Tuesday, May 12, 2026

সরানো হল গণধর্ষণের অভিযোগ, হাথরস মামলা হাতে নিয়েই বিতর্কে সিবিআই

Date:

Share post:

হাথরস গণধর্ষণকাণ্ডের ঘটনা ভারতের মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে তুলে দিয়েছে বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন। সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের আবেদনে মামলার তদন্তভার হাতে নিয়েছে সিবিআই। তদন্ত হাতে নিয়েই এবার বিতর্ক উস্কে দিল এই কেন্দ্রীয় এজেন্সি। রবিবার সকালে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা, গণধর্ষণ এবং খুনের অভিযোগে দায়ের করা এফআইআরের কপি–‌‌সহ প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সিবিআই। কিন্তু, বেলা বাড়তেই তা সরিয়ে দেওয়া হয়। দ্বিতীয় যে এফআইআর সিবিআইয়ের তরফে প্রকাশ করা হয় সেখান থেকে মুছে ফেলা হয়েছে গণধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ গুলো। শুধু তাই নয় বাকি অভিযুক্তদের সরিয়ে দিয়ে শুধুমাত্র সন্দীপ নামের এক যুবককে অভিযুক্ত হিসেবে দেখানো হয়েছে নয়া এফআইআরে।

হাথরস কাণ্ডের তদন্তভার হাতে নিয়ে সিবিআইয়ের তরফে যে প্রেস বিজ্ঞপ্তি সকালে প্রকাশ করা হয় সেখানে এসসি এসটি ধরার পাশাপাশি দলিত মেয়েটিকে খুনের চেষ্টা, গণধর্ষণ এবং খুনের অভিযোগের ধারায় এফআইআর দায়ের করা হয়। তবে সকালের ওই এফআইআর পুরোপুরি বদলে যায় দুপুরে। সিবিআইয়ের ওয়েবসাইটে প্রথম এফআইআরের সমস্ত তথ্য ও বিজ্ঞপ্তি মুছে দিয়ে নতুন বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সিবিআই তদন্তের দায়িত্ব নিয়েছে। এক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এর আগে মৃতের ভাইয়ের এক অভিযোগের ভিত্তিতে হাথরসের চান্দপা থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েেছিল। তাতে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত তাঁর বোনকে শ্বাসরোধ করে খুন করার চেষ্টা করছিল।’ স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনায় নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি সিবিআইয়ের এহেন পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তুমুল সমালোচনা করার যোগী সরকারকে আক্রমণ করেছেন রাহুল গান্ধী।

আরও পড়ুন: হাথরাসের পর… গণধর্ষণ করে মা-ছেলেকে বেঁধে ফেলা হলো নদীতে

এক টুইটে তিনি লেখেন, ‘অত্যন্ত লজ্জাজনক সত্যিটা এটাই যে এখনও অনেক ভারতীয় দলিত মুসলিম ও আদিবাসীদের মানুষ হিসেবে গণ্য করে না। মুখ্যমন্ত্রী ও তার পুলিশ বলছে কেউ ধর্ষণ হয়নি কারণ তাদের মত অনেক ভারতীয়র কাছে মেয়েটি কেউ না।’ প্রসঙ্গত, হাথরসের গণধর্ষণ কাণ্ড ও নির্যাতিতার মৃত্যুর পর একের পর এক বিতর্কে জড়ায় উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। নির্যাতিতার মৃতদেহ পরিবারের হাতে তুলে না দেওয়ার পরিবর্তে মধ্যরাতে পরিবারের সদস্য ছাড়াই পেট্রোল ঢেলে দেহ জ্বালানোর অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, ওই এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে পরিবারের লোকজনকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে স্থানীয় জেলা শাসকের বিরুদ্ধে। সিটের তদন্তের উপর ভিত্তি করে একাধিক পুলিশ কর্মী ও আধিকারিককে বরখাস্ত করে যোগী সরকার।

অন্যদিকে দোষীদের শাস্তি চেয়ে সরব হয়ে ওঠে গোটা দেশ। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে মামলার তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেয় যোগী সরকার। পাশাপাশি উত্তরপ্রদেশ সরকারের তরফে জানানো হয়, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক শ্রেণীর মানুষ রাজ্যে জাতিগত হিংসা ছড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং ভীম আর্মির প্রধান চন্দ্রশেখর আজাদ সহ ৪০০ জনের বিরুদ্ধে আইন ভাঙার অভিযোগে এফআইআর দায়ের করেছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ।

Related articles

তিলজলার অগ্নিকাণ্ডের তদন্তে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন রাজ্যের

তিলজলার (Tiljala Fire Incident) চামড়ার কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ রাজ্য সরকারের। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে চার...

STF-র জালে মাওবাদী নেত্রী শ্রদ্ধা, একই দিনে আত্মসমর্পণ মাওনেতারও: সহযোদ্ধাদের মূলস্রোতে ফেরার আহ্বান

কলকাতা পুলিশের জালে মাওবাদী নেত্রী শ্রদ্ধা বিশ্বাস (Shradha Biswas) ওরফে বেলা। বছর ষাটের ওই মাওবাদী নেত্রীর (Maoist Leader)...

শিল্প নিয়ে সৌরভকে কটাক্ষ শমীকের, বণিক সভার মঞ্চেই শিল্পপতিদের দিলেন বার্তা

২০২৩ সালে স্পেন সফরে গিয়ে বাংলায় ইস্পাত কারখানা করার ঘোষণা করেছিলেন প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। এক সপ্তাহ...

মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ হিমন্ত বিশ্বশর্মার: মন্ত্রিত্ব জোট বিধায়কদের

বিধানসভা নির্বাচনে ৩৮ শতাংশ ভোট নিয়ে ফের একবার অসমের ক্ষমতায় এনডিএ জোটের সরকার। ফের একবার মুখ্যমন্ত্রীর পদে হিমন্ত...