‘ঠিকাদারি সংস্থা সংগঠন চাঙ্গা করতে পারে না’, তৃণমূল বিধায়কের নিশানায় টিম-পিকে

তাঁকে আগেই দলের সাংগঠনিক পদ থেকে সরানো হয়েছে৷ এরপরেও তিনি কিছুদিন অপেক্ষা করেছেন৷
অবশেষে নিজের অফিস থেকে তৃণমূলের পতাকা, ব্যানার সরিয়ে দিলেন কোচবিহার দক্ষিণ কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক মিহির গোস্বামী৷

এখানেই থামেননি বিধায়ক৷ টিম পিকে-র বিরুদ্ধে বড়সড় তোপ দেগে মিহির গোস্বামী বলেছেন, “কোনও ঠিকাদারি সংস্থাকে দিয়ে সংগঠন চাঙ্গা করা যায় না৷ দলের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক নেতা- কর্মীদের কোনও ঠিকাদারি সংস্থার মাইনে করা লোকেদের নির্দেশ মেনে কেন কাজ করতে হবে?”
শুক্রবার মিহিরবাবু নিজের বিধায়ক- কার্যালয়ে লাগানো তৃণমূলের পতাকা, ব্যানার খুলে ফেলেন৷ তৃণমূলের ব্যানার খুলে তাঁর কার্যালয়ের সামনে নতুন ব্যানার লাগানো হয়৷ সেই ব্যানারে শুধু লেখা “কোচবিহার দক্ষিণ কেন্দ্রের বিধায়ক মিহির গোস্বামীর কার্যালয়”। কার্যালয়ের ভিতরের দেওয়ালে লাগানো থাকা দলের একাধিক শীর্ষনেতার ছবি সরিয়ে সেখানে স্বামী বিবেকানন্দ, নেতাজি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি লাগানো হয়েছে। এই সব কাজ সেরে ওই কার্যালয়েই কোচবিহার দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের কর্মী এবং নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেন মিহিরবাবু। বৈঠক শেষে সাংবাদমাধ্যমে মিহির গোস্বামী স্পষ্টভাবেই পিকের সংস্থা ‘আইপ্যাক’- এর বিরুদ্ধে তোপ দাগেন৷ তীব্র কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “কোনও ঠিকাদারি সংস্থাকে দিয়ে কোনও রাজনৈতিক দল পরিচালিত হতে পারে না। তাতে ক্ষতির আশঙ্কাই বেশি৷” এখনও পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে তৃণমূল জেলা সভাপতি বা রাজ্য নেতাদের কেউই কথা বলেননি বলেই স্পষ্ট জানিয়েছেন মিহিরবাবু৷

সূত্রের খবর, দিনকয়েক আগে কলকাতায় এসেছিলেন মিহির গোস্বামী ৷ শহর থেকে ফিরেই এদিন কর্মীদের নিয়ে দীর্ঘ বৈঠক করেন বিধায়ক৷ বৈঠকের পর সাংবাদিকদের জানান, তিনি এখনও বিধায়ক। দল-মত নির্বিশেষে তার কাছে মানুষ আসেন। তাঁদের সবার সঙ্গেই কথা বলেন তিনি।

প্রসঙ্গত, গত ২ অক্টোবর তৃণমূলের নতুন ব্লক কমিটি ঘোষণার পর দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে সাংগঠনিক পদ তিনি ত্যাগ করেছেন৷

আরও পড়ুন-ছত্রধরের ‘কোভিডে’ সন্দিহান! রিপোর্ট-সহ তলব করা হলো সিএমওএইচকে