Sunday, April 26, 2026

‘পরিবার পিছু জনসংখ্যা’ ভিত্তি হোক, জনঘনত্বের হিসাবে চললে করোনা- মুক্তি হবে না

Date:

Share post:

শৈবাল বিশ্বাস

সম্প্রতি কলকাতার কনটেনমেন্ট জোন নিয়ে কিছু তথ্য‌ হাতে এল তাই এই নিয়ে নিজের কিছু বক্তব্য‌ শেয়ার করছি।

তালিকা অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে, রোগ ধরা পড়ার নিরিখে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে ৭ নম্বর বরো, যা কি’না বেলেঘাটার দক্ষিণপ্রান্ত থেকে ৪ নম্বর ব্রিজ অবধি বিস্তৃত। ট্যাংরা, তপসিয়া, পিলখানা এই অঞ্চলেরই ভিতর। কলকাতায় সবচেয়ে বেশি কোভিড-১৯ রোগী মিলেছে এই বরোর ৬০ নম্বর ওয়ার্ডে। এর পরই সংক্রমণের নিরিখে এগিয়ে আছে ৫ নম্বর বরো। রাজাবাজার, শিয়ালদা, কলেজ স্ট্রিট এই বরোর ভিতরে পড়ে।

কিন্তু কেন এই অঞ্চলগুলিতে বেশি করোনা আক্রান্ত রোগীর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে? একটু সেনসাস রিপোর্টের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা যাক।

◾ ৬০ নম্বর ওয়ার্ড বা লিন্টন পোস্ট অফিস সংলগ্ন ওয়ার্ডটিতে ২০১১-র সেনসাস অনুযায়ী মোট জনসংখ্যা ৩৫,৭৩২। হাউসহোল্ড বা এক হাঁড়িতে খাওয়াদাওয়া করা পরিবারের সংখ্যা ৬,৭৫৫টি। অর্থাৎ,এই ওয়ার্ডে হাউসহোল্ড পিছু জনসংখ্যা ৫.২৮।

◾ রাজাবাজার অঞ্চলের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডটির কথাই ধরুন৷ এটি পুরসভার ৪ নম্বর বরোর অন্তর্ভূক্ত। এখানে পরিবার (হাউসহোল্ড) পিছু জনসংখ্যাা ৫.২৭।

◾ রাজাবাজারের ৫ নম্বর বরোর ৩৬ নম্বর ওয়ার্ড অর্থাৎ বরফকল, খালপাড় অঞ্চলে পরিবার পিছু জনসংখ্যা ৫.৯৫ বা প্রায় ৬ বলা যায়।

এবার রেড জোন নয়, এমন ওয়ার্ডগুলির জনসংখ্যার হিসাব দেখা যাক।

◾৯১ নম্বর ওয়ার্ড বা কসবা, ঢাকুরিয়া অঞ্চলে পরিবার পিছু জনসংখ্যা। ৩.৮।

◾১১১ নম্বর ওয়ার্ড গড়িয়ায় পরিবার পিছু জনসংখ্যাা আরও কম, ৩.৯।

◾উত্তর কলকাতার বাগবাজারের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে কোভিড আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা মাত্র ১টি। সেখানে পরিবার পিছু জনসংখ্যার অনুপাত ৪.৫।

এই হিসাব থেকে বোঝা যাচ্ছে:

◾পরিবার পিছু জনসংখ্যা ৫-এর বেশি এমন ওয়ার্ডগুলি “রেড জোন”-এ পরিণত হচ্ছে।

◾ যে সব বস্তি অঞ্চলে ঘর আর রাস্তার মধ্যে পার্থক্য‌ কম সেখানে দ্রুত সংক্রমণ ছড়াচ্ছে।

◾জনঘণত্বের সঙ্গে পারিবারিক জনসংখ্যার ঘণত্ব গুলিয়ে ফেললে চলবে না।

◾জনঘণত্বের হিসাব নিয়ে চললে সঠিক পরিকল্পনা কখনই করা যাবে না।

◼সমীক্ষার ভিত্তি করতে হবে হাউসহোল্ড বা এক হাঁড়িতে খাওয়াদাওয়া করা পরিবারের হিসাব ধরে।

◾কারণ, সামাজিক দূরত্ব মেনে চললে জনঘণত্ব দিয়ে সংক্রমণ ছড়ানোর হার সঠিকভাবে বিশ্লেষণ করা না-ও যেতে পারে।

◾কিন্তু পরিবারের মধ্যে যেখানে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব নয়, বিপদ সেখানেই বেশি।

🔺আমার বক্তব্য‌, পরিবার পিছু জনসংখ্যা ৫-এর বেশি এমন ওয়ার্ডগুলি দ্রুত চিহ্নিত করে সেখানে ‘সারি’ বা শ্বাসকষ্টে ভুগছেন, এমন সব মানুষের নমুনা পরীক্ষা করা হোক।

🔺 তাহলে ৭ দিনের মধ্যে কলকাতা কোভিডমুক্ত হবে।

Corona update

Related articles

এলাকায় বাইক বাহিনী! পুলিশ-প্রশাসনকে পদক্ষেপের নির্দেশ কমিশনের, কটাক্ষ তৃণমূলের

বাইক থেকে 'জয় বাংলা' স্লোগান দেওয়া হচ্ছে এই ভিডিও পোস্ট করে পুলিশ-প্রশাসনকে কড়া ব্যবস্থা নিতে বলল নির্বাচন কমিশন...

রবিবার সকালে আকাশের মুখ ভার, দুপুরের পরেই ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস!

প্রবল গরম থেকে সাময়িক স্বস্তি মিলবে কি, সকালে আকাশের চেহারা দেখে ঠিক এমন প্রশ্নই ঘোরাফেরা করছে দক্ষিণবঙ্গবাসীর মনে।...

পদযাত্রা থেকে জনসভা, আজ নিজের কেন্দ্রে ভোট প্রচারে মমতা 

বিধানসভা নির্বাচনের শেষ দফায় হাইভোল্টেজ ভবানীপুর (Bhawanipur) কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী স্বয়ং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বাংলার...

সোনা পাপ্পু মামলায় রবিবার সকালে শহরে ফের ইডি হানা

বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের শেষ দফা শুরুর আগে কেন্দ্রীয় এজেন্সির অতি সক্রিয়তা। একদিকে যখন মহানগরীতে জোরকদমে চলছে প্রচার, ঠিক...