Friday, May 22, 2026

করোনা হামলায় এক ডজন কড়া নির্দেশ হাইকোর্টের

Date:

Share post:

করোনা হামলার স্বাভাবিক জের এসে পড়ল কলকাতা হাই কোর্টেও। রবিবার হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল একটি নোটিশ দিয়ে জানিয়েছেন, ১৭ মার্চ, মঙ্গলবার থেকে জরুরি মামলাগুলি ছাড়া অন্য মামলা তালিকায় রাখা হবে না। একইসঙ্গে নেওয়া হয়েছে বেশ কিছু কড়া পদক্ষেপ। এই এক ডজন কড়া পদক্ষেপ হলো…

১. হাইকোর্টের সব বিল্ডিংয়ের প্রবেশ পথেই থাকবেন স্বাস্থ্য সহায়করা। তাঁরা থার্মাল গান দিয়ে সকলকে পরীক্ষা করবেন। বিচারপতি থেকে কোর্টের কর্মী, বিচারপ্রার্থী, সকলের তাঁরা পরীক্ষা করবেন। কারওর জ্বর ধরা পড়লেই তাঁকে আলাদা করে পরীক্ষা করা হবে এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করবেন ডাক্তাররা।

২. রেজিস্ট্রার জেনারেলের তরফ থেকে রাজ্য সরকারের কাছে হাইকোর্টে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক ও থার্মাল গান চাওয়া হচ্ছে। রাজ্যের সব জেলা, শহরেও এই পরিষেবার দরকার।

৩. হাইকোর্টে কর্মীদের উপস্থিতি স্বাভাবিক দিনের তুলনায় অর্ধেক করে দিতে হবে। প্রয়োজনে রোটেশন পদ্ধতি চালু করতে হবে।

৪. নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া বাদী বা বিবাদী পক্ষের উপস্থিতি নিয়ে আদালত কঠোর মনোভাব দেখাবে না। কোর্টে সাধারণের প্রবেশের ক্ষেত্রেও বিধি নিষেধ আরোপ করা হোক।

৫. হাইকোর্টের বার অ্যাসোসিয়েশন ও জেলা বার অ্যাসোসিশনকে নিশ্চিত করতে হবে যেন কোর্ট চত্বরে অযথা ভিড় বা জমায়েত না হয়। মামলার কারণ ছাড়া কেউ যেন কোর্ট চত্বরেই না আসেন। আইনজীবীদের চেম্বারের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।

৬. আইনজীবীদের মামলা শেষ হওয়া মাত্রই বার রুম বন্ধ করে দিতে হবে।

৭. আইনজীবীরা প্রয়োজনে তাঁদের ক্লায়েন্টদের জানিয়ে দেবেন, আদালত নির্দেশ মা দিলে তাঁরা যেম আদালতে না আসেন।

৮. এই ধরণের আপৎকালীন পরিস্থিতি যতদিন বজায় থাকবে, ততদিন বিচারপ্রার্থীরা কোর্টে উপস্থিত না হলে কোনও নেতিবাচক সিদ্ধান্ত কোর্ট তাঁদের বিরুদ্ধে নেবে না।

৯. বিচার প্রক্রিয়া চলছে এমন ইউটিপি-দের ক্ষেত্রে সশরীরে কোর্টে উপস্থিত করার পরিবর্তে ভিডিও কনফারেন্সের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।

১০. হাইকোর্ট সহ রাজ্যের সব আদালতের নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হচ্ছে তাঁরা যেন আদালতের সব বিভাগে স্যানিটাইজেশনের ব্যবস্থা রাখেন। কর্মী থেকে সাধারণ মানুষ বাধ্যতামূলকভাবে তা ব্যবহার করে কর্তৃপক্ষকে নিশ্চিত করবেন।

১১. ১৬ মার্চ থেকে বিচারবিভাগীয় ক্লাসগুলিও বাতিল করা হলো।

১২. যে সব কর্মীরা এই সময়ে আসবেন না, তাঁদের উপস্থিত হিসাবেই ধরা হবে। বিচারপতিরা তাঁদের কাজ শেষ করে দ্রুত আদালত চত্বর ছাড়বেন। কাজ শেষ হলে বিচারপতিরা তাঁদের অধঃস্তনদের কোর্টে আটকে রাখবেন না।

আরও পড়ুন-করোনার জেরে মুম্বইয়ে জারি ১৪৪ ধারা

Related articles

বাংলায় কেন্দ্রীয় প্রকল্প থেকে মন্ত্রিসভা: প্রধানমন্ত্রীকে রিপোর্ট পেশ মুখ্যমন্ত্রীর

বাংলায় প্রথম বিজেপির সরকার প্রতিষ্ঠা হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে দিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর এই ১৫ দিনেই বাংলায়...

কর্পোরেশনের অধিবেশন থেকে বুলডোজার: রাস্তায় নেমে প্রতিবাদের নির্দেশ তৃণমূল নেত্রীর

বাংলার ক্ষমতায় এসেই সব প্রশাসনিক ক্ষেত্রকে গায়ের জোরে দখলের পথে বিজেপি। একই পরিস্থিতির শিকার কলকাতা কর্পোরেশন। একদিকে প্রশাসনিকভাবে...

পুরসভাকে আগে জিজ্ঞেস করুন কোন অংশ অবৈধ? সাফ জানালেন অভিষেক

“কলকাতা পুরসভাকে আগে জিজ্ঞেস করুন কোন অংশ অবৈধ, তারপর আমাকে জিজ্ঞেস করবেন“- ১৮৮/এ হরিশ মুখার্জি রোড ‘শান্তিনিকেতন’ নামের...

বঙ্গভবনে ৪০ সেকেন্ডের সাক্ষাৎ শুভেন্দু-ঋতব্রতর, কী কথা হল!

বঙ্গভবনে হঠাৎ দেখা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (CM Suvendu Adhikari) ও উলুবেড়িয়া পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক (TMC MLA) ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের...