Monday, February 2, 2026

চলছে পুজোর শেষ প্রস্তুতি,মানতে হবে অতিমারির শৃঙ্খলা

Date:

Share post:

খায়রুল আলম (ঢাকা) : দুয়ারে কড়া নাড়ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দূর্গোপুজা। আর এজন্য প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ততা বেড়েছে কুমোর পাড়ার শিল্পীদের। শারদীয় দূর্গোৎসবের বাকি আর মাত্র তিন সপ্তাহ। প্রতিমায় পড়ছে দোমাটির প্রলেপ। অতিমারির এই সময়ে সমস্ত নিয়ম কানুন মেনেই সৌহার্দ্যপূর্ন পরিবেশে উৎসব উদযাপনের সার্বিক প্রস্তুতি নিচ্ছেন আয়োজকরা।

শরতের সাদা কাশফুল আর শিউলি ফুলের সুঘ্রান জানান দিচ্ছে শারদোৎসবের আর বেশি দিন বাকি নেই। বছরের অপেক্ষা শেষে আবারও দেবী দূর্গার হিরন্ময়ী প্রভায় আলোকিত হবে পৃথিবী। সাথে থাকবেন লক্ষ্মী, স্বরস্বতী, কার্তিক আর গনেশ। পূজার আনুষ্ঠানিকতা আর উৎসব আনন্দে ভাসবে সনাতন ধর্মবলম্বীরা।
সময় যেহেতু খুব বেশি নেই তাই প্রতিটি প্রতিমাতেই পড়ছে দোমাটির প্রলেপ। দিনরাত এক করে নিপুন হাতের কারুকার্যে প্রতিমাগুলোকে ফুটিয়ে তুলছেন শিল্পীরা।

এ বছর সারাদেশে দূর্গাপূজা কতটি মন্ডপে অনুষ্ঠিত হবে তার সঠিক সংখ্যা এখনো জানা না গেলেও আয়োজক সংশ্লিষ্ঠরা ধারণা করেছেন এই সংখ্যা ৩০ হাজারের অধিক হবে। হবে ৩১ হাজারেরও বেশি, আর রাজধানী ঢাকাতে তিন শতাধিক। গত বছর ২০১৯ সালে সারাদেশে ৩১ হাজার মন্ডপে পুজো অনুষ্ঠিত হয়েছিলো।
দূর্গোৎসবের সার্বিক প্রস্তুতি নিচ্ছে সকল পূজা উদযাপন কমিটি। উদযাপন কমিটির নেতাদের ভাষ্যমতে এবার দেবী দূর্গার আগমন ঘটবে ঘটকে আর্থাৎ ঘোড়ায়, যাবেনও ঘোড়ায় চড়ে। তাই সমাজ-সংসারে অস্থিরতা, সম্ভাবনা রয়েছে দুর্যোগেরও। তবে দেবী দূর্গার আশির্বাদে ধরনীর সকলেই সুখ শান্তিতে থকবেন সে অপেক্ষায় পুন্যার্থীরা।

এদিকে মহামারি করোনা ভাইরাসে এবারের দুর্গোৎসবের সেই চির পরিচিত আর আমেজ থাকছে না। মহালয়া থেকে শুরু করে শারদীয় এই উৎসবের সব ক্ষেত্রেই থাকছে স্বাস্থ্যবিধির কড়া নির্দেশ। এনিয়ে গত ২৬ আগস্ট বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মিলন কান্তি দত্ত ও সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার চ্যাটার্জি পূজা সংক্রান্ত বিষয়ে সারাদেশের পূজা উদযাপন পরিষদ, মন্দির ও পূজা কমিটির কাছে ২৬ দফার একটি নির্দেশনা পাঠিয়েছেন।

ওই চিঠিতে জানানো হয়, হিন্দু রীতি অনুযায়ী মহালয়া, বোধন আর সন্ধিপূজা- এই তিন পর্ব মিলে অনুষ্ঠিত হয় দুর্গোৎসব। সাধারণত আশ্বিন মাসের শুক্ল পক্ষের ষষ্ঠ থেকে দশম দিন হয় দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা। আশ্বিন মাসের এই শুক্ল পক্ষকে বলা হয় দেবীপক্ষ। দেবীপক্ষের শুরু হয় যে অমাবস্যায়, সেদিন বলা হয় মহালয়া। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, সেদিন ‘কন্যারূপে’ মর্ত্যে আসেন দেবী দুর্গা।
এ বছর মহালয়া হয়েছে ১৭ সেপ্টেম্বর। কিন্তু পঞ্জিকার হিসাবে এবার আশ্বিন মাস ‘মল মাস’, মানে অশুভ মাস। সে কারণে এবার আশ্বিনে দেবীর পূজা হবে না। পূজা হবে কার্তিক মাসে। সেই হিসাবে এবার দেবী দুর্গা ‘মর্ত্যে আসবেন’ মহালয়ার ৩৫ দিন পরে।

