Sunday, January 18, 2026

‘দলবদলু’ বিধায়ক: দিলীপ ঘোষের মূল্যায়ণ ঘিরে জোর চর্চা রাজনৈতিক মহলে

Date:

Share post:

চাণক্য চৌধুরি : অনেকেই বলছেন যথার্থ মূল্যায়ন করা হয়েছে৷

রাজ্য-বিজেপি’র সভাপতি দিলীপ ঘোষ নিজের ফেসবুক ওয়ালে বিজয়া দশমীর শুভেচ্ছা জানিয়ে একটি ‘খোলা চিঠি’ লিখেছেন৷ এই ‘চিঠি’ লেখা হয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি, পশ্চিমবঙ্গের ‘আমার প্রিয় কার্যকর্তা বন্ধু’-দের উদ্দেশ্যে ৷

খোলা চিঠিতে দিলীপবাবু অনেক কথা লিখেছেন৷ দীর্ঘদিনের চেষ্টা সত্ত্বেও রাজ্য রাজনীতিতে বিজেপি তেমন দাগ না কাটতে পারার কথা যেমন লিখেছেন, তেমনই দিলীপবাবু লিখেছেন, তিনি বঙ্গ-বিজেপির সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ার পর কীভাবে এ রাজ্যে একটু একটু করে দল বড় হয়েছে, শক্তিশালী হয়েছে, সে সব কথা৷ সন্দেহ নেই, চমৎকার লিখেছেন৷

'দলবদলু' বিধায়ক:  দিলীপ ঘোষের মূল্যায়ণ ঘিরে জোর চর্চা রাজনৈতিক মহলে

রাজ্য রাজনীতিতে কীভাবে বিজেপি ‘ফ্যাক্টর’ হয়ে আজ বাংলার ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে নেমেছে, সে কথা বলতে গিয়ে এক জায়গায় এক জায়গায় ‘মারাত্মক’ একটি বাক্য লেখা হয়েছে৷ ওইখানে তিনি লিখেছেন, “আজ আমরা তিন থেকে শুরু করে ১৬ জন প্রথিতযশা বিধায়ক বিজেপির ঝুলিতে পুরতে পেরেছি”৷ এই লাইনটিতে তিনি ঠিক কী বোঝাতে চেয়েছেন, তা নিশ্চিতভাবেই বোঝা গিয়েছে৷ বলতে চেয়েছেন, দলের বেড়ে ওঠার কথা৷

ওই লাইনের ভাষায় প্রাথমিকভাবে খটকা লাগলেও, বস্তুত ওই দলবদলু ‘প্রথিতযশা বিধায়কদের’ সম্পর্কে ‘ঝুলিতে পুরতে পেরেছি’ শব্দচয়ন প্রশংসিতই হয়েছে৷

বাংলা ভাষায় ‘ঝুলিতে পোরা’ শব্দবন্ধটির ব্যবহার চালু থাকলেও কোনও জনপ্রতিনিধিকে অন্য দল থেকে ভাঙ্গিয়ে নিজের দলে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়না৷ তৃতীয় পক্ষ সমালোচনার সুরে একথা বলতেই পারেন৷ এটা অনেকটা ঝুলিতে কাপড় পুরে রাখা, জেলে পোরা, ভিতরে আবদ্ধ করা, সিন্ধুকে পুরে রাখা-র মতো শোনাচ্ছে৷ আবার মনুষ্যেতরদের সম্পর্কেও ব্যবহার করা যায়৷ যেমন, বিড়ালটিকে ঝুলিতে পুরে পাচার করা হলো ইত্যাদি ৷

এই লাইনটি কি সচেতনভাবেই লিখেছেন দিলীপবাবু ? অন্য দলের বিধায়কদের টোপ দিয়ে নিজেদের দলে সামিল করানোকে তাই ‘ঝুলিতে পুরতে পেরেছি’ হিসাবে বর্ণনা করেছেন৷ সম্ভবত, একটুও ভুল করেননি দিলীপবাবু৷ নীতি- আদর্শের তোয়াক্কা না করে যারা ক্ষমতায় টিঁকে থাকতে রাজনৈতিক শিবির দুম করে বদল করেন, সেই ‘মালপত্র’ নিজের দলের ভিতরে আবদ্ধ করার কথাই বলেছেন বিজেপি সভাপতি৷ এই দলবদলু- বিধায়কদের নিয়ে দিলীপবাবুদের হয়তো তেমন ভরসা নেই৷ এরা ফের বিজেপির দেওয়া টোপের তুলনায় থেকে বড় টোপ গিলে ফের দল বদলাতে পারেন৷ তাই বঙ্গ-বিজেপির সভাপতি এই বিধায়কদের দলে আটকে রাখা প্রসঙ্গেই ওই ‘ঝুলিতে পুরে রাখার’ কথা স্পষ্টভাবেই বলে দিয়েছেন৷ দিলীপবাবুর আজকের আশঙ্কা হয়তো ভবিষ্যৎ-এ মিলেও যেতে পারে৷ সামান্য সুযোগ পেলে বা বিজেপি তাদের ‘মর্যাদা’ না দিলে ফের উল্টোরথের সওয়ার হতে পারেন অন্য দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া ‘১৬ জন প্রথিতযশা বিধায়ক’৷

নেতিবাচক নজরে নয়, দলবদলুরা ফের দল বদল করতে পারেন, এই আশঙ্কার নিরিখেই সোশ্যাল মিডিয়ায় দিলীপ ঘোষের ওই অভিমতের ব্যাখ্যা করেছে রাজনৈতিক মহল৷

একইসঙ্গে রাজনৈতিক মহল জানতে আগ্রহী, ‘মাল’ হিসাবে অন্য দলের যেসব বিধায়ককে বিজেপি ‘ঝুলিতে পুরেছে’, দিলীপবাবুর এই ‘মূল্যায়ণ’-কে তাঁরা কে কোন নজরে দেখছেন ? ঝুলি থেকে মুখ বার করে ওই ‘প্রথিতযশা’ বিধায়করা কিছুই কী বলবেন না ?

আরও পড়ুন-আদালতের তদারকিতে হাথরাস কাণ্ডের তদন্ত, জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট

spot_img

Related articles

এসআইআর চলাকালীন অশান্তি ঠেকাতে রাজ্যকে সতর্ক করল কমিশন

রাজ্যে চলমান এসআইআর (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন) প্রক্রিয়ার সময় সাম্প্রতিক অশান্তির ঘটনার পর নির্বাচন কমিশন রাজ্য সরকারের দিকে সতর্কবার্তা...

এসআইআর আতঙ্কের জের! শান্তিপুর ও নামখানায় মৃত ২

বাংলায় এসআইআর-বলির সংখ্যা দীর্ঘতর হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের তুঘলকি সিদ্ধান্তের জোরে প্রতিদিনই মৃত্যু হচ্ছে সাধারণ মানুষের। নদিয়া ও দক্ষিণ...

মোদির সফরে বদলে গেল মালদহ টাউন স্টেশন! নিরাপত্তার চাপে প্রশ্নের মুখে জীবিকা

চিরচেনা কোলাহল, যাত্রীদের ভিড় আর হকারদের ডাক—এই দৃশ্যেই অভ্যস্ত মালদহ টাউন স্টেশন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Narendra...

প্রহসনে পরিণত হয়েছে হেনস্থার এই হিয়ারিং! অভিযোগ জানিয়ে কমিশনের দফতরে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল

বাংলা জুড়ে এসআইআর (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন) সংক্রান্ত শুনানি কার্যত হেনস্থার রূপ নিয়েছে—এই অভিযোগ তুলে শনিবার বিকেলে নির্বাচন কমিশনের...