অতিমারির জের, কুমারী পুজো হচ্ছে না ঢাকায়

খায়রুল আলম (ঢাকা) : করোনাভাইরাস মহামারির কারণে ঢাকায় কোনো মণ্ডপে এবার কুমারী পুজো অনুষ্ঠিত হবে না।

বাংলাদেশ পুজো উদযাপন পরিষদের সভাপতি মিলন কান্তি দত্ত দুর্গাপুজোর নানাদিক নিয়ে শনিবার ঢাকেশ্বরী মন্দিরে এক আলোচনা ও মতবিনিময় সভায় একথা জানান।

তিনি বলেন, “করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে এবছর ঢাকায় কোনো মণ্ডপে কুমারী পুজো উদযাপন করা হবে না। তবে ঢাকার বাইরে কয়েকটি জায়গায় কুমারী পুজো হতেও পারে।”মহামারির কারণে করোনাভাইরাস সংক্রমণ এড়াতে এবছর বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান সংক্ষিপ্ত করা হচ্ছে।

সভায় বাংলাদেশ পুজো উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার চ্যাটার্জী বলেন, “করোনা অতিমারীর কারণে এবার উৎসব সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পরিহার করে সাত্ত্বিক পুজোয় সীমাবদ্ধ রাখতে হবে বিধায় এবারের দুর্গোৎসবকে ‘দুর্গাপুজো’ হিসেবে অভিহিত করছি।”
এবার মহালয়া ছিল ১৭ সেপ্টেম্বর। কিন্তু পঞ্জিকার হিসাবে এবার আশ্বিন মাস ‘মল মাস’, মানে অশুভ মাস। সে কারণে এবার আশ্বিনে দেবীর পুজো না হয়ে তা হবে কার্তিক মাসে। পঞ্জিকা অনুযায়ী, ২২ অক্টোবর মহাষষ্ঠী তিথিতে হবে বোধন, পরদিন সপ্তমী পুজোর মাধ্যমে শুরু হবে দুর্গোৎসবের মূল আচার অনুষ্ঠান। ২৬ অক্টোবর মহাদশমীতে বিসর্জনে শেষ হবে দুর্গাপুজোর আনুষ্ঠানিকতা।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে কীভাবে এবার পুজো করতে হবে, সে বিষয়ে গত ২৬ আগস্ট পুজো উদযাপন পরিষদ ২৬ দফা দিক-নির্দেশনা দেয়। পরে ৪ অক্টোবর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে পুজোকেন্দ্রিক সভার সিদ্ধান্তের আলোকে অতিরিক্ত ৭ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনা মেনে এবারের পুজোয় থাকবেনা পূজার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজন। অঞ্জলি দানের সময় ফেইসবুক লাইভের সহযোগিতা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নির্মল বলেন, “যেসব জায়গায় সরাসরি অঞ্জলি হবে, সেখানে ২৫ থেকে ৫০ জনের বেশি আসতে পারবেন না। সন্ধ্যা আরতির পর রাত ৯টার মধ্যে অবশ্যই পুজো মণ্ডপ বন্ধের নির্দেশনা দিয়েছি।”
দুর্গাপুজোয় আগেই প্রসাদ বিতরণ ও বিজয়া দশমীর শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ করেছিলো বাংলাদেশ পুজো উদযাপন পরিষদ।

নির্মল চ্যাটার্জি বলেন, “সপ্তমী তিথিতে বিশ্ববাসীর করোনামুক্ত হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে করা হবে প্রার্থনা। জনসমাগমের কারণে সাস্থ্যবিধি যাতে ভঙ্গ না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।“

পুজো উদযাপন পরিষদের ২৬ দফা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মহালয়ার আয়োজন এবার হবে সীমিত আকারে, প্রতিটি কাজে মেনে চলতে হবে স্বাস্থ্য বিধি।

ভক্তিমূলক সংগীত ছাড়া অন্য কোনো গান যেন বাজানো না হয়, মাইক বা পিএ সেট যেন ব্যবহার করা না হয়, পুজোমণ্ডপে ‘প্রয়োজনের অতিরিক্ত দীর্ঘ সময়’ কোনো দর্শনার্থী যেন না থাকে এবং সন্ধ্যার বিরতির পর দর্শনার্থীদের প্রবেশে যেন নিরুৎসাহিত করা হয়- সেসব বিষয়ও আছে নির্দেশনায়।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দেওয়া নির্দেশনায় এবার ভোগের প্রসাদ ব্যতিত মণ্ডপ কিংবা মন্দির কর্তৃপক্ষকে খিচুড়ি বা এজাতীয় প্রসাদ বিতরণেও মানা করা হয়েছে।

২৬ অক্টোবর বিজয়া দশমীর দিন শোভাযাত্রা পরিহার করে প্রতিমা বিসর্জনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মণ্ডপ বা মন্দির কর্তৃপক্ষ স্বউদ্যোগে স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রতিমা বিসর্জনের ব্যবস্থা নেবেন।

বাংলাদেশ পুজো উদযাপন পরিষদের দেওয়া তথ্য অনুসারে, গত বছর সারাদেশে দুর্গাপুজোর মণ্ডপের সংখ্যা ছিল ৩১ হাজার ৩৯৮টি। এবার এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ২২৩টি।

আরও পড়ুন-হংকং ইস্যুতে কানাডাকে হুঁশিয়ারি চিনের, পাল্টা বিবৃতিতে কোণঠাসা জিনপিং