Wednesday, March 4, 2026

ভারভারা রাওয়ের অবস্থার অবনতি, শেষ পর্যন্ত ভর্তি করা হলো হাসপাতালে

Date:

Share post:

৮১ বছরের কবি এবং সমাজকর্মী ভারাভারা রাওয়ের স্বাস্থ্যের গুরুতর অবনতি হওয়ায় সোমবার রাতেই তাঁকে স্যার জে জে হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। হাসপাতালের ডিন ডাঃ রঞ্জিত মানকেশ্বর জানিয়েছেন, রাওকে হাসপাতালে আনা হয়েছে এবং ডাক্তাররা পরীক্ষা করছেন। এর আগে ভারভারা রাওকে একবার হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও, তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এদিকে, তালোজার জেল কর্তৃপক্ষ এখনও স্বীকার করতে চাইছেনা যে রাও গুরুতর অসুস্থ এবং তার জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন।ওদিকে, এই তেলুগু কবি’র স্ত্রী-কন্যা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, কারাগারেই মৃত্যু হতে পারে রাওয়ের৷

২০১৮ সালে এলগার পরিষদ মামলায় রাওকে পুনে থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। করোনা সংক্রমণের ভয়, শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও তাঁর জামিনের আর্জি সাম্প্রতিককালে ৫ বার খারিজ হয়েছে।তেলেগু কবির স্ত্রী হেমলতা ও তিন কন্যা আশঙ্কা প্রকাশ করে এক বিবৃতিতে রবিবার বলেন, জেলের মধ্যে যে কোনও সময় মৃত্যু হতে পারে বিশিষ্ট তেলুগু কবি- সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী ভারভারা রাও-এর৷ রাওয়ের স্ত্রীর কাতর আর্জি, “ভারভারা রাওকে দয়া করে আপনারা জেলের ভিতর মেরে ফেলবেন না।” ওই প্রেস বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত প্রায় ৬ সপ্তাহ ধরে ৮১ বছরের রাও-এর শারীরিক অবস্থা সঙ্কটজনক। চিকিৎসা হচ্ছে না৷ বলা হয়েছে, গত ২৮শে মে তালোজা জেলে অজ্ঞান হয়ে পড়ার পরে ভারভারা রাও’কে সরকারি জে জে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো৷ কয়েক দিনের মধ্যে তাঁকে ছেড়েও দেওয়া হয়। কিন্তু অবস্থার কিছুই উন্নতি হয়নি।

শনিবার, ১২ জুলাই ভারভারা রাও রুটিনমতোই ফোন করেন। কিন্তু পরিবারের সঙ্গে কোনও কথাই ঠিকমতো বলতে পারেননি। তিনি কথা ভুলে যাচ্ছেন। ফিরে যাচ্ছেন, তাঁর পিতা-মাতার মৃত্যুর কথায় যা ৫০ বছর আগে ঘটেছিল। বাকি কথাও অসংলগ্ন। কথার মধ্যে হিন্দিও বলছেন।

এক সহবন্দি ফোনে রাওয়ের পরিবারকে জানান, লেখক-কবির আর নিজে দাঁত মাজার ক্ষমতা পর্যন্ত নেই। নেই চলাফেরার শক্তি। নিজের দৈনন্দিন কাজটুকুও আর করতে পারছেন না। ভুগছেন হ্যালুসিনেশনে। সোডিয়াম-পটাসিয়ামে ভারসাম্য নেই৷ রয়েছে স্নায়বিক সমস্যাও৷ জে জে হাসপাতালের রিপোর্টেও এ সব কথা বলা ছিল। পরিবারের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে৷ পরিবার সরকারের কাছে আবেদন করেছে রাওয়ের যেন কোনও সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে চিকিৎসা হয়। তাঁর যে শারীরিক, মানসিক ও স্নায়বিক সমস্যা দেখা দিয়েছে তার জন্য বিশেষ চিকিৎসা প্রয়োজন। জেল কর্তৃপক্ষ যদি তা না পারেন, তা হলে পরিবারকে অনুমতি দেওয়া হোক তাঁর চিকিৎসা করানোর।

ওই বিবৃতিতে এ কথাও বলা হয়েছে, কেন তাঁকে অন্যায় ভাবে গ্রেপ্তার করা হল সে প্রশ্ন এখন তারা তুলছে না৷ এখন একমাত্র চিন্তা তাঁর সুচিকিৎসা। কারণ বিচারাধীন বন্দিরও জীবনের অধিকার আছে।

এর পর, সোমবার বিকেল থেকে রাওয়ের অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটতে থাকে৷ পরিস্থিতি বেগতিক দেখে শেষপর্যন্ত রাতে তাঁকে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে৷

spot_img

Related articles

ইএসআই পরিষেবায় নয়া দিগন্ত, বেসরকারি ক্লিনিকে এবার ডিসপেনসারি চালুর পথে রাজ্য 

ইএসআই-ভুক্ত শ্রমিক ও তাঁদের পরিজনদের প্রাথমিক চিকিৎসা পরিষেবা আরও নিবিড় ও মজবুত করতে বড়সড় পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার।...

কমিশনের ফুল বেঞ্চ আসার আগেই কলকাতায় প্রতিনিধি দল, উচ্চপর্যায়ের বৈঠক বৃহস্পতিবার

রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতে শুরু করেছে। নির্বাচনের প্রস্তুতি কতটা এগোল, তা সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে রাজ্যে আসছে...

তিনমাসের মধ্যেই বিহারে মুখ্যমন্ত্রী বদল: নীতীশকে রাজ্যসভায় ‘রাজনৈতিক বাণপ্রস্থে’ পাঠাচ্ছে BJP! 

সরকার গঠনের তিনমাস যেতে না যেতেই ফের বিহারে মুখ্যমন্ত্রী বদলের ইঙ্গিত। কারণ, মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারকে (Nitish Kumar) রাজ্যসভা...

স্বামীর মৃত্যুর সুযোগ নিয়ে ধর্ষণ! ‘বিজেপি পার্টি অফিসে ধর্ষণে’র ঘটনায় সরব তৃণমূল

বিজেপি রাজ্যে নারী সম্মানের তলানিতে থাকা অবস্থা কারো অজানা নয়। বাংলাতে কিছু আসন জিততে বঙ্গ বিজেপির নেতারা সেই...