রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের পরে যেভাবে বিধানসভায় নতুন রাজনৈতিক ছক প্রকাশ্যে, সেই একই খেলা দিল্লির সংসদেও খেলার চেষ্টা বিজেপির। তৃণমূলের সাংসদ ভাঙিয়ে সংসদে বিজেপির একছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠার খেলায় কোন পদক্ষেপ নেবেন তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক সাংসদ (TMC MP), তা সময় বলবে। তবে তাঁরা কোনও পদক্ষেপ নেওয়ার আগে এলাকায় যাঁদের জনপ্রতিনিধিত্ব সংসদে (Parliament) তাঁরা করছেন, তাঁদের থেকে উত্তর জানার দাবি জানালেন তৃণমূল রাজ্য মুখপাত্র বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)।

বিধানসভার পরে সংসদেও তৃণমূল সাংসদদের বিদ্রোহী ভাবের কিছু প্রকাশ ঘটেছে। আদতে তাঁদের পদক্ষেপ যে জনপ্রতিনিধিত্বেরই বিরোধী এদিন স্পষ্ট করে দিলেন মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। তিনি মনে করিয়ে দিলেন, যাঁরা তৃণমূল কংগ্রেসের জনপ্রতিনিধি, কেউ বিধায়ক, কেউ সাংসদ হতে পারেন। তাঁরা সিদ্ধান্তগুলি নেওয়ার সময় দয়া করে এলাকায় একটা কর্মিসভা করে নিন। কারণ আপনি যে প্রতীকে জিতেছেন সেই প্রতীকটা তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC symbol)। যে ছবিটা ব্যবহার করে জিতেছেন সেটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee)। যাঁরা ভোট করেছেন আপনার হয়ে তাঁরা তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী। আর যাঁরা ভোটার তাঁরা ভোট দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রার্থী হিসাবে।

আর তৃণমূল সাংসদরা কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দলের মুখপাত্রের বার্তা, এলাকায় যান। বিধায়ক হোন, বা সাংসদ (TMC MP) হোন। একটা কর্মিসভা ডাকুন। তখন বুঝতে পারবেন কত ধানে কত চাল।

আদতে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার এক মাসের মধ্যে যে আচরণ তৃণমূলের জয়ী বিধায়কদের একটি শ্রেণি করে চলেছেন, তা যে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকরা ভালোভাবে নেননি, তাও স্পষ্ট করে দেন কুণাল। তাঁর দাবি, যাঁরা ওদিকে সই করেছেন, তাঁদের উপর প্রচুর চাপ রয়েছে। অনেকের উপর নানা মামলা মোকদ্দমা রয়েছে। তার জন্য হয়তো অক্সিজেনের সরবরাহ কম মনে হচ্ছে। তবে এখনও আঙুলের রঙ যায়নি। যে সময়ে দাঁড়িয়ে কথা বলছি তখনও বিজেপির দফতর বণ্টন হয়ে উঠতে পারেনি। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতীকে, ছবি লাগিয়ে জেতা বিধায়করা কয়েকজন যা কাজ করছেন, তা অনভিপ্রেত। তবে গোটা দলের কর্মীরা আমাদের সঙ্গে রয়েছেন। হয়তো সংখ্যাতত্ত্বে কম, কিন্তু তাঁরা মুখে যে কারণ বলছেন সেটা তাঁদের আসল কারণ নয়।

আরও পড়ুন : বিধায়ক ভাঙানোর রাজনীতি! খেলা আরও অনেক বাকি

সেই সঙ্গে এই দলবদলু বিধায়কদের বিধায়ক কুণাল ঘোষের বার্তা, যদি দলটা খারাপ হত তাহলে যাঁরা এক মাস আগে দলের প্রার্থী (TMC candidate) হলেন কেন? যাঁরা এক মাস আগে সেই প্রার্থীপদ নিয়েছেন, সরকারে থাকলে তখন মমতাদি বা অভিষেকের বাড়ি যেতেন মন্ত্রী হওয়ার জন্য। এখন বিরোধী বলে অসুবিধা হচ্ছে। যাঁরা এটা করছেন করতে পারেন, তাঁদের অনেক স্বার্থ আছে। কিন্তু এক মাস হয়নি, আমি বিশ্বাসঘাতকতা করে চলে যাব, এই জিনিস হয় না।

–

–
–
–
