Thursday, January 15, 2026

আমফান বিধ্বস্ত বই পাড়ার পাশে কামাল হোসেনের সংগঠন

Date:

Share post:

করোনা মহামারিতে এমনিতেই ব্যবসায় মন্দা। গোদের উপর বিষ ফোঁড়ার মতো তাণ্ডব চালিয়েছে সুপার সাইক্লোন আমফান। ভয়ঙ্কর ঘূর্ণি ঝড়ের দাপটে তছনছ হয়ে গিয়েছে কলেজ স্ট্রিটের ঐতিহ্যবাহী বই পাড়া। খড়কুটোর মত উড়ে গিয়েছে একের পর এক বুক স্টল। ট্রাম লাইনের উপর গড়াগড়ি খেয়েছে বই। শোনা গিয়েছে পুস্তক বিক্রেতাদের হাহাকার।

এবার সেই আমফানে ক্ষতিগ্রস্ত প্রান্তিক পুস্তক বিক্রেতাদের পাশে দাঁড়াল শিক্ষাবিদ কামাল হোসেনের প্রকাশক সংগঠন। সামর্থ্য অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত বই বিক্রেতাদের হাতে তুলে দেওয়া হলো আর্থিক সাহায্য। তবে এটা শুরু, এখনও অনেক কাজ বাকি।

কামাল হোসেন জানান, আমফান পরবর্তী সময়ে তাঁদের ডাকে সাড়া দিয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন অনেক বিশিষ্ট জন। এখনও পর্যন্ত ২৫টি চেক এসেছে। সেগুলি আজ তুলে দেওয়া হলো ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে। যার মধ্যে বলিউডের সুপারস্টার শাহরুখ খান থেকে শুরু করে প্রাক্তন ক্রিকেটার এরাপল্লী প্রসন্ন, শিল্পপতি হর্ষ নেউটিয়াদের মতো মানুষ আর্থিক সাহায্য নিয়ে এগিয়ে এসেছেন। শুধু তাই নয়, লন্ডনের এক পুজো কমিটিও আর্থিক সাহায্য করেছে।

আজ, বুধবার আমফান বিধ্বস্ত বই পাড়ার বই বিক্রেতাদের সহায়তাকল্পে সাহায্য তুলে দিলো পশ্চিমবঙ্গ প্রকাশক সভা। এই সংস্থার সভাপতি শিক্ষাবিদ কামাল হোসেন। এদিন প্রথম পর্বে ২৫ জন ক্ষতিগ্রস্ত পুস্তক বিক্রেতার হাতে চেক তুলে দেওয়া হয় সংগঠনের পক্ষ থেকে। এরপর ধাপে ধাপে কলকাতা-সহ ৫ জেলার আমফান ক্ষতিগ্রস্থ প্রায় ৩০০ জন পুস্তক বিক্রেতাকে সাহায্য করবেন তাঁরা। এই মানবিক উদ্যোগে কামাল হোসেনের সঙ্গে ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শংকর মন্ডল, বিশিষ্ট প্রকাশক শিশিরবিন্দু চৌধুরী ও অন্যরা।

দুর্গত পুস্তক বিক্রেতাদের হাতে চেক তুলে দেওয়ার পর শংকর মন্ডল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর কাছে পুস্তক বিক্রেতা ও প্রকাশকদের পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানান। তাঁদের দাবি, কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ পরিচালনায় রাজা রামমোহন রায় ফাউন্ডেশন যেন প্রকাশকদের বাঁচাতে
এগিয়ে আসে। এই ফাউন্ডেশনের তহবিলে সঞ্চিত ৪ কোটি টাকা যেন বই কেনার কাজে এবার ব্যাবহৃত হয়।

পাশাপাশি, রাজ্য সরকারের স্কুল শিক্ষা দফতরের অধীনে থাকা সর্বশিক্ষা মিশন তাদের বাজেটের ২৫ কোটি টাকার বই ক্রয় করলে দুঃস্থ প্রকাশকদের উপকার হবে। পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাদা শিক্ষা পর্ষদও কোনও এক অজ্ঞাত কারণে বই কিনছে না। প্রায় ৩ কোটি টাকার বই কেনার কথা তাদের। সেটা হলেও প্রকাশকদের প্রভূত উপকার হবে।

spot_img

Related articles

আড়াই মাসে প্রায় ৩০ লক্ষ টন, খরিফে ধান সংগ্রহে গতি রাজ্যের

রাজ্য খাদ্য দফতরের ধান সংগ্রহ অভিযানে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। চলতি খরিফ মরসুমে সরকারি সহায়ক মূল্যে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের...

এসআইআর আতঙ্কে রাজ্যে মৃত ২! আত্মঘাতী বিএলও 

এসআইআর শুনানি ও অতিরিক্ত কাজের চাপকে কেন্দ্র করে রাজ্যে মৃত্যুর ঘটনা থামছেই না। বৃহস্পতিবার মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ ও লালগোলায়...

ইতিহাস গড়ল গঙ্গাসাগর! পুণ্যস্নানে ১ কোটি ৩০ লক্ষ পুণ্যার্থী 

‘সব তীর্থ বারবার, গঙ্গাসাগর একবার’-এর টানেই আধ্যাত্মিকতা, বিশ্বাস ও বিপুল জনসমাগমের এক অনন্য মহামিলনে পরিণত হল গঙ্গাসাগর মেলা...

সুখবর! বেতন বৃদ্ধি হচ্ছে এসএসকে-এমএসকে শিক্ষকদের, বিজ্ঞপ্তি জারি স্কুল শিক্ষা দফতরের

নতুন বছরে সুখবর এসএসকে ও এমএসকে শিক্ষকদের জন্য। পয়লা ফেব্রুয়ারি থেকে তাঁদের ৩ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই...