করেছিলেন, সিপিএমের সীতারাম ইয়েচুরি রাজ্যসভায় প্রার্থী হলে কংগ্রেস সমর্থন করবে৷ সেবার একেবারে শেষমুহুর্তে দিল্লি-সিপিএম জানায়, দলের নিজস্ব কিছু বিধিতে আটকে যাচ্ছে ইয়েচুরির প্রার্থী হওয়া৷ তড়িঘড়ি আসরে নামতে হয় সোনিয়া গান্ধীকে৷ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলেন তিনি এবং কংগ্রেস নেতা অভিষেক মনু সিংভিকে তৃণমূলের সমর্থনে রাজ্যসভায় পাঠান৷ এবারও কংগ্রেসের তরফে ঢের আগেই সিপিএমকে জানানো হয়, ইয়েচুরি প্রার্থী হলে এবারও কংগ্রেস সমর্থনে তৈরি৷ তবে শুধুমাত্র ইয়েচুরিকেই সমর্থন করবে, ওই দলের অন্য প্রার্থীকে নয়৷ আর দিল্লির সিপিএম সেই একই প্রার্থীর নাম নিয়ে, সেই ২০১৮-র কায়দাতে একইভাবে ঝুলিয়ে রেখেছে কংগ্রেসকে৷ পরিস্থিতি এখন এমনই, যেন সিপিএম সমর্থন চাইছেনা, অথচ কংগ্রেস জোর করে সিপিএমকে সমর্থন করতে মরিয়া৷

এই পরিস্থিতিতে বঙ্গ-সিপিএম এবং প্রদেশ কংগ্রেস,দুই শিবিরেই অন্য এক আশঙ্কা গোকুলে বাড়ছে৷ দিল্লি-সিপিএমের এই গড়িমসি এবার কিছুতেই সহ্য করা হবে না বলে ইতিমধ্যেই কংগ্রেস হাই কম্যাণ্ড তথা সোনিয়া গান্ধী জানিয়ে দিয়েছেন৷ কংগ্রেস-সুপ্রিমো সোনিয়া গান্ধী দলের অন্যতম নেতা আহমেদ প্যাটেলকে বলেছেন, পরিস্থিতি অনুসারে এবারও দলের কোনও প্রার্থীর জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলে তৃণমূলের সমর্থন চাইবার জন্য তৈরি থাকুন৷ তৈরি আছেন আহমেদ প্যাটেলও৷

এইখানেই ‘আতঙ্কিত’ রাজ্যের কং ও বাম নেতারা৷ দিল্লি- সিপিএমের পরিকল্পিত খেয়ালখুশিতে এবারও যদি ইয়েচুরির নামে সবুজ সংকেত না মেলে, তাহলে সোনিয়া গান্ধী এবারও কথা বলবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে এবং এবারও দলীয় প্রার্থীর পক্ষে সমর্থন চাইবেন৷ তখনই ভয়ঙ্কর সমস্যা তৈরি হবে, অস্তিত্বের সংকটে পড়বে পুরভোটে বাম-কং জোট৷
পুরভোটের একদম মুখে দাঁড়িয়ে সিপিএমের কথা না রাখার কারনে রাজ্যসভার নির্বাচনে বাংলায় কংগ্রেসকে সমর্থন করবে তৃণমূল, কংগ্রেসের প্রার্থীকে রাজ্যসভায় পাঠাবে তৃণমূল, আর পুরভোটে সেই বঙ্গ-কংগ্রেস আর সিপিএম একযোগে তৃণমূলকে হারাতে মাঠে নামবে, এটা হয়না৷ তৃণমূল এটা মানবে কেন? আর তবুও তেমন হলে এই জোটের ন্যূনতম বিশ্বাসযোগ্যতা বলে কিছুই থাকবে না৷ কংগ্রেসের ভোটাররা সিপিএমের বারংবার একই নাটকের কারনে কেন তাদের ভোট দেবেন ? সাধারন মানুষ কোন কংগ্রেসকে বিশ্বাস করবেন? একটা কংগ্রেস তৃণমূলের সমর্থন নিয়ে রাজ্যসভায় নিজেদের সাংসদ বাড়াচ্ছে, আর একটা কংগ্রেস, সিপিএমের হাত ধরে তৃণমূলকে হারাতে নেমেছে৷ কোন কংগ্রেস সমর্থনযোগ্য? বাংলায় কংগ্রেস কোন নীতিতে চালিত হচ্ছে, এ প্রশ্ন বড়ভাবে সামনে আসবে ৷

ইয়েচুরি-ইস্যুতে দু’পক্ষের বিশ্বাসে ফাটল ধরলে পুরভোট এবং বিধানসভা ভোটে গোটা জোট-প্রক্রিয়াই বানচাল হতে পারে বলে প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্বের আশঙ্কা।
যে জোটের জোরে এ রাজ্য থেকে রাজ্যসভার পঞ্চম আসনটি পেতে চাইছে বাম ও কংগ্রেস, সেই জোটের শর্ত যদি এবারও সিপিএম না মানে,
তাহলে কংগ্রেস হাই কম্যাণ্ড বঙ্গ-কংগ্রেসকে ‘একলা চলো রে’ নির্দেশ দিতে পারে৷ আবার তৃণমূলও ঠিক এই একই শর্তে কংগ্রেসকে সমর্থনের কথা বলতে পারে৷

ফলে, রাজ্যসভার পঞ্চম আসনের প্রার্থী নিয়ে সিপিএমের ভূমিকায় নিশ্চিতভাবেই সঙ্কটে বাংলার কং-বাম জোট৷ দিল্লির সিপিএম কংগ্রেসকে কার্যত বাধ্য করছে তৃণমূলের সমর্থন নিতে৷ আর বঙ্গ-সিপিএম সেই কংগ্রেসকে সঙ্গী করেই পুরসভা এবং বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলকে হারাতে জোট করছে ! এই হাস্যকর স্ক্রিপ্ট নিয়ে বাংলার রাজনৈতিক মঞ্চে ফের অবতীর্ণ হয়েছে সিপিএম৷

জোড়াতালির এই রাজনীতি আঁকড়ে ধরে থাকলে পুরভোট অথবা বিধানসভার ভোটের পর বঙ্গ- সিপিএমের হাল যে বাম-শরিক বিপ্লবী বাংলা কংগ্রেস অথবা আরসিপিআইয়ের থেকেও করুন হবে, আলিমুদ্দিন কি তা বুঝতে পারছে ?

Related articles

ভুলের সীমা ছাড়াল বিজেপি! জনসংযোগের নামে চূড়ান্ত নোংরামি সোশ্যাল মিডিয়ায়

রাজনৈতিক দেউলিয়াপনা নাকি নিছকই বাংলার প্রতি চরম অবজ্ঞা? উত্তর ২৪ পরগণার নৈহাটি বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের একটি...

ভোটের ডিউটিতে অসুস্থ হলে নিখরচায় চিকিৎসা, কর্মীদের সুরক্ষায় বড় সিদ্ধান্ত রাজ্যের

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বুথ থেকে গণনা কেন্দ্র— সর্বত্র পাহারায় থাকা পুলিশ এবং ভোটকর্মীদের জন্য বড়সড় স্বস্তির খবর শোনাল...

অর্থবর্ষের শেষ লগ্নে বিশেষ তৎপরতা নবান্নের, মঙ্গলবার মধ্যরাত পর্যন্ত খোলা ট্রেজারি

মঙ্গলবার চলতি অর্থবর্ষের শেষ দিনে সরকারি আর্থিক লেনদেন নির্বিঘ্ন রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নিল রাজ্য সরকার। রাজ্যের সমস্ত ট্রেজারি...

চরিদায় মুখোশ কমপ্লেক্স ও আড়ষায় হিমঘর, পুরুলিয়ায় জোড়া প্রতিশ্রুতি অভিষেকের

পুরুলিয়ার লোকসংস্কৃতি এবং কৃষি— দুইয়ের মেলবন্ধনে উন্নয়নের নয়া দিশা দেখালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার বাঘমুন্ডি...