Thursday, March 12, 2026

“পরিব্রাজক” বিধায়ক এবার বিজেপিতে, তৃণমূল বলছে বাঁচা গেল!

Date:

Share post:

শিয়রে বিধানসভা ভোট (Assembly Election)। তার আগে দলবদলে একের পর এক চমক শাসক-বিরোধী দুই শিবিরে। শুধু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নয়, সমাজের বিশিষ্ট জনেদের নিজেদের দিকে টেনে বার্তা দিচ্ছে শাসক তৃণমূল (TMC) ও মূল বিরোধী বিজেপি (BJP)। তবে এই দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে গেরুয়া শিবির। দল বদলকে বিজেপি কার্যত শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছে।

তারই অঙ্গ হিসেবে শাসকদলের আরও এক বিধায়ক যোগ দিলেন বিজেপিতে। এবার নদিয়া (Nadia) শান্তিপুরের (Shantipur) বিধায়ক (MLA) অরিন্দম ভট্টাচার্য (Arindam Bhattacharya) আজ, বুধবার বিজেপিতে যোগ দিলেন। দিল্লির দীনদয়াল উপাধ্যায় মার্গে বিজেপি সদর দফতরে বাংলার পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়র (Kailash Vijayborgy) হাত থেকে দলীয় পতাকা তুলে নিলেন অরিন্দম। সব মিলিয়ে গত দু’মাসে অন্য দল থেকে১০ বিধায়ককে নিজেদের পার্টিতে সামিল করল বিজেপি। যার সিংহভাগই শাসক দল থেকে আসলেন।

বিজেপিতে যোগ দিয়ে শান্তিপুরের বিধায়ক বলেন, “আমি যুবকদের নিয়ে ভাল কিছু করতে চাই। বারবার তৃণমূল নেতৃত্বকে বলেও কোনও কাজ হয়নি। কোনও যুবক যখন কিডনি বিক্রির কথা বলছে সেটা অনেকটা লজ্জাজনক। বাংলায় চাকরি হচ্ছে না, শুধুই দুর্নীতি হচ্ছে। আমার হাত-পা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।”

অন্যদিকে, তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় পাল্টা দিয়ে বলেন, “সুযোগ সন্ধানী কিছু লোক আছে। তারা যত তাড়াতাড়ি যায় ততই ভাল। যাদের কাজ করার ইচ্ছে আছে, তারা অনেক কাজই করতে পারে। অনেকেরই লোভ আছে। যাদের যাওয়ার চলেই যাক আমাদের দল তাহলে পরিশুদ্ধ হয়। যে কাজ করতে চায় না, তার বাহানাও কম হয় না।”

কে এই অরিন্দম ভট্টাচার্য?

একটু পিছনে ফিরে তাকাতে হবে।

২০১৬ সালে গত বিধানসভা নির্বাচনে বাম-কংগ্রেস জোটের প্রার্থী হিসেবে নদিয়ার শান্তিপুর থেকে লড়েছিলেন কংগ্রেসের প্রার্থী অরিন্দম ভট্টাচার্য। সেই সময় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হেভিওয়েট অজয় দে’কে তিনি ১৯ হাজারের বেশি ভোটে হারিয়ে শিরোনামে চলে আসেন। এরপর ২০১৭ সালের এপ্রিস মাসে তিনি যোগ দেন তৃণমূলে। সেই সময় অরিন্দম ভট্টাচার্য ছিলেন যুব কংগ্রেসের সভাপতি। কিন্তু, তৃণমূলেও পাঁচ বছর কাটাতে না কাটাতে বিজেপিতে যোগ দিলেন তিনি।

নতুন প্রজন্মের নেতা অরিন্দম সম্পর্কে রাজনৈতিক মহলের বিশ্লেষণ, তিনি সুযোগ সন্ধানী। যখন যেদিকে পাল্লা ভারী বুঝেছেন, সেদিকেই ঝুঁকেছেন। তাই শান্তিপুরের বিধায়কের এই দল বদলকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন না কেউ। বরং, তাঁকে “পরিব্রাজক” তকমা দিচ্ছেন এলাকাবাসী ও রাজনৈতিক মহল। কারণ, আরিন্দমের বিশ্বাস যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে স্থানীয় ভোটাররা বলছেন, কী গ্যারান্টি আছে, ভোটের পর ফের দল বদলাবেন তিনি? আর তাঁর পুরোনো দল তৃণমূল বলছে, “বাঁচা গেলো…!”

আরও পড়ুন- নাম না করে শুভেন্দুকে এ কী বললেন অনুব্রত!

Advt

spot_img

Related articles

বাংলার জনজাতি উন্নয়নকে উপেক্ষা করে কেন আক্রমণ? রাষ্ট্রপতির কাছেই উত্তর চায় তৃণমূল 

গত তিন দশকের বাম আমলের অচলাবস্থা কাটিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানায় বাংলার আদিবাসী ও অনগ্রসর জনজাতিদের উন্নয়ন আজ এক...

“বার অ্যাসোসিয়েশন কি মানুষের স্বার্থে মামলা লড়ে?” হাইকোর্টে প্রশ্ন তুলে বিরোধীদের নিশানা কল্যাণের

দীর্ঘ ১১ মাসের আইনি লড়াই ও টানাপড়েন শেষে এসএলএসটি নিয়োগ সংক্রান্ত আদালত অবমাননা মামলার শুনানি শেষ হল কলকাতা...

কথা রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী: গঠিত হলো পশ্চিমবঙ্গ ব্যবসায়ী কল্যাণ বোর্ড

রাজ্যের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত ব্যবসায়ী মহলের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করল রাজ্য সরকার। ডিসেম্