“দুর্নীতিগ্রস্তরা স্তাবকতা করে সামনের সারিতে থাকে। যাঁরা সততা এবং নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেন, তাঁদের সামনের সারিতে জায়গা দেওয়া হয় না। যারা ঠান্ডা ঘরে বসে থাকে তারাই প্রাধান্য পায়। আমি ঠান্ডা ঘরে বসে থাকার কর্মী নই। দক্ষতা এবং যোগ্যতার সঙ্গে কাজ করতে চাই।বঅনেকেই এখন ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করে। যখন কেউ ভালো কাজ করতে যায়, তাঁকে পিছন থেকে টেনে ধরা হয়। এখন স্তাবকতার যুগ, হ্যাঁ-তে হ্যাঁ মেলাতে হয়। এ ভাবেই রাজনীতিতে শূন্যতা তৈরি হচ্ছে। সময় এলে মানুষ সব টের পাইয়ে দেবে। যারা মানুষকে বোকা ভাবেন, তাঁরা মুর্খের স্বর্গে বাস করছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে একজোট হওয়ার সময় এসেছে। যেখানে মানুষ মনের কথা বলতে পারে, আমি সেখানেই থাকব। এখনও আমি তৃণমূলের সদস্য, মন্ত্রিসভার সদস্য। গণতন্ত্রে মত প্রকাশ করা যায়। দলের কথা দলের কাছেই বলব। দেখুন, ধীরে ধীরে কী হয়।”

শুভেন্দু অধিকারী পর্বের মাঝেই আজ, শনিবার দক্ষিণ কলকাতার হরিদেবপুরে এক অরাজনৈতিক মঞ্চে উপস্থিত হয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন রাজ্যের বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার তিনি কারও নাম না করেই “দুর্নীতিবাজ” ও ‘‘স্তাবক’’দের নিশানা করেন। কারও নাম না করলেও এমন ডামাডোল পরিস্থিতিতে রাজীবের এহেন মন্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। খুব স্বাভাবিক ভাবেই জলঘোলা করতে পিছপা হয়নি বিরোধীরা।

রাজীবের বিতর্কিত মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে। বনমন্ত্রীর বিস্ফোরক মন্তব্যের প্রেক্ষিতে এ দিন ফিরহাদ হাকিম বলেন, ”রাজীব ভাল ছেলে। ও আমাদের সকলের ছোট ভাই। ওকে আমার সকলে ভালোবাসি। নতুন প্রজন্মের মধ্যে যাঁরা উঠে আসছে তাঁদের মধ্যে রাজীব প্রথম সারিতে আছে। ও খুব ভালো কাজ করছে। ঘুরে ঘুরে কাজ করছে।”

আরও পড়ুন- দিনে দুপুরে বাড়িতে ঢিল, আতঙ্কে ইটাহারের দাস পরিবার


কিন্তু এর পরেই তাল কাটলো! রাজিব বলেছিলেন শূন্যতা তৈরি হচ্ছে। উত্তর কী বললেন ফিরহাদ? তাঁর কথায়, ” রাজনীতিতে কোনই শূন্যতা তৈরি হচ্ছে না। শূন্যতা শুধু মনের। হতাশা থেকে অনেকেই অনেক কথা বলে থাকেন। কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না, মাথার উপর আছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সব শূন্যতা দূর করে দেবেন।”


এদিকে, জুনিয়ার রাজীব নয়, সিনিয়র সাধন পাণ্ডে প্রসঙ্গে ফিরহাদ বলেন, “উনি বর্ষিয়ান নেতা। কোথায় কী হচ্ছে, কে টেবিল পেতে কী করছে ছোটখাট ব্যাপার। সেখানে মাথা ঘামানোর দরকার নেই”

আরও পড়ুন- সমাধানসূত্র অধরা, ভারত বনধের পর ফের ৯ ডিসেম্বর কৃষক-কেন্দ্র বৈঠক
