Monday, April 6, 2026

মহামারির জেরে কর্মসংস্থানে সঙ্কট, পেট চালাতে স্পার্ম বিক্রিই ভরসা!

Date:

Share post:

মহামারির জেরে একাধিক দেশেই কর্মসংস্থানে সঙ্কট দেখা দিয়েছে । বেঁচে থাকার তাগিদে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তরুণদের মধ্যে বেড়েছে শুক্রাণু বিক্রির প্রবণতা । ইজরায়েলে এই মুহুর্তে শুক্রাণু বিক্রির হার সর্বাধিক ।
সে দেশের সরকারি হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, অন্যান্য সময়ের তুলনায় এই হার ১০০ থেকে ৩০০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। বেসরকারি হাসপাতালে বেড়েছে ১৫ থেকে ৩০ শতাংশ। একজন ডোনার প্রতি মাসে স্পার্ম বিক্রি করেই ৪ হাজার শেকেল (ভারতীয় মুদ্রায়- প্রায় ৭০ হাজার টাকা) আয় করছেন।
সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে দেখা গিয়েছে, শুক্রাণু দাতাদের অধিকাংশ শিক্ষার্থী এবং সামরিক বাহিনীর সদস্য। করোনার কারণে যাদের চাকরি চলে গিয়েছে বা বেতন ছাড়াই ছুটিতে রয়েছেন তারাই শুক্রাণু বিক্রির পথে হাঁটছেন।
পরিসংখ্যান বলছে, ইজরায়েলে বেকারত্বের হার বেড়ে ২১.১ শতাংশে পৌঁছিয়েছে। সংখ্যার হিসাবে যা প্রায় ৯ লক্ষ ।
করোনা সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। ফলে বিধিনিষেধও বেড়েছে । যার নেতিবাচক প্রভাব অর্থনীতিতে পড়েছে । দ্রুত সঙ্কট থেকে স্বাভাবিক জীবনে দেশকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন সেদেশের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
ইজরায়েলের সরকারি এবং বেসরকারি স্পার্ম ব্যাঙ্কগুলিতে একবার শুক্রাণু দিলে ২ হাজার ইজরায়েলি মুদ্রা দেয়। গেল কয়েক সপ্তাহে শুক্রাণু বিক্রির এই হার ৩০০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে বলেও জানানো হয়েছে ।
২৪ বছরের তরুণ অ্যালন ডিসুজা বলেন, ‘তিনি তাঁর চাকরি হারিয়েছেন। তাকে জোর করে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। ভাড়া পরিশোধ করতে না পারায় পরিবারসহ বাড়ি ছাড়তে হয়েছে।’
যখন ভাবছিলেন কিভাবে রোজগার করবেন, তখন তিনি স্থানীয় মেডিকেল সেন্টারের একটি বিজ্ঞাপন দেখতে পান। যেখানে হাসপাতালের স্পার্ম ব্যাঙ্কের জন্য ডোনার চাওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘আমি সিদ্ধান্ত নিলাম এটি অর্থ আয়ের ভালো একটি সুযোগ। চ্যানেল টুয়েলভকে অ্যালন বলেছেন , মাত্র কয়েক মিনিটে, আয় করতে পারি কোনও পরিশ্রম ছাড়াই। মাসে ৩ হাজার শেকেল (৮৭৯ মার্কিন ডলার) আয় করা যায়। বেকার থাকা অবস্থায় অনেক ভালো আয় এটা।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার পরিচিত বহু তরুণ আছে। যারা করোনার কারণে চাকরি হারিয়েছে। তাদের অনেকে বেসরকারি স্পার্ম ব্যাঙ্কে, হাসপাতালে স্পার্ম বিক্রি করছে। যাতে তারা ভয়াবহ এই পরিস্থিতিতে টিকে থাকতে পারে।’
জানা গিয়েছে, সরকারি হাসপাতালে একজন ডোনার সপ্তাহে দু’বার স্পার্ম ডোনেট করতে পারেন। প্রতিবার ডোনেট করার জন্য ৬০০ শেকেল আয় করেন। মাসে যার পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ হাজার ৮০০ শেকেল।
এই আয় থেকে সরকারকে কোনও ট্যাক্স দিতে হয় না। মহামারির শুরুতে দেশটিতে লকডাউন এবং স্পার্ম থেকে করোনা ছড়াতে পারে এমন আতঙ্কে ডোনেশন প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়।
ফলে অনলাইনে স্পার্ম বিক্রি বেড়ে যায় । বিভিন্ন শপিং সাইটের মাধ্যমে স্পার্ম বিক্রি করছেন ইজরায়েলের পুরুষরা।
এই মুহূর্তে ইজরায়েলের অন্যতম বড় সমস্যা বন্ধ্যাত্ব। সেখানে এই সাইটগুলি অনেকের কাছেই আশীর্বাদের মতো।

Related articles

‘মমতা দিদি’র দেখানো পথে আবগারি দুর্নীতি মামলায় নিজেই সওয়াল করতে চলেছেন কেজরিওয়াল

মমতা দিদির দেখানো পথে হেঁটে এবার আবগারি দুর্নীতি মামলায় দিল্লি হাই কোর্টে (Delhi High Court) নিজেই  সওয়াল করতে...

কলকাতা নিয়ে পাকিস্তানের হুমকি: কেন মোদি বললেন না স্ট্রং অ্যাকশন হবে, জবাব দাবি মমতার

দেশের ব্যর্থ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কারণে এখনও দেশের মানুষের মনে পহেলগাম হামলার ক্ষত গদগদে। এক বছর না পেরোতেই ফের...

সপ্তাহের শুরুতেই ব্যাহত মেট্রো পরিষেবা! এমজি রোড স্টেশনে ঝাঁপ

সপ্তাহের শুরুর দিনে ব্যাহত মেট্রো (Kolkata metro Service) পরিষেবা। সোমবার সকাল ১১ টা ৩৫ নাগাদ এক যুবক এমজি...

১২৭০ কোটির চুক্তি! অরুণাচলের মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ

সরকারি চুক্তি বণ্টন নিয়ে অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী (Arunachal CM) পেমা খাণ্ডুর (Pema Khandu) বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে সিবিআই তদন্তের...