ইংরেজ আমলে তৈরি পুরাতন সংসদ ভবনকে সরিয়ে নয়া সংসদ ভবনের দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। সেই লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই সম্পূর্ণ প্রস্তুতিপর্ব সেরে ফেলেছে ভারত সরকার। দিল্লির বুকে ৬৪,৫০০ স্কোয়ার মিটার এলাকায় তৈরি হবে দেশের নতুন এই ভবনটি। আগামী ১০ ডিসেম্বর নতুন সংসদ ভবনের শিলান্যাস ও ভুমি পুজো। এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানালেন লোকসভার স্পিকার ওম প্রকাশ বিড়লা। শনিবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে এসে তাঁকে আমন্ত্রণ জানিয়ে যান তিনি।

প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানোর পর তার বাড়ি থেকে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে লোকসভার স্পিকার ওম প্রকাশ বিড়লা জানান, ‘এটা আমাদের কাছে অত্যন্ত গর্বের বিষয়। আগামী ১০ ডিসেম্বর দেশের নতুন সংসদ ভবনের শিলান্যাস হতে চলেছে। প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদি নতুন সংসদ ভবনের শিলান্যাস করবেন। ভুমিপুজোর মধ্য দিয়ে হবে নতুন সংসদ ভবনের শিলান্যাস।’ সংবাদ মাধ্যম সূত্রে জানা গেছে নতুন সংসদ ভবন উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে বড়সড় অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে চলেছে সরকার।

This will be built in an area of 64,500 sq.m at an expense of Rs 971 crores. Tata Projects Ltd has been given the contract for the project. The design has been prepared by HCP Design, Planning and Management Pvt Ltd: Lok Sabha Speaker Om Birla https://t.co/IAPTh0D1VF pic.twitter.com/SGJkLjvG77
— ANI (@ANI) December 5, 2020
কেন্দ্রীয় সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী ২০২২ সালে দেশের স্বাধীনতার ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে নতুন ভবন পাবে ভারতীয় সংসদ। ত্রিভুজাকৃতির নতুন ভবনে সাংসদদের বসার জায়গা ও কক্ষ দুইই বাড়ানো হবে। ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সুচারু মিশেলে হবে এই নির্মাণ। সংসদ ভবন নির্মাণের জন্য টাটা প্রোজেক্ট লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি করেছে সরকার। এবং ভবনটির ডিজাইন তৈরি করেছে এইচটিপি সংস্থা। জানা যাচ্ছে, নতুন ভবনটিতে প্রত্যেক সংসদের জন্য আলাদা আলাদা কক্ষ থাকবে। থাকবে বিশাল পার্কিং ব্যবস্থা, লাইব্রেরি, একাধিক সমিতির জন্য আলাদা কক্ষ।

আরও পড়ুন:কৃষক বিক্ষোভের আঁচ এবার রাষ্ট্রসংঘেও, অস্বস্তি কেন্দ্রের


প্রসঙ্গত, কলকাতা থেকে দেশের রাজধানী দিল্লিতে স্থানান্তরের সময় ১৯১১ সালে প্রথম দেশের সংসদ ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। ১৯২৭ সালে উদ্বোধন করা হয় সংসদ ভবনের। ইংরেজ আমল থেকে চলতে থাকা এই সংসদ ভবনে ত্রুটি ছিল প্রচুর। মাঝেমধ্যেই বিদ্যুৎ সমস্যা ও শর্ট সার্কিটের সমস্যা লেগেই থাকত ভবনটিতে। পাশাপাশি দুর্বল হয়ে পড়েছিল বহুকালের পুরনো বর্তমান সংসদ ভবনটি।

