আপাতত তিন সপ্তাহ তাঁকে গ্রেফতার করা যাবে না- কলকাতা হাই কোর্টের এই নির্দেশে যখন কিছুটা স্বস্তিতে তৃণমূলের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee), তখনই তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে রক্ষাকবচ মামলা ছাড়লেন তৃণমূলের বর্ষীয়ান সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। অভিষেকের বিরুদ্ধে ‘ঔদ্ধত্যের’ অভিযোগ এনে সংবাদ মাধ্যমে কল্যাণ সাফ জানালেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য দলের এই অবস্থা। ওর জন্য সকলকে চোর চোর শুনতে হচ্ছে। দিদি ওকে নিয়ে চললে চলুক আমি থাকব না।“

এই ঘটনায় রক্ষাকবচ মামলায় আপাতত স্বস্তি পেলেও দলে আরও অস্বস্তিতে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। বুধবারও সই জাল-কাণ্ডের শুনানি ছিল হাই কোর্টে (Calcutta High Court)। কিন্তু সেদিন এই শুনানি হয়নি। আর এই নিয়েই কল্যাণের (Kalyan Banerjee) সঙ্গে অভিষেকের দ্বন্দ্ব তুঙ্গে। কল্যাণের কথায়, “আমি অভিষেকের মামলা ছেড়ে দিয়েছি। কী উদ্ধত রে বাবা! কাল আমি ওর মামলার কথা আদালতে উল্লেখ করলাম। মমতাদির বাড়িতে সিআইডি-র যাওয়ার বিষয়টিও তুললাম। অভিষেকের মামলাটা কোনও কারণে কাল কোর্ট শোনেনি। আমরা বিচারপতি কৌশিক চন্দকে বলি, এটা জরুরি ভিত্তিতে শুনুন। আজ শুনানি হত।”

এর পরেই না কি রাত ১২টা নাগাদ কল্যাণের পুত্র আইনজীবী শীর্ষন্ন্য বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার মামলার শুনানি করবেন আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য। এই ঘটনায় চূড়ান্ত ক্ষুদ্ধ কল্যাণ। জানান, “কাল রাত সাড়ে ১২টায় আমার ছেলেকে ফোন করে বলা হয়েছে, জুনিয়রস্য জুনিয়র অয়ন এই মামলায় সওয়াল করবে। আমি বলে দিয়েছি এর (অভিষেক) সঙ্গে থাকব না। এই পেশায় ৪৫ বছর আছি। এই উদ্ধত মনোভাব মেনে নেব না।“

এর পরেই সরাসরি দলের ‘সেনাপতি‘-র বিরুদ্ধে আক্রমণ করে কল্যাণ বলেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য দলের এই অবস্থা। ওর জন্য সকলকে চোর চোর শুনতে হচ্ছে। দিদি ওকে নিয়ে চললে চলুক আমি থাকব না। আর ওকে বাদ দিয়ে চললে থাকব। ও সময় থেকে শিক্ষা নেয়নি। ঠান্ডা ঘরে বসে রাজনীতি করে। আমি ওর ক্যমাক স্ট্রিটের কর্মচারী নই। দলের এই কঠিন সময় আমি দিদির পাশে আছি। ওর মামলা আমি আর করব না। একজন সিনিয়র আইনজীবীর সঙ্গে কীভাবে কথা বলতে হয় ও জানে না। বুধবার রাত সাড়ে ১২ টার সময় আমার ছেলেকে মেসেজ করে বলেছে আমাকে থাকার দরকার নেই। ওর প্রচণ্ড ঔদ্ধত্য। ওর জন্য দলটার সর্বনাশ হয়েছে। এখনও না বুঝলে কিছু করার নেই।“
আরও খবর: সই জাল কাণ্ডে আজই হাজিরা দিতে হবে অভিষেককে, নির্দেশ আদালতের

রাজ্য পালাবদলের পরে যখন তৃণমূলে ফাটল রোজই চওড়া হচ্ছে, তখন মুষ্টিমেয় যে কয়েকজন শীর্ষ নেতৃত্ব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে আছেন- কল্যাণ তাঁদের মধ্যে অন্যতম। লোকসভায় কাকলি ঘোষদস্তিদারকে সরিয়ে তাঁকে মুখ্য সচেতক করার পরেই সাংসদের বিদ্রোহের আগুনে ঘি পড়ে। তবে, কল্যাণ নেত্রীর পাশ ছাড়েননি। তবে, এদিন তাঁর মন্তব্যে তৃণমূলের অন্দরের অস্বস্তি আরও বাড়ল বলেই মত রাজনৈতিক মহলের।

–

–

–
–
–
