অমর্ত্য সেনকে বেনজির ব্যক্তিগত আক্রমণ দিলীপের, পাল্টা সরব সৌগত

শালীনতার সব সীমা অতিক্রম করে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনকে (amartya sen) কদর্য ব্যক্তিগত আক্রমণ। তাঁর বক্তব্য ও মতাদর্শ পছন্দ না হওয়ায় বাংলার অতি গর্বের বিশ্বখ্যাত শিক্ষাবিদকে মেঠো রাজনীতির নিশানা বানাতে ছাড়ছে না গেরুয়া শিবির।

মঙ্গলবার সকালে নিউটাউনের ইকো পার্কে মর্ণিং ওয়াকে বেরিয়ে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ (dilip ghosh) চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ করেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদকে। নাম করেই অমর্ত্য সেনকে আক্রমণ শানান তিনি। বলেন, অমর্ত্য সেন বলেছেন, লাভ জেহাদের মধ্যে জেহাদ থাকতে পারে না। ধর্মান্তরকরণ বিরোধী যে আইন বিজেপি (bjp) শাসিত বিভিন্ন রাজ্যে আছে, তা অসাংবিধানিক। আমি তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কিছু বলতে চাই না। উনি তিনবার তিন ধর্মে বিয়ে করেছেন। সেজন্য তাঁর এবিষয়ে কথা বলারই নৈতিক অধিকার নেই। যে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে, দেশের মানুষের দুঃখ কষ্টে নেই তার নীতিকথা শুনতে আমরা প্রস্তুত নই। যারা শুনেছে তারা ডুবেছে। আমরা ডুবতে চাই না। দেশের মানুষের দুঃখ কষ্টে যিনি নেই তাঁর কাছ থেকে কোনও নীতিকথাও শুনব না।

ঘটনার সূত্রপাত বিজেপির বিতর্কিত লাভ জেহাদ আইনকে কেন্দ্র করে। সোমবার বস্টন থেকে একটি বেসরকারি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে লাভ জিহাদ (love jihad) প্রসঙ্গে মুখ খুলেছিলেন অমর্ত্য সেন। জানিয়েছিলেন, এটা খুবই চিন্তার বিষয়। একে মানুষের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ বলে মনে হচ্ছে। জীবনযাপনের অধিকার মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত। কিন্তু এই আইনের ফলে মানবাধিকার লঙ্খন করা হচ্ছে। যে কোনও মানুষই নিজের ধর্ম বদলে অন্য ধর্ম গ্রহণ করতে পারেন। সেটা সংবিধান স্বীকৃত। তাই এই আইন অসাংবিধানিক। অমর্ত্য দাবি করেন, এখনই এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ চাওয়া উচিত। এই আইনকে অসাংবিধানিক (unconstitutional) ঘোষণার জন্য সুপ্রিম কোর্টে মামলা করা উচিত। এমন আইন সংবিধানকেই অপমান করে।

দিলীপকে পাল্টা বিঁধেছেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ সৌগত রায় (sougata roy)। বলেছেন, অমর্ত্য সেনের গুরুত্ব বোঝা দিলীপ ঘোষের পক্ষে সম্ভব নয়। অসহিষ্ণুতার রাজনীতি নিয়ে বারবার সরব হয়েছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ, সেকারণেই তাঁকে বিজেপির এত অপছন্দ।