পঞ্জিকা অনুযায়ী, ২২ অক্টোবর মহাষষ্ঠী তিথিতে হবে বোধন। পরদিন সপ্তমী পূজার মাধ্যমে শুরু হবে দুর্গোৎসবের মূল আচার অনুষ্ঠান। ২৬ অক্টোবর মহাদশমীতে বিসর্জনে শেষ হবে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।

এবারের পূজা উদযাপন পরিষদের ২৬ দফার যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে তাতে বলা হয়েছে :

১। মহালয়ার আয়োজন স্বাস্থ্য বিধি মেনে সীমিত আকারে করতে হবে
২। প্রতিমা তৈরি থেকে পূজা সমাপ্তি পর্যন্ত প্রতিটি মন্দিরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা
৩। ভক্ত-পূজারি ও দর্শনার্থীদের জীবাণুমুক্ত করার ব্যবস্থা রাখা
৪। সকলে বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক পরা, দর্শনার্থীদের মধ্যে ন্যূনতম তিন ফুট শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা
৫। পূজামণ্ডপে নারী-পুরুষের যাতায়াতের আলাদা ব্যবস্থা করা
৬। বেশি সংখ্যক নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক নারী/পুরুষ রাখা
৭। সন্দেহভাজন দর্শনার্থীদের দেহ তল্লাশির ব্যবস্থা রাখতে হবে
৮। আতসবাজি ও পটকা ফাটানো থেকে বিরত থাকতে হবে
৯। পূজামণ্ডপে সার্বক্ষণিক সিসি ক্যামেরা সংযোগ ব্যবস্থা রাখতে হবে
১০। ভক্তিমূলক সংগীত ছাড়া অন্য কোনো গান বাজানো না হয়
১১। মাইক বা পিএ সেট যেন ব্যবহার করা না হয়
১২। পূজামণ্ডপে ‘প্রয়োজনের অতিরিক্ত দীর্ঘ সময়’ কোনো দর্শনার্থী যেন না থাকে
১৩। সন্ধ্যার আরতির পর দর্শনার্থীদের প্রবেশে যেন নিরুৎসাহিত করা হয়
১৪। সব ধরনের আলোকসজ্জা, সাজসজ্জা, মেলা, আরতি প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিহার করা
১৫। সম্ভব হলে বাসা/বাড়িতে থেকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভক্তদের অঞ্জলি দেওয়া
১৬। খোলা জায়গার অস্থায়ী প্যান্ডেলে স্বাস্থ্যবিধি পরিপূর্ণভাবে মেনে চলা
১৭। প্রশাসন, আইন শৃংখলা বাহিনী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে মণ্ডপকেন্দ্রিক ‘শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি’ গঠন
১৮। গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে তাৎক্ষণিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা
১৯। প্রতিমা নিরঞ্জনে শোভাযাত্রা পরিহার করা

প্রশাসন, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে মণ্ডপকেন্দ্রিক ‘শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি’ গঠন, গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে তাৎক্ষণিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা এবং প্রতিমা নিরঞ্জনে শোভাযাত্রা পরিহার করার নির্দেশনা রয়েছে ২৬ দফার মধ্যে।
এগুলো ছাড়াও সব পূজামণ্ডপে অগ্নি নিরাপত্তাসহ অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা, যে কোনো প্রয়োজনে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে সহায়তা চাওয়ার এবং গুজবে কান না দেয়ার নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন-টাইগারদের শ্রীলঙ্কা সফর স্থগিত

 

spot_img

Related articles

আজকের রাশিফল

আকাশের গ্রহ-নক্ষত্রের বিন্যাস প্রতিনিয়ত আমাদের জীবনের ছন্দ বদলে দেয়। আজকের দিনটি কারও জন্য নিয়ে আসবে প্রাপ্তির আনন্দ, আবার...

কোচ ব্যারেটোর রণকৌশলে বেঙ্গল সুপার লিগ খেতাব জিতল হাওড়া-হুগলি ওয়ারিয়র্স

রয়্যাল সিটিকে ৩-২ গোলে হারিয়ে শ্রাচি  আয়োজিত বেঙ্গল সুপার লিগ(Bengal Super League )খেতাব জিতল হাওড়া-হুগলি ওয়ারিয়র্স(Howrah Hooghly Warriors)...

পাক বধ করে যুব বিশ্বরকাপের সেমিতে ভারত, বৈভবদের ব্যাটিং নিয়ে থাকল উদ্বেগও

পাকিস্তানকে ৫৮ রানে হারিয়ে আইসিসি যুব বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ভারত(India)। ম্যাচ শেষ হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হল না। ৩৩.৩...

১৭ বছর পূর্তি স্পাইন রিসার্চ ফাউন্ডেশনের মেরুদণ্ড বিকৃতি শনাক্তকরণে বড় উদ্যোগ

কিশোরদের মেরুদণ্ড বিকৃতি শনাক্তকরণে বড় ভূমিকা নিল কলকাতার SRF-এর UPRIGHT 2026 কর্মসূচি। ১৭ বছর পূর্তি এই অনুষ্ঠান রবিবার...