Saturday, February 21, 2026

PM CARES ফান্ড নিয়ে ফরেনসিক তদন্ত করুক CAG, সুখেন্দুশেখর রায়ের কলম

Date:

Share post:

সুখেন্দুশেখর রায়
জাতীয় মুখপাত্র ও মুখ্য সচেতক, তৃণমূল সংসদীয় দল( রাজ্যসভা)

পিএম কেয়ার্স ফান্ডের( PM CARES) বিষয়ে কখনও কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে বলা হচ্ছে, এটি সরকারি ফান্ড। কিন্তু আরটিআইয়ের (RTI) আওতায় পড়ে না। আবার কখনও বলা হচ্ছে, সরকারি ফান্ড নয়।

প্রশ্ন :

( ১) সরকার প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে দেশের মানুষকে ঐ ফান্ডের মেমোরান্ডাম অফ ট্রাস্ট দলিলের নির্দিষ্ট অংশ দেখিয়ে বলুক, এটি বক, কচ্ছপ না বকচ্ছপ?

( ২) আরটিআইয়ের আওতায় আসবে না কেন? মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক, সরকারি কর্মচারী তাদের নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে বার্ষিক আয়ব্যয়ের হিসেব দেবেন, আর প্রধানমন্ত্রী (PM Narendra Modi) নেতৃত্বাধীন ট্রাষ্ট দেবে না? স্বচ্ছ ভারত কি শুধু শৌচাগারে আটকে থাকবে? লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা লেনদেনে কেন স্বচ্ছতা থাকবে না? ঘোটালা বেরিয়ে পড়তে পারে এই আশংকায়?

( ৩) সরকারি বয়ানে বলা হয়েছে বিভিন্ন দেশি- বিদেশি সংস্থা , এনআরআই, ব্যক্তি দান করেছে? এরা কারা? দানের বিনিময়ে তারা কী কী সরকারি সুবিধে পেলেন?

( ৪) এটা কি ঠিক যে বিদেশের সমস্ত ভারতীয় দূতাবাসকে কাজে লাগানো হয়েছে এনআরআই ও বিদেশি কোম্পানির ‘দান’ যোগাড় করতে এবং এর মধ্যে দুবাই ও চিনা কোম্পানিও নাকি প্রভূত টাকা দান করেছে ?

( ৫) ২৭ মার্চ তৈরি হওয়া এই ট্রাস্ট দলিলের ৩-এ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, “এই ট্রাস্টে কোনওভাবেই কোনও সরকার বা সরকারি সংস্থার মালিকানা, অর্থ বিনিয়োগ বা নিয়ন্ত্রণ নেই। কেন্দ্রীয় সরকারের বা কোনও রাজ্য সরকারেরও ট্রাস্ট পরিচালনার ক্ষেত্রে কোন প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণ নেই।” তার মানে দাঁড়াল ট্রাস্টের নথিভুক্ত দলিলই বলছে, এটি অ-সরকারি ট্রাস্ট। অথচ, নথিভুক্ত হওয়ার পরের দিনই অর্থাৎ এবছর ২৮ মার্চ কেন্দ্রের কোম্পানি বিষয়ক মন্ত্রক অফিস মেমো জারি করে বললো, এই ফান্ড সিএসআর-এর (CSR) অনুদান নিতে পারবে। অথচ, কোম্পানি আইনে শুধুমাত্র সরকারি সংস্থাই কল্যাণমূলক কাজের জন্য কোম্পানিগুলির কাছ থেকে দান নিতে পারে। ঐ অফিস-মেমোও জনসমক্ষে প্রকাশ করা হোক। তাহলেই জানা যাবে ঐ ফান্ডে সরকারি সংস্থার টাকা ঢুকেছে কিনা। নইলে এই দু-মুখো সরকারি অবস্থানের বিষাক্ত ধোঁয়াশা কাটবে না।

দাবি:

( ১) অবিলম্বে এই ফান্ডের গঠন, আয়ব্যয়ের সূত্র ও পরিমাণ নিয়ে ফরেনসিক তদন্ত করুক সিএজি (CAG)৷

( ২) তদন্ত শেষ না হওয়া পর্য্যন্ত এই ফান্ডকে অ্যাটাচ করা হোক।

( ৩) অন্যথায় ট্রাস্ট ভেঙে দিয়ে সরকার সমস্ত টাকা বাজেয়াপ্ত করুক এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হোক।

( ৪) আর কোনও পদক্ষেপ না করে যদি শুধু এভাবে বিভ্রান্তি ছডানো হয় তাহলে বুঝতে হবে যে কোভিড-কালে এটি মোদি সরকারের সবচেয়ে বড় ঘোটালা যা দেশের মানুষকে জানতে দেওয়া হচ্ছে না।

সুতরাং মুখোশ খুলে মুখ খুলুক মোদি সরকার।

আরও পড়ুন- নন্দীগ্রামে শুভেন্দু’র বিরুদ্ধে তৃণমূল প্রার্থী হতে চান মদন মিত্র

spot_img

Related articles

আমি তো দলে একটা ঊর্ধ্বসীমার কথা বলেছি: কেন বললেন অভিষেক

“আমি তো দলে একটা ঊর্ধ্বসীমার (Age Limit) কথা বলেছি...।“ ফের জল্পনা উস্কে মন্তব্য তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক...

AI-এর ধাক্কায় কি ৯ কোটি ছাঁটাই, নাকি ১৭ কোটি নিয়োগ? আশঙ্কার মধ্যেই আশার আলো দেখালেন নীলেকণি 

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’-এর দাপটে বিশ্বজুড়ে কর্মহীন হওয়ার যে প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তাকে ঘিরে আইটি মহলে বিতর্ক...

১৫০ জেলা বিচারক, সাত প্রাক্তন বিচারপতি: SIR-এ সোমবার থেকেই সহযোগিতা বিচার বিভাগের

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে রাজ্যের লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির আওতায় আসা ভোটারদের নথি যাচাইয়ের প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা। কলকাতা...

মাতৃভাষা দিবসে বাংলাকে ‘কাজের ভাষা’ করার ডাক বাংলা পক্ষর 

একুশে ফেব্রুয়ারি মানেই কেবল আবেগ বা শ্রদ্ধার্ঘ্য নয়, বরং ঘরের মাটিতে নিজের ভাষার অধিকার বুঝে নেওয়ার লড়াই। আন্তর্জাতিক...