কৃষি আইনের প্রতিবাদে ভারত বনধ, শহরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

কেন্দ্রীয় কৃষি আইনের প্রতিবাদে মঙ্গলবার দেশজুড়ে ভারত বনধের ডাক দিয়েছে কৃষক সংগঠনগুলি ৷ এই আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছে ১৬টি বিরোধী দল ৷ কৃষক আন্দোলনকে নৈতিক সমর্থন জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসও । শহরে দেখা গেল মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

সকাল ১০টা

শ্যামবাজার পাঁচ মাথার মোড়ে অন্যান্য দিনের তুলনায় ছবিটা একটু ব্যতিক্রমী। সাধারণ মানুষ ঘরের বাইরে বেরিয়েছেন কম। যদিও বেসরকারি বাসে অধিকাংশই যাত্রী ছিল হাতেগোনা। তবু পেটের টানে রাস্তায় বেরিয়েছেন কিছু সাধারণ মানুষ।

সকাল ১১টা

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চিত্রটা ততক্ষণে বদলে গিয়েছে। উল্টোডাঙা হাডকো মোড়ে সরকারি ও বেসরকারি বাসে তখন বাদুড় ঝোলা ভিড় । দেখে বোঝার উপায় নেই চলছে ভারত বনধ।

বেলা ১২টা

আজকের ভারত বনধ কে সমর্থন করে মৌলালি থেকে বামফ্রন্টের মিছিলে পা মেলালেন বিমান বসু, সূর্যকান্ত মিশ্ররা। তাদের সঙ্গে মিছিলে হাজির ছিলেন কংগ্রেস কর্মীরাও। শিয়ালদা উড়ালপুল ছাড়িয়ে মিছিল গিয়ে পৌঁছায় রাজাবাজারে।

বেলা ১২টা৩০মিনিট

রাজাবাজার ট্রাম ডিপোর সামনে বক্তব্য রাখলেন সিপিএম নেতা সূর্যকান্ত মিশ্র। তিনি বললেন, আমরা ৩৫৬ ধারার বিরোধী । সেখানে রাস্তার মাঝে অবস্থান বিক্ষোভে সামিল হোন বামফ্রন্ট এবং কংগ্রেস কর্মীরা। রীতিমতো টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ করা হয়।

দুপুর ১টা

শিয়ালদা স্টেশন চত্বরে অন্যদিনের তুলনায় যাত্রীসংখ্যা কিছুটা কম। যদিও মেইন এবং দক্ষিণ শাখায় ততক্ষণে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক। সকালের দিকে কিছু কিছু স্টেশনে অবরোধের জন্য ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়েছিল । উত্তরবঙ্গের বন্ধের প্রভাব সেভাবে পড়েনি পূর্ব রেলের পরিষেবায়। শিয়ালদা স্টেশনের 13 নম্বর প্লাটফর্ম থেকে আলিপুরদুয়ারের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার অপেক্ষায় তিস্তা তোর্সা এক্সপ্রেস।

দুপুর ২টো

ধর্মতলার ডোরিনা ক্রসিংয়ের ছবিটা অন্যদিনের তুলনায় কিছুটা ব্যতিক্রমী। বেসরকারি বাস, প্রাইভেট গাড়ির পাশাপাশি প্রচুর বাইক আরোহীর দেখা মিলল। সেখানেই তৃণমূলের ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী 46 নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কর্মীরা কেন্দ্রের কৃষি আইনের প্রতিবাদে অবস্থান বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন।

এভাবেই সময় যত গড়িয়েছে ভারত বনধের পাশাপাশি  সকাল ১১টা থেকে ৩টে পর্যন্ত চাক্কা জ্যাম কর্মসূচির কোনও প্রভাবই চোখে পড়েনি। এমনকি কিছু কিছু দোকানপাট বন্ধ থাকলেও এবং মানুষ এই ইস্যুকে সমর্থন করলেও আদৌ আজকের ভারত বনধ কতটা প্রভাব ফেলবে সাধারণ মানুষের ওপর, তা সময়ই বলবে।