Sunday, February 8, 2026

নিজের অ্যালবামের মিউজিক অ্যারেঞ্জমেন্টের  কৃতিত্ব নিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে বাবুল

Date:

Share post:

একটি মিউজিক অ্যালবাম। অ্যালবামের গায়ক-গায়িকা কলকাতার দুই তারকা। অলকা ইয়াগনিক আর বাবুল সুপ্রিয়। আর এই অ্যালবাম নিয়েই চ্যালেঞ্জের মুখে বিজেপি নেতা, সাংসদ তথা কেন্দ্রের মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়।

২৫ বৈশাখের সকালে বাবুল তাঁর ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছেন। সেই পোস্টে বাবুল তাঁর একটি পুরনো অ্যালবামের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন। নাম ‘ মনে রবে’। তিনি তার ইউটিউব লিঙ্ক আর ছবি দিয়ে লিখেছেন, “অলকা ইয়াগনিকের ও আমার গাওয়া রবীন্দ্রসঙ্গীতের অ্যালবাম ‘মনে রবে’ আজকের দিনে আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করলাম। আমার রবীন্দ্রসঙ্গীত অ্যালবামের সঙ্গীতায়োজন (arrangement) আমি নিজেই করি। আমি arrenger নই, কিন্তু ভালো লাগে গানগুলি সাজাতে।”

অর্থাৎ গায়ক তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্পষ্টভাবে যে বিষয়টি সামনে আনতে চেয়েছেন, তা হল আলকা ইয়াগনিকের সঙ্গে গাওয়া এই অ্যালবামের সঙ্গীতায়োজন তাঁর করা। তিনি এই কাজ করেন না। কিন্তু করতে ভালো লাগে। ঠিক তার ঘন্টা দু’বাদে তুহিনা বসু সেন জনৈকা একটি পাল্টা ফেসবুক পোস্ট করেন। সেখানে তিনি জানাচ্ছেন, বাবুল আর অলকার এই অ্যালবামটি প্রকাশিত হয় ২০১৬ সালের ২১ জুলাই। ‘মনে রবে’র গানগুলো তাঁর নিজের মিউজিক অ্যারেঞ্জমেন্ট করা অর্থাৎ গানগুলোর সঙ্গীতায়োজন তিনি নিজেই করেছেন। আপনারা ইউটিউব-এর ডেসক্রিপশন বক্সে গিয়ে বা কারুর কাছে ইনলে কার্ড থাকলে দেখে নিন অ্যারেঞ্জার হিসেবে কার নাম রয়েছে! দেখবেন লেখা আছে অতনু সেন। ইনি ব্যক্তিজীবনে আমার হাজব্যান্ড আর সংগীতজীবনে বাপী নামেই বেশি পরিচিত। আমার প্রশ্ন হল, আজ রবীন্দ্রজয়ন্তীর দিন এই ধরণের ভুল তথ্য পরিবেশনের কি খুব দরকার ছিল? আশা অডিও এবং এই অ্যালবামের মূল নেপথ্য কান্ডারী মৌহুয়াদি (লাহিড়ী) অকালপ্রয়াত। আর দিব্যেন্দুদাকে এসব ব্যাপারে বিব্রত করা উচিত নয়।

তুহিনা বসু সেনের এই অভিযোগ দেখার পরে আমরা ইউটিউব এবং সিডির ইনলে দেখি। সেখানে পরিষ্কারভাবেই সংগীত পরিচালক হিসাবে অতনু সেনের নাম রয়েছে। প্রশ্ন, তাহলে কেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ২৫শে বৈশাখের এই পুণ্যদিনে ভুল ও অতিরঞ্জিত তথ্য পেশ করলেন? নিজের কৃতিত্ব একটু বাড়ানোর জন্য আর একজনের কৃতিত্বকে খাটো করেছেন? এর সঠিক জবাব দিতে পারবেন বাবুল নিজেই। তুহিনা যদি ভুল বা অসত্য কথা বলেন, তাহলে বাবুল প্রকাশ্যে কেন তার বিরোধিতা করছেন না? তথ্য প্রমাণ দিয়ে তাঁকে নস্যাৎ করুন। আর যদি তুহিনা যথার্থ হন, তাহলে সে বড়ো লজ্জার হবে। মন্ত্রীর সততা সেক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জের মুখে। মাননীয় ট্যুইট-প্রিয় মন্ত্রী সোশ্যাল মিডিয়াতেই তার জবাব দেবেন আশা করা যায়।

 

spot_img

Related articles

অসম মুখ্যমন্ত্রী গুলি করলেন সংখ্যালঘুদের! কোথায় গেল মোদির UAPA,প্রশ্ন বিরোধীদের

প্রকাশ্যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের হেনস্থা করার 'লাইসেন্স' দিয়েছিলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। এবার অসম বিজেপির তরফ থেকে প্রকাশ্যে...

অন্ধকার থেকে স্বীকৃতির আলো: ডাঃ সুভাষ মুখোপাধ্যায়

১৯ জুন, ১৯৮১। কলকাতার দক্ষিণ অ্যাভিনিউয়ের এক বহুতলের ফ্ল্যাটে ফিরছিলেন শিক্ষিকা নমিতা মুখোপাধ্যায়। কিন্তু দরজা খুলতেই আঁতকে ওঠেন...

নীতীশের বিহারে মিড-ডে মিল খেয়ে অসুস্থ ৭০ পড়ুয়া

বিহারের(Bihar) মাধেপুরা জেলার একটি স্কুলে মি-ডে মিলের(Mid Day Meal) খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ল ৭০ জনেরও বেশি পড়ুয়া।...

মেট্রোতে আত্মহত্যার চেষ্টা, ছুটির দিনে ব্যাহত পরিষেবা, সমস্যায় যাত্রীরা

রবিবার সকালে মেট্রো(Metro) বিভ্রাট। ব্রিজি  স্টেশনে এক ব্যক্তি ঝাঁপ দেওয়ায় ব্যাহত হল মেট্রো(Metro) চলাচল। মেট্রো সূত্রর খবর সকাল...