Tuesday, May 26, 2026

সরানো হল গণধর্ষণের অভিযোগ, হাথরস মামলা হাতে নিয়েই বিতর্কে সিবিআই

Date:

Share post:

হাথরস গণধর্ষণকাণ্ডের ঘটনা ভারতের মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে তুলে দিয়েছে বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন। সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের আবেদনে মামলার তদন্তভার হাতে নিয়েছে সিবিআই। তদন্ত হাতে নিয়েই এবার বিতর্ক উস্কে দিল এই কেন্দ্রীয় এজেন্সি। রবিবার সকালে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা, গণধর্ষণ এবং খুনের অভিযোগে দায়ের করা এফআইআরের কপি–‌‌সহ প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সিবিআই। কিন্তু, বেলা বাড়তেই তা সরিয়ে দেওয়া হয়। দ্বিতীয় যে এফআইআর সিবিআইয়ের তরফে প্রকাশ করা হয় সেখান থেকে মুছে ফেলা হয়েছে গণধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ গুলো। শুধু তাই নয় বাকি অভিযুক্তদের সরিয়ে দিয়ে শুধুমাত্র সন্দীপ নামের এক যুবককে অভিযুক্ত হিসেবে দেখানো হয়েছে নয়া এফআইআরে।

হাথরস কাণ্ডের তদন্তভার হাতে নিয়ে সিবিআইয়ের তরফে যে প্রেস বিজ্ঞপ্তি সকালে প্রকাশ করা হয় সেখানে এসসি এসটি ধরার পাশাপাশি দলিত মেয়েটিকে খুনের চেষ্টা, গণধর্ষণ এবং খুনের অভিযোগের ধারায় এফআইআর দায়ের করা হয়। তবে সকালের ওই এফআইআর পুরোপুরি বদলে যায় দুপুরে। সিবিআইয়ের ওয়েবসাইটে প্রথম এফআইআরের সমস্ত তথ্য ও বিজ্ঞপ্তি মুছে দিয়ে নতুন বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সিবিআই তদন্তের দায়িত্ব নিয়েছে। এক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এর আগে মৃতের ভাইয়ের এক অভিযোগের ভিত্তিতে হাথরসের চান্দপা থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েেছিল। তাতে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত তাঁর বোনকে শ্বাসরোধ করে খুন করার চেষ্টা করছিল।’ স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনায় নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি সিবিআইয়ের এহেন পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তুমুল সমালোচনা করার যোগী সরকারকে আক্রমণ করেছেন রাহুল গান্ধী।

আরও পড়ুন: হাথরাসের পর… গণধর্ষণ করে মা-ছেলেকে বেঁধে ফেলা হলো নদীতে

এক টুইটে তিনি লেখেন, ‘অত্যন্ত লজ্জাজনক সত্যিটা এটাই যে এখনও অনেক ভারতীয় দলিত মুসলিম ও আদিবাসীদের মানুষ হিসেবে গণ্য করে না। মুখ্যমন্ত্রী ও তার পুলিশ বলছে কেউ ধর্ষণ হয়নি কারণ তাদের মত অনেক ভারতীয়র কাছে মেয়েটি কেউ না।’ প্রসঙ্গত, হাথরসের গণধর্ষণ কাণ্ড ও নির্যাতিতার মৃত্যুর পর একের পর এক বিতর্কে জড়ায় উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। নির্যাতিতার মৃতদেহ পরিবারের হাতে তুলে না দেওয়ার পরিবর্তে মধ্যরাতে পরিবারের সদস্য ছাড়াই পেট্রোল ঢেলে দেহ জ্বালানোর অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, ওই এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে পরিবারের লোকজনকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে স্থানীয় জেলা শাসকের বিরুদ্ধে। সিটের তদন্তের উপর ভিত্তি করে একাধিক পুলিশ কর্মী ও আধিকারিককে বরখাস্ত করে যোগী সরকার।

অন্যদিকে দোষীদের শাস্তি চেয়ে সরব হয়ে ওঠে গোটা দেশ। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে মামলার তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেয় যোগী সরকার। পাশাপাশি উত্তরপ্রদেশ সরকারের তরফে জানানো হয়, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক শ্রেণীর মানুষ রাজ্যে জাতিগত হিংসা ছড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং ভীম আর্মির প্রধান চন্দ্রশেখর আজাদ সহ ৪০০ জনের বিরুদ্ধে আইন ভাঙার অভিযোগে এফআইআর দায়ের করেছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ।

Related articles

ধর্মাচরণে আঘাত! মুখ্যমন্ত্রীর নতুন ঘোষণায় অনিশ্চয়তা গঙ্গাসাগর সেতু নিয়ে

পূর্ববর্তী সরকারের সব প্রকল্প ও সিদ্ধান্ত বাতিল করতে তৎপর বর্তমান বিজেপি সরকার। তা করতে গিয়ে কখনও তৃণমূলের চালু...

বিজেপিতে যতদিন আমি আছি, এদের কোনও এন্ট্রি নেই! কাদের নিয়ে বিস্ফোরক প্রিয়াঙ্কা

"বৈঠক করতে দিন তাতে কী হবে! বিজেপিতে যতদিন আমি আছি, এদের কোনও এন্ট্রি নেই।" এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা...

কেন্দ্র-রাজ্য যৌথ উদ্যোগে জোর, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক মুখ্যমন্ত্রীর 

কলকাতায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রকের কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সারলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কেন্দ্র...

বেকারত্ব-পরিবেশ-সংস্কৃতি রক্ষায় এবার রাজ্যজুড়ে আন্দোলনের ডাক DYFI-এর

রাজ্যে কর্মসংস্থানহীনতা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং বাংলার নিজস্ব সংস্কৃতিকে বাঁচানোর দাবিতে এবার একযোগে আন্দোলনের পথে নামছে ডিওয়াইএফআই। সম্প্রতি...