Sunday, February 8, 2026

‘দলবদলু’ নেতারা ভাবছেন, তৃণমূলের দরজা খোলা কঠিন, কিন্তু অসম্ভব নয়

Date:

Share post:

‘বড়’ দায়িত্ব পাওয়ার জল্পনা ছিল তুঙ্গে৷ কিন্তু গেরুয়া শিবিরের কেউই কথা রাখেনি৷

তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সময় দলের শীর্ষস্তরের নেতারাও আশ্বাস দিয়েছিলেন অচিরেই সম্মানজনক পদে নিয়ে আসা হবে তাঁদের৷ ফলে আশায় ছিলেন এই সব নেতারাও৷ সেই আশায় ২০১৯-এর লোকসভা ভোটে তৃণমূলকে পরাস্ত করতে মরিয়া হয়ে ঝাঁপিয়েছিলেন৷ সকলের সন্মিলিত চেষ্টায় রাজ্য থেকে ১৮টি আসনও পেয়ে যায় বিজেপি৷
বঙ্গ-বিজেপির যে নতুন রাজ্য কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে, সেখানে নামগন্ধও নেই এইসব নেতাদের৷ নেতাদের অনুগামীরা ক্ষুব্ধ, হতাশ৷ ঘনিষ্ঠ মহলে এই নেতারাও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন৷ অনেকের আবার প্রাথমিক প্রতিক্রয়া, ‘এভাবে দলবদল করে হয়তো ঠিক করিনি’৷
বিজেপির নতুন রাজ্য কমিটিতে নিখোঁজ শুভ্রাংশু রায়, শোভন চট্টোপাধ্যায়, বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়, অনুপম হাজরা, কাশেম আলি, ডাঃ অর্চনা মজুমদার, শঙ্কুদেব পাণ্ডা, নিশীথ প্রামানিক, বিপ্লব মিত্র, শান্তনু ঠাকুর৷এ ছাড়াও আছেন জনাকয়েক বিধায়ক৷ এরা প্রত্যেকেই গত লোকসভা নির্বাচনের আগে অথবা পরে তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক ঘুচিয়ে যোগ দিয়েছিলেন বিজেপিতে৷ কেউ কলকাতায়, কেউ দিল্লি গিয়ে হাতে তুলে নিয়েছিলেন পদ্ম-পতাকা৷ প্রত্যেককেই কথা দেওয়া হয়েছিলো, অন্যদল ছেড়ে আসার স্বীকৃতি দেবে বিজেপি৷ কিন্তু সেই আশা জল্পনাই থেকে গেলো৷ রাজ্য কমিটিতে ঠাঁই হয়নি একজনেরও৷ এই নেতাদের অনেকেই এখন রসিকতার শিকারও হচ্ছেন৷ তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েই কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা পাওয়া এক যুবনেতাকে তাঁর নিরাপত্তারক্ষীই প্রশ্ন করেছেন, “পদ পেলেন না, এখন নিরাপত্তারক্ষীও প্রত্যাহার করে নিলে কী হবে স্যর?”
‘কী হবে এখন?’ এই প্রশ্নই সোমবার বিকেল থেকে তাড়া করছে এসব নেতাদের৷ অনুগামীদের অনেকে ‘দাদা’-দের বোঝাচ্ছেন, “এখানে আর কিছু হবে না, আমরা তৃণমূলেই ফিরে যাই বরং”! অনেকে আবার এই প্রস্তাবের প্রেক্ষিতেই বলেছেন, “তৃণমূলে ফেরা সহজ নয়৷ অনেক বাধা আসবে৷ ক্ষমা চাইতে হবে৷ দাদাকেই সব ব্যবস্থা করতে হবে৷” হতাশ শঙ্কুদেব পাণ্ডা,অনুপম হাজরা, কাশেম আলি, ডাঃ অর্চনা মজুমদার, বিপ্লব মিত্ররা৷ নিশীথ প্রামানিক, শান্তনু ঠাকুররা দলের সাংসদ হলেও অপমানিত বোধ করছেন৷ এরা সবাই তৃণমূলকে ‘দেখিয়ে দেবেন’ মনোভাব নিয়েই বিজেপিতে এসেছেন৷ এদের অনেকেই এখন অপমানিত বোধ করছেন৷ ভবিষ্যতে কী করবেন, ভেবে চলেছেন৷ তৃণমূলের দরজা খোলা কঠিন, কিন্তু অসম্ভব নয়৷

অনেকেই এখন নতুনভাবে এই আশায় বুক বাঁধছেন৷ হতাশার সাগরে ভেসে যাওয়া এই নেতারা এখন ভেসে ওঠার দ্বীপ খুঁজছেন৷

spot_img

Related articles

কমিশন যেন ‘যেমন খুশি সাজো’র মঞ্চ, কমিশনার ‘টেলার স্যার’

দেশের গণতন্ত্র রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশন 'যেমন খুশি সাজো'-র মঞ্চ হয়ে উঠেছে। বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দিতে...

৭০ দিনে ১০ লক্ষ মানুষকে পরিষেবা, নজির গড়ল রাজ্যের ভ্রাম্যমাণ ইউনিট ‘স্বাস্থ্যবন্ধু’

দুয়ারে সরকার বা পাড়ায় সমাধানের পর এবার বাংলার মানুষের ঘরে ঘরে সুচিকিৎসা পৌঁছে দিতে বড় সাফল্য পেল রাজ্য...

বিরোধী রাজনীতি শিখতে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে প্রশিক্ষণ নিন! বিজেপিকে খোঁচা কল্যাণের

বিরোধী দল হিসেবে বিজেপি পুরোপুরি ব্যর্থ, তাই প্রকৃত বিরোধী রাজনীতির পাঠ নিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিজেপি নেতৃত্বের...

নাম না বদলালে খারাপ চেহারা দেখবে: এবার মনোজ বাজপায়ির সিনেমাকে হুঁশিয়ারি

কেন্দ্রে ক্ষমতায় বিজেপি। তাই বলেই কী আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মের সিনেমাকে হুমকি দেওয়ার ক্ষমতা অর্জন করা সম্ভব হয়? কার্যত সেই...