Friday, May 22, 2026

বিধায়ক-সাংসদ থেকে বিডিও! ভোটার তালিকায় ‘বিচারাধীন’ খোদ জনপ্রতিনিধিরাও 

Date:

Share post:

ভোটার তালিকা সংশোধনের কামড় এ বার খোদ জনপ্রতিনিধিদেরও গায়ে। খসড়া তালিকায় নাম বাদ পড়ার পর রাজ্যে প্রকাশিত চূড়ান্ত এসআইআর তালিকায় কয়েক জন বিধায়ক ও সাংসদের নাম ‘বিচারাধীন’ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে। তালিকায় নাম নেই খোদ বিডিও থেকে শুরু করে পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যেরও। সব মিলিয়ে ৬৩ লক্ষের বেশি নাম বাদ পড়ার পরিসংখ্যানে রাজ্য জুড়ে নতুন করে তৈরি হয়েছে নাগরিকত্ব হারানোর আতঙ্ক।

মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরের তৃণমূল বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী জাকির হোসেনের নাম ‘বিচারাধীন’ তালিকায় আসায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে। রবিবার রঘুনাথগঞ্জে সাংবাদিকদের সামনে তিনি নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন। শুধু তিনিই নন, জঙ্গিপুরের সাংসদ খলিলুর রহমানের পরিবারের সাত জনের নামও তালিকায় বিচারাধীন রয়েছে। এই তালিকায় রয়েছেন সাগরদিঘির বিধায়ক বাইরন বিশ্বাস, তাঁর দুই ভাই এবং জলঙ্গীর বিধায়ক আব্দুর রাজ্জাকও। উত্তর ২৪ পরগনার আমডাঙার বিধায়ক রফিকুর রহমান এবং দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জের বিধায়ক তোরাফ হোসেন মণ্ডলের নামও ‘অমীমাংসিত’ তালিকায় রয়েছে। দীর্ঘ ৩৬ বছর সরকারি চাকরি করা এবং দু’বারের বিধায়ক তোরাফ হোসেন মণ্ডল বলেন, ‘বাবার নামের বানানে সামান্য ভুলের জন্য আমায় শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। সমস্ত নথি জমা দেওয়ার পরেও কেন নাম বিচারাধীন রাখা হল, তা বোধগম্য হচ্ছে না।’

আশ্চর্যজনক ভাবে, ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে খোদ বিডিও প্রসেনজিৎ কুণ্ডুর নাম। তাঁর আদি বাড়ি আলিপুরদুয়ারে। পরিবারের অন্য সদস্যদের নাম তালিকায় থাকলেও বাদ পড়েছে খোদ আধিকারিকের নামই। একই চিত্র ময়নাগুড়িতেও। সেখানকার ১০ নম্বর আসন থেকে নির্বাচিত পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য সুবোধ রায়ের নামও তালিকা থেকে উধাও। অথচ তাঁর বাবা-মা, দুই ভাই ও স্ত্রীর নাম তালিকায় বহাল রয়েছে। সোমবার এই নিয়ে জেলাশাসকের কাছে আবেদন জানাবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। ময়নাগুড়ি ১ নম্বর ব্লক তৃণমূল সভাপতি বাবলু রায়ের প্রশ্ন, ‘যার পূর্বপুরুষ এখানে ভোট দিয়েছেন, যিনি নিজে সরকারি কর্মচারী ছিলেন, তাঁর নাম কোন যুক্তিতে বাদ দেওয়া হল?’ সূত্রের খবর, শুধু ময়নাগুড়ি ব্লকেই আড়াই হাজার নাম বাদ গিয়েছে এবং প্রায় ৩৭ হাজার মানুষের নাম এখনও বিচারাধীন।

নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫২৯ জন। দীর্ঘ চার মাসের এসআইআর প্রক্রিয়ার পর প্রথমে ৫৮ লক্ষ এবং পরে আরও ৫ লক্ষাধিক নাম বাদ যাওয়ায় মোট ৬৩ লক্ষ ৬৬ হাজার ৯৫২ জন ভোটারের নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। কমিশনের এই পরিসংখ্যান সামনে আসতেই সাধারণ মানুষের মধ্যে আইনি জটিলতা ও ভোটাধিকার হারানোর ভয় দানা বাঁধছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে বা বিচারাধীন রয়েছে, তাঁরা আইন অনুযায়ী পুনরায় আবেদন বা জেলাশাসকের কাছে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ পাবেন। তবে পদ্ধতিগত এই জটিলতা কেন তৈরি হল, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে।

আরও পড়ুন- ব্রাত্যজন সঞ্জুর ব্যাটেই ক্যারিবিয়ান বধ, কাপযুদ্ধের সেমিতে ভারত

_

_

_

_

_

_

Related articles

সোনা পাপ্পু মামলায় শুক্রবার সাতসকালে শহরজুড়ে ইডি হানা, তল্লাশি অভিযান মুর্শিদাবাদেও

জমি কেলেঙ্কারির তদন্তে কলকাতা ও জেলা মিলিয়ে ৯ জায়গায় কেন্দ্রীয় এজেন্সির তল্লাশি অভিযান। শুক্রবার সাতসকালে কসবা, চক্রবেড়িয়া, রয়েড...

ভোট পরবর্তী হিংসায় উস্কানির অভিযোগ, এবার কাঠগড়ায় পরমব্রত-স্বস্তিকা!

নির্বাচন শেষ হয়ে যাওয়ার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় (Social Media Post) উস্কানিমূলক পোস্ট করায় এবার টলিউড অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়...

আজ দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী-মুখ্যমন্ত্রী সাক্ষাতের সম্ভাবনা 

বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার পর প্রথম দিল্লি সফরে শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানী পৌঁছেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী।...

বন্দুকবাজের গুলিতে নিহত পুলওয়ামা হামলার মাস্টারমাইন্ড

পুলওয়ামা হামলার নেপথ্যে অন্যতম মূল মাথা কুখ্যাত জঙ্গি হামজা বুরহানকে গুলি করে মারল অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকবাজরা। বৃহস্পতিবার পাক অধিকৃত...