কৃষ্ণাঙ্গ ফ্লয়েডের হত্যায় অভিযুক্ত পুলিশের স্ত্রী চাইলেন বিবাহ বিচ্ছেদ

কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুতে ‘থার্ড ডিগ্রি’ খুনের দায়ে অভিযুক্ত মিনেপোলিসের প্রাক্তন পুলিশ অফিসার ডেরেক শেভিনের স্ত্রী বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা করলেন।

এদিকে, আফ্রিকান- আমেরিকান ফ্লয়েডের দেহের প্রথম ময়না তদন্তের রিপোর্টে মৃত্যুর কারন হিসেবে হৃদরোগে বলা হলেও, পরের দু’টি রিপোর্টেই বলা হয়েছে, তাঁকে হত্যা করা হয়েছে৷ আর এই হত্যার দায় চেপেছে ডেরেক শেভিনের ঘাড়েই৷

কৃষ্ণাঙ্গ ফ্লয়েডের মৃত্যু হয়েছে গত ২৫ মে। গোটা দুনিয়া ছবিতে দেখেছে,
প্রায় ৯ মিনিট ধরে ফ্লয়েডের গলা হাঁটু দিয়ে চেপে ধরেছিলেন পুলিশ অফিসার ডেরেক শেভিন। ৪৬ বছরের ফ্লয়েডকে বলতে শোনা যায়, “আমি নিঃশ্বাস নিতে পারছি না।” তবুও ছাড়েননি শেভিন।

ফ্লয়েড-হত্যা নিয়ে গোটা মার্কিন মুলুকে তীব্র প্রতিবাদ বিক্ষোভ চলছে। বিক্ষোভ দমনে সেনা নামানোর কথা বলেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প৷

আর এসবের মাঝেই ‘নীরব বিপ্লব’ ঘটালেন অভিযুক্ত পুলিশ অফিসার ডেরেক শেভিনের স্ত্রী,
৪৫ বছরের কেলি মে শেভিন৷ তিনি সরাসরি বিবাহ বিচ্ছেদের মামলাই করে দিয়েছেন। ফ্লয়েডের মৃত্যুতে থার্ড ডিগ্রি খুনের দায়ে যে দিন ডেরেককে পুলিশি গ্রেপ্তার করার পরেই এই সিদ্ধান্ত নেন কেলি।

ডেরেকের সঙ্গে কেলির বিয়ে হয় ১০ বছর আগে৷ কেলি তাঁর ৮ পাতার বিচ্ছেদ-আবেদনে বলেছেন, তিনি তাঁর শেষ নামটা পালটাতে চান। শেভিন পদবি বহন করা তাঁর পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না৷ সে কারনেই তিনি বিচ্ছেদ চাইছেন৷

কেলি কোনো খোরপোষ চাননি। বিচ্ছেদ-আবেদনে বলা হয়েছে, ২৮ মে থেকে “দু’ জনে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছেন”। বলেছেন, “এই মুহুর্তে আমি কর্মহীন হলেও, নিজের ভরণপোষনে সক্ষম৷ তাই আমার কোনও ধরনের খোরপোষের প্রয়োজন নেই৷ অস্থায়ী বা স্থায়ী ভাবে খোরপোষ চাওয়ার যে অধিকার রয়েছে, তা আমি ত্যাগ করলাম”৷

মিনেসোটা আমেরিকান প্যাজেন্ট পুরস্কারে ভূষিত কেলি মে শিশু-উদ্বাস্তু হিসাবে লাওস থেকে মার্কিন মুলুকে এসেছিলেন।