বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুরু হচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের সব থেকে বড় উতসব(FIFA World Cup)। আমেরিকা, মেক্সিকো, কানাডা এই তিন দেশে খেলবে ৪৮ দেশ। ভারতীয় ফুটবল প্রেমীদের শুধু রাত জাগলেই হবে না, ভোরে ঘুম থেকে উঠতে হবে কারণ ভারতীয় সময় অনুসারে বেশিরভাগ খেলাই সাত সকালে। লড়াইয়ে ৪৮ দেশ নামলেও ফেভারিটের তালিকায় কারা? কোন দেশগুলি বিশ্বকাপ জয়ের(FIFA World Cup) দাবিদার? তুলে ধরা হল এই প্রতিবেদনে।

প্রথমেই নাম আসে ফ্রান্সের। বিগত ১ দশকে বিশ্ব ফুটবলে সব থেকে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করছে ফরাসিরা। । ২০১৮ সালে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ২০২২ সালেও ফাইনালে পৌঁছেছিল এমবাপেরা। দিদিয়ের দেশঁর অধীনে ফ্রান্স দল এবারও হট ফেভারিট। তারুণ্য এবং অভিজ্ঞতার সংমিশ্রণে এবারও ফরাসিদের স্কোয়াড বেশ শক্তিশালী। এমবাপে তো আছেনই সঙ্গে গ্রিজম্যান, ডেম্বলে, ওলিসে আছেন। তবে ফ্রান্সের সমস্যা হতে পারে তারকাদের ইগো। এমবাপে দলের সঙ্গে কতটা মানিয়ে নিয়ে খেলতে পারবেন সেটা উপর ফ্রান্সের সাফল্য নির্ভর করবে।

তিকিতাকার দেশ স্পেন এবার ফেভারিটের তালিকায় থাকবে ২ নম্বরে। পজেশন-ভিত্তিক ফুটবলের সঙ্গে থাকছে গতিশীলতা এবং আক্রমণাত্মক মনোভাব। তরুণ ফুটবলাররা এবার স্পেনের শক্তি। ইয়ামাল ছাড়াও থাকছেন ডানি আমলো, পেড্রি, ফেরান তোরেসরা আছেন। তরুণ ফুটবলারদের সৌজন্যে নতুন যুগের স্পেন বিশ্ব ফুটবলে নিজেদের আধিপত্য ফেরানোর স্বপ্ন দেখছে।

গতবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা এবার খেতাব ধরে রাখার লড়াইয়ে নামছে। মেসিই এই দলের প্রাণ ভোমরা। অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মিশেলে গড়া স্কালোনির দল, শক্তিশালী মানসিকতা এবং গত চার বছরে ধারাবাহিক সাফল্য আর্জেন্তিনাকে অন্যতম ফেভারিট করে তুলেছে। ফিফা ক্রম তালিকা ১ নম্বর দেশ হিসাবে খেলতে নামছে আর্জেন্টিনা, ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের জন্য শিরোপা ধরে রাখা সহজ নয়। গতবারের দলই ধরে রেখেছেন স্কালোনি। তবে মেসির যেমন বয়স বেড়েছে তেমনই গতবারের পারফরম্যান্সের ধারে কাছে নেই ফুটবলাররা। তার উপর শেষ কয়েক বছরে শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে খেলেনি নীল সাদা বাহিনী।

২০০২ সালের পর থেকে বিশ্বকাপ জেতেনি ব্রাজিল। এবার হেক্সার স্বপ্ন নিয়ে খেলতে নামছে ব্রাজিল। কার্লো আনসেলোত্তির কোচিংয়ে এবার ষষ্ঠবার বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নামছে ব্রাজিল। কোনও ব্যক্তি নির্ভরতা নয়, দলীয় সংহতিকে কাজে লাগিয়ে বাজিমাত করতে চাইছে আন্সেলোত্তি। গোলে থাকছেন অভিজ্ঞ জুলিয়াস সিজার, ভিনিসিয়াস জুনিয়র ও এন্দ্রিকের মতো তরুণ তারকারা আক্রমণভাগে নেতৃত্ব দেবেন। অন্যদিকে নেইমার, কাসেমিরো ও অ্যালিসনের অভিজ্ঞতা দলকে বাড়তি শক্তি জোগাবে।

তালিকায় থাকবে পর্তুগাল। এই দেশটি কখনও বিশ্বকাপ জেতেনি। রোনাল্ডোর শেষ বিশ্বকাপ। বিশ্ব ফুটবলে সব কিছুই অর্জন করেছেন অধরা শুধু বিশ্বকাপটাই। গত বছর নেশনস লিগ জয়ের পর আত্মবিশ্বাসী অবস্থায় বিশ্বকাপে নামছে পর্তুগিজরা। মিডফিল্ড ও আক্রমণভাগে রয়েছে অসাধারণ গভীরতা। এবার অতিরিক্ত রোনাল্ডো নির্ভরতা নেই দলের। তরুণ ও অভিজ্ঞতার সংমিশ্রণে এবার পর্তুগাল দল খুবই ভারসাম্যযুক্ত।

–

–
–
–
