তৃণমূল নয়, বিজেপিই প্রধান শত্রু, ঘুরিয়ে মেনে নিলেন ইয়েচুরি

প্রথমে জোরদার বিরোধিতা। পরে সিপিআই(এমএল)-এর পথকেই কার্যত সমর্থন সিপিএমের। সীতারাম ইয়েচুরি এবার স্পষ্ট ভাষায় বললেন, বামেদের পয়লা নম্বর শত্রু বিজেপিই। লড়াইয়ের অভিমুখ হবে সেদিকেই। অর্থাৎ লিবারেশনের পথকেই সিপিএম অবশেষে নীতিগতভাবে মেনে নিল। তাহলে তৃণমূল কংগ্রেস সম্বন্ধে অবস্থান কী হবে? এখানেই বিভ্রান্তি জিইয়ে রেখেছেন ইয়েচুরি।

আরও পড়ুন : ‘সিদ্ধান্ত’ নিতে আরও সময় নিলেন শুভেন্দু অধিকারী

বিহার বিধানসভা ভোটে লিবারেশন ১২টি আসন জেতার পর দলের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য জানান, বাংলার ভোটে বামেদের মূল শত্রু হওয়া উচিত বিজেপি। বিজেপিকে হারাতে প্রয়োজনে তৃণমূলকে সঙ্গে নিতে হবে। দীপঙ্করের এই ঘোষণায় বেদম চটে যান সিপিএম নেতৃত্ব। ইয়েচুরি তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে বলেন, বাংলায় বিজেপি-তৃণমূল উভয়ই শত্রু। কিন্তু চব্বিশ ঘন্টা আগে দলের মুখপত্রে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আগের অবস্থান থেকে অনেকটাই সরে এলেন ইয়েচুরি।

আরও পড়ুন : মমতাই শেষ কথা, ফের শুভেন্দুকে কড়া ভাষায় কটাক্ষ অখিল গিরির

কী বলেছেন সিপিএম সাধারণ সম্পাদক? তিনি বলছেন, বাংলা ও দেশে বামেদের মূল শত্রু বিজেপি। এমন কোনও পদক্ষেপ বা নীতি আঁকড়ে থাকা উচিত নয়, যাতে বিজেপির সুবিধা হয়ে যায়। এটাই পার্টি কংগ্রেসের লাইন। কিন্তু তৃণমুলের বিরুদ্ধে যাওয়া মানে তো বিরোধী ভোট ভাগ হয়ে যাওয়া? ইয়েচুরির জবাব, বাংলায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে মানুষের অসন্তোষ রয়েছে। তাদের সঙ্গে নেওয়ার অর্থ প্রতিষ্ঠান বিরোধী ভোট বিজেপির ভোট বাক্সে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি। তাই তৃণমূল বিরোধিতার কৌশলও রাখতে হবে। কিন্তু এই দুই নৌকোয় পা দিয়ে চলায় মানুষ আবার ২০১৬-র ভোটের পুনরাবৃত্তি করবেন না তো! ইয়েচুরি বলছেন মানুষের কাছে যেতে হবে, বোঝাতে হবে। কিন্তু মানুষ কী বুঝবেন? সেটাই এখন কোটি টাকার প্রশ্ন।