বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে বজ্রবিদ্যুৎ সহ প্রবল দুর্যোগ শহরজুড়ে। জল থইথই অবস্থা সর্বত্র। এই দুর্যোগের মধ্যেও ভিড়ে উপচে পড়ল উত্তর কলকাতা জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মিসভা। যার স্লোগান ছিল ‍‘আমরা বেইমান নই’। রামমোহন হলের সভা গড়াল দীর্ঘ সময়। একের পর এক বক্তা স্মৃতিচারণ করলেন। সেইসঙ্গে শপথ নিলেন, যাই ঘটে যাক সকলে মিলে একসঙ্গেই পথ চলবেন। বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই চলবে।

আলোচনা হল ২১ জুলাইয়ের শহিদ তর্পণ নিয়েও। এল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফোন। সেখানেই নির্দেশ। চাঙ্গা সকলে। বক্তব্য রাখলেন বর্ষীয়ান নেতা অশোক দেব-সহ অনেকেই। জেলা সভাপতি কুণাল ঘোষ বলেন, প্রবল বৃষ্টি। একাধিক জায়গা থেকে অনুরোধ এসেছিল আজকের বৈঠক স্থগিত করার জন্য। আমাদের একটা মাঠে এই সভা করার কথা ছিল। গত দু-তিনদিনের পরিস্থিতিতে হলে ঢোকাতে হয়েছে বিষয়টা। আজকের অনুষ্ঠান স্থগিত রাখতে অনুরোধ এসেছে। আমরা প্রবল উৎসাহিত একে অপরের সঙ্গে বৈঠক করার জন্য। তাই রামমোহন হল উপচে গিয়ে বাইরে লোক ভিজছে। যারা আজ আসতে পারেনি তাদের নিয়ে আমরা খুব শীঘ্রই আরও একটি সভা করব। এরপর জোন ধরে সভা হবে।

বিজয় উপাধ্যায় বলেন, কুণালদাকে প্রস্তাব, শ্যামবাজার নেতাজির মূর্তি থেকে স্বামীজির মূর্তি পর্যন্ত একটা হাঁটা হোক। তাতে অনেক কর্মী থাকবে, অনেকের ভয় কাটবে। আমার নামেও মিথ্যে মামলা দিয়েছিল। আমি সরাসরি কোর্ট থেকে এখানে এসেছি প্রমাণ দিতে যে আমি বেইমান নই। ২০১৫ সালে আমাকে দিদি টিকিট দেননি, আমি নির্দল থেকেও এখানে এসেছি আমি বেইমান নই। যতই ঝড়-বৃষ্টি আসুক, আমরা দিদির লোক ছিলাম, আছি, থাকব। প্রকাশ উপাধ্যায় বলেন, আগের সভাপতিকে দেখাই যেত না। এখন কুণালদার অবারিত দ্বার। কুণালদা মানুষের মধ্যে আছে, মানুষের কথা বলে। তিনি একাই বিধানসভায় লড়াই করছেন। বিধানসভা কাঁপাচ্ছে কুণাল ঘোষ। আমাদের গর্বে বুক ভরে যাচ্ছে। যারা দলের যাবতীয় সুবিধে নিয়ে এখন পেছনে ছুরি মারছে, তাদেরও একদিন জেলে যেতে হবে। কাউন্সিলর দেবিকা চক্রবর্তী বলেন, কর্মীদের চাঙ্গা করার জন্য এই ধরনের বৈঠক মাঝে মাঝে হওয়া দরকার। আগে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কাউন্সিলরের একটা দূরত্ব তৈরি হত, আলাদা আলাদা সংগঠন তৈরি হত। এঁরা ছাড়াও এদিনের সভায় বক্তব্য রাখেন, স্মিতা বক্সি, কৃষ্ণপ্রতাপ সিং, মোনালিসা বন্দ্যোপাধ্যায়, মোহনকুমার গুপ্ত, খোকন দাস, মৃত্যুঞ্জয় পাল, শক্তিপ্রতাপ সিং, সৌম্য বক্সি সহ আরও অনেকে। এদিন মঞ্চেই কুণাল ঘোষ প্রস্তাব করেন জেলা যুব সভাপতি হিসেবে শক্তিপ্রতাপ সিংয়ের নাম। এছাড়াও মৃত্যুঞ্জয় রাজ্যের যুব-র স্টিয়ারিং কমিটিতে যাচ্ছেন।

আরও পড়ুন- এবার কি বাংলাতেও ইউসিসি? চলতি অধিবেশনেই বিধানসভায় আসতে পারে বিল

_

 

_

 

_

 

_

 

_

 

_

 

_