১২ কেজির পেল্লায় চিতলে হইচই জলপাইগুড়িতে

দীর্ঘদিনের মাছ শিকারি তিনি। স্বপ্ন ছিল বড় রাঘব বোয়াল ধরবেন। তবে রাঘব- বোয়াল না হলেও ১২ কেজির পেল্লাই চিতল ধরে জলপাইগুড়িতে রীতিমতো বিখ্যাত হয়ে গেলেন বাপ্পা দাস। রাক্ষুসে মাছ নিয়ে রীতিমতো হইচই পড়েছএ জলপাইগুড়ির রাজবাড়ি পাড়ায়। লোকে রীতিমতো ভিড় করে দেখতে আসছে মাছ। সেইসঙ্গে মাছের সঙ্গে পোজ দিয়ে চলছে সেলফি তোলা।

জলপাইগুড়ি এলাকার নাম করা মাছ শিকারি বাপ্পা দাস।সকালবেলাতেই ছিপ ফেলেছিলেন জলপাইগুড়ি রাজবাড়ি দিঘিতে। কিছুক্ষণের মধ্যেই নড়ে ফাতনা। আর তার নড়ার ধরন দেখেই অভিজ্ঞ মাছ শিকারি বুঝতে পারেন হবে কোন রাঘববোয়াল। হুইল ছিপে বিশাল চিতল ধরে আহ্লাদে আটখানা তিনি।

আরও পড়ুন : প্রধানমন্ত্রী অজয় পুত্র যুগের প্রশংসা কেন করলেন জানেন!

জলপাইগুড়ির ভাটা খানা এলাকার বাপ্পা দাস। মাছ ধরার নেশা। মধ্যবয়স্ক বাপ্পা বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে প্রচুর মাছ ধরেছে। তবে হুইল ছিপে ১২ কেজি ওজনের চিতল ধরতে পারবেন ভাবতে পারেননি।বাপ্পা জানালেন, শনিবার মাছ ধরার নেশায় সাতসকালেই রাজবাড়ির দীঘিতে ছিপ ফেলে বসেছিলেন। বেশ কিছুক্ষণ বসে থাকার পর আচমকা টান পড়ে বঁড়শিতে। ঝপ করে ডুবে যায় ফাতনা। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় তিনি বুঝতে পারেন, বঁড়শির টোপ যে গিলেছে সেটি গায়ে-গতরে বেশ বড়ই হবে।

তারপর শুরু হয় মাছে-মানুষে খেলা। তিনি একবার সুতো ছাড়তে থাকেন, একবার গোটান। বঁড়শিতে আটকানো মাছের টানে একসময় ছিপ ভাঙার জোগাড় হয়। মনে হয় এই বুঝি সুতো সহ বঁড়শি নিয়ে মাছ বিদেয় হল। কিন্তু দীর্ঘদিনের মাছ ধরার সুবাদে ধৈর্য যে এখানে বড় জিনিস বিলক্ষণ জানতেন বাপ্পা। তাই তিন ঘণ্টা ধরে মাছকে ল্যাজে খেলাতে থাকেন তিনি। একসময় ক্লান্ত হয়ে পড়ে বিশাল মাছ। তারপর যখন তোলেন তখন বুঝতে পারেন, বিশাল নয় রীতিমতো রাক্ষুসে চিতল।

এত বড় মাছ ধরে রীতিমতো গর্বিত বাপ্পা দাস। তাঁর কথায়, “এই দিঘিতে বড় বড় চিতল আছে শুনেছিলাম। কিন্তু এত বড় মাছ কোনওদিন দেখিনি। আর এত বড় মাছ যে আমার ছিপে উঠবে তা কখনও ভাবিনি। অবশ্যই এই দিনটা মনে রয়ে যাবে”।

আর অত বড় চিতলের গতি কি হল!

না, বিক্রি করেননি মৎস্য প্রেমী বাপ্পা দাস। বরং ওই মাছ কাটিয়ে মাছ ধরার খুশিতে তাঁর আত্মীয়-স্বজন পাড়া-প্রতিবেশীর মধ্যে বিলিয়েছেন।