Tuesday, February 3, 2026

ফের কাঠগড়ায় সরকারি হাসপাতালের পরিকাঠামো, পাঁচ হাসপাতাল ঘুরে মৃত্যু বৃদ্ধার

Date:

Share post:

বৃদ্ধার পরিবার ভরসা রেখেছিলেন সরকারি হাসপাতালের ওপর। অর সেটাই শেষপর্যন্ত অভিশাপ হয়ে নেমে হল বৃদ্ধার জীবনে।
বাইপাস সার্জারির জন্য আড়াই বছর ধরে অপেক্ষা করেছেন । ওয়েটিং লিস্ট থেকে অস্ত্রোপচারের জন্য দিন মেলেনি বৃদ্ধার। আড়াই বছর পর বৃহস্পতিবার হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হন বৃদ্ধা। তাঁকে নিয়ে ২৪ ঘণ্টা ধরে পরিবারের লোকজন ঘুরলেন পাঁচটি সরকারি হাসপাতালে। আর সব জায়গায় একই বক্তব্য , বেড নেই, অন্য জায়গায় যান। এই হয়রানির পরে মৃত্যু হয়েছে ওই বৃদ্ধার। এরপরেই রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার নিয়ে ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন বৃদ্ধার পরিবার।
ঘটনার সূত্রপাত ২০১৭ সালে । হাবরার বাসিন্দা ৬২ বছর বয়সী সন্ধ্যা রায়ের বাইপাস সার্জারি হওয়ার কথা ছিল। পরিবারের আত্মীয়দের অভিযোগ, গত আড়াই বছর ধরে এই সার্জারির জন্য সময় বের করতে পারেনি এসএসকেএম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। যতবারই যোগাযোগ করা হয়েছে ডেট পাওয়া যায়নি। ওয়েটিং লিস্টে নাম দেখেই সান্ত্বনা পেতে হয়েছে । এমনকি বেডও পাওয়া যায়নি। হঠাৎ করেই গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে হার্ট অ্যাটাক হয় সন্ধ্যাদেবীর। হাবরার বাড়িতেই তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।
পরিবারের লোকেরা তাঁকে প্রথমে নিয়ে যান হাবড়া হাসপাতালে। কিন্তু সেখানে জানানো হয়, অস্ত্রোপচারের পরিকাঠামো নেই। তাই তাঁকে বারাসত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরিবারের লোকজন বৃদ্ধাকে নিয়ে দৌড়ান বারাসত হাসপাতালে। সেখানে জানানো হয়, কার্ডিওলজির কোনও চিকিৎসার পরিকাঠামো সেখানেও নেই। রোগীকে কলকাতার কোনও যে কোনও মেডিক্যাল কলেজে দ্রুত নিয়ে যাওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়ে রেফার করে দেওয়া হয়।
পরিবারের অভিযোগ , বৃহস্পতিবার রাত আটটার সময় তাঁরা এসএসকেএম হাসপাতালে পৌঁছান। সেখানে ইমারজেন্সি বিভাগ থেকে কার্ডিওলজি বিভাগে নিয়ে যেতে বলা
হয় সন্ধ্যাদেবীকে। সেখানকার চিকিৎসকরা জানান, সন্ধ্যাদেবীর কার্ডিওলজির কোনও সমস্যা নেই। এছাড়া কার্ডিওলজিতে বেড খালি নেই। ফের তাঁকে নিয়ে আসা হয় ইমারজেন্সিতে। সেখানকার চিকিৎসকরা বলেন, সন্ধ্যাদেবীর কার্ডিওলজিরই সমস্যা রয়েছে। তাই তাঁকে দ্রুত কোনও কার্ডিওলজি বিভাগে না ভর্তি করলে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। সেখানে থেকে এনআরএস মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
বৃদ্ধাকে এনআরএস মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হলেও, পাঁচ হাসপাতালের টানাপোড়েনের ধকল তিনি নিতে পারেন নি। যার নিট ফল, শেষপর্যন্ত মৃত্যু হয় ওই বৃদ্ধার । এরপরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন পরিবারের লোকজন । তাদের অভিযোগ, যা আর্থিক অবস্থা বৃদ্ধার পরিবারের, তাতে সরকারি হাসপাতালের ওপর ভরসা রাখা ছাড়া কোনও উপায় ছিল না । আর সেটাই কাল হলো। সরকারি হাসপাতালের রেফার করার প্রবণতা যে একই আছে, এই ঘটনা ফের সামনে এনে দিল।

spot_img

Related articles

সশরীরে বিধানসভায়! চত্বরে থেকেও অধিবেশন বয়কট করলেন বিরোধী দলনেতা

বিধানসভা চত্বরে সশরীরে উপস্থিত থেকেও অধিবেশন কক্ষে ঢুকলেন না বিরোধী দলনেতা-সহ বিজেপি বিধায়কদের একাংশ। মঙ্গলবার সপ্তদশ বিধানসভার শেষ...

আরও বড় ব্যবধানে জিতব: দিল্লি থেকে বাংলা জয়ের বার্তা তৃণমূল সভানেত্রীর

বিধানসভা ভোটে বাংলার শাসকদলের রণকৌশল কী? মঙ্গলবার, দিল্লিতে সাংবাদিক সম্মেলনে এই প্রশ্নের জবাবে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল (TMC)...

কলকাতার ধোঁয়া না কি গ্রামের ধুলো, বেশি ঘাতক কে? কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সন্ধানে রাজ্য

শহরের শিল্পাঞ্চলের ধোঁয়া আর গ্রামের বাতাসের ধুলো— দুইয়ের বিষক্রিয়া কি সমান? নাকি জনস্বাস্থ্যের ওপর এদের প্রভাব ভিন্ন? দূষণের...

দেশবাসীর গোপনীয়তায় আপস করলে ভারত ছাড়ুন! মেটা-কে কড়া বার্তা প্রধান বিচারপতির

ভারতীয় নাগরিকদের ব্যক্তিগত পরিসরে নাক গলালে ব্যবসা বন্ধ করে বিদায় নিতে হবে মেটার (Meta)হোয়াটসঅ্যাপকে (Whatsapp) । হোয়াটসঅ্যাপের বিতর্কিত...