Monday, June 8, 2026

ছি:-লজ্জা! ৬ ঘন্টা মাটিতে পরে থেকে মৃত্যু বৃদ্ধার, অমানবিক কলকাতার কথা জানলে শিউরে উঠবেন

Date:

Share post:

ফের অমানবিকতার ছবি দেখল কলকাতা। এ লজ্জা আমার- আপনার- সবার। আমরা যারা নিজেকে শিক্ষিত বলে বড়াই করি, তারা যে এমন নির্মম আচরণ করতে পারেন তার দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল কলকাতা। শ্যামপুকুরে 6 ঘন্টা যন্ত্রণায় মাটিতে পড়ে গোঙালেন এক বৃদ্ধা। অথচ তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে এলো না কেউই। না ।এগিয়ে আসেনি তার পরিজনরা, এগিয়ে আসেননি প্রতিবেশীরাও। দু’একজন যারা এসেছিলেন তাদের যতটা না ছিল দায়িত্ববোধ, তার থেকে অনেক বেশি ছিল কৌতূহল। জানলা দিয়ে উঁকি মেরে দায় সেরেছেন তারা।
খবর পেয়ে এলেন না চিকিৎসকও, এমন দাবি পরিবারের। সকাল থেকে প্রায় বিকেল পর্যন্ত কেউ বৃদ্ধাকে তুললেন না। প্রায় ৬ ঘন্টা পর খবর পেয়ে শেষে উত্তর কলকাতার শ্যামপুকুর থানার পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে। হাসপাতালে নিয়ে গেলে বৃদ্ধাকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটল শ্যামপুকুরের বৃন্দাবন পাল লেনে।
পুলিশ জানিয়েছে, ওই বৃদ্ধার নাম ছায়া চট্টোপাধ্যায় (৭০)। বৃন্দাবন পাল লেনের একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন তিনি। তাঁর স্বামী অনুপ চট্টোপাধ্যায় আগেই মারা গিয়েছেন। পাশের ঘরেই তাঁর দেওর পরিবার নিয়ে থাকেন। কয়েকদিন আগে পড়ে গিয়ে তিনি পায়ে আঘাত পান। সেখান থেকে তাঁর পায়ে ঘা হয়ে যায়। তার ফলে অসুস্থ হয়ে পড়ে ছিলেন বৃদ্ধা।
পুলিশের সূত্র জানিয়েছে, বউদির সঙ্গে দেওরের পরিবারের সম্পর্ক খুব একটা ভাল ছিল না। তাই পাশের ঘরে পরিজন থাকা সত্ত্বেও একাকী ছিলেন তিনি। সকাল সাড়ে নটা নাগাদ তাঁর অবস্থা দেখেও দেওর নিজে গিয়ে বউদিকে ছোঁননি। একে একে কয়েকজন প্রতিবেশী আসেন। ঘরের বাইরে থেকে উঁকি মেরে দেখে চলে যান। জানা গিয়েছে, তখনও বৃদ্ধা বেঁচে ছিলেন। কিন্তু করোনার আতঙ্কে কেউ তাঁকে তোলার সাহসটুকু দেখাননি।
পুলিশের দাবি, ওই অবস্থায় যদি বৃদ্ধাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া অথবা পুলিশকে খবর দেওয়াও হত, তাহলে বৃদ্ধা হয়তো প্রাণে বেঁচে যেতেন। কিন্তু এভাবে সকাল থেকে বিকেল তিনটে পর্যন্ত পড়ে ছিলেন বৃদ্ধা। এতটাই মর্মান্তিক যে তাঁর মুখে সামান্য জল দেওয়ার জন্যও কেউ এগিয়ে আসেননি।
পুলিশ বা পুরসভাকে তা জানাননি কেন, সেই উত্তর দিতে পারেননি পরিজন অথবা অন্য প্রতিবেশীরাও।
পুলিশ যখন তাকে উদ্ধার করে ততক্ষণে সমস্ত ঘৃণা, লজ্জা, অমানবিকতা, নিষ্ঠুরতাকে বিদায় জানিয়ে ইহলোক ত্যাগ করেছেন তিনি। সঙ্গে রেখে গিয়েছেন একরাশ প্রশ্ন। এ কোন পথে এগোচ্ছে সমাজ? এ কোন আলেয়ার দিকে দৌড়াচ্ছি আমরা । ধিক শত ধিক ।

Related articles

কল্যাণের পরে এবার ইডি দফতরে শ্রেয়া পাণ্ডে! ‘স্বেচ্ছায় হাজিরার’ সাফাই

সরকারি-বেসরকারি জমি দখল এবং অবৈধ নির্মাণ সংক্রান্ত বে-নিয়মের মামলায় এবার ইডি (ED) দফতরে তৃণমূল নেত্রী শ্রেয়া পাণ্ডে (Shreya...

দিল্লি বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড সাপোর্ট ইকুইপমেন্টের ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত তিনটি বিমান

দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে(Delhi airport) রবিবার বিকেলে ঝোড়ো হাওয়ায় গ্রাউন্ড সাপোর্ট ইকুইপমেন্ট সরে গিয়ে পার্কিংয়ে থাকা এয়ার...

আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ডের টিম হোটেলের কাছেই হামলা, প্রশ্নের মুখে বিশ্বকাপের নিরাপত্তা

বিশ্বকাপ (FIFA World Cup)শুরু হতে মাত্র কয়েকদিন বাকি, তার আগে বন্দুকবাজের হামলা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে(USA)৷ একটি আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম...

কেন লোকসভার স্পিকারের কাছে যেতে পারলেন না তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা?

বিধানসভার মতো লোকসভা ও রাজ্যসভার ভাঙনে আপাতত ব্যর্থ হল তৃণমূলের(TMC) তথাকথিত বিদ্রোহীরা। তবে চেষ্টা অব্যাহত। বিজেপি যেভাবে "প্রলোভনের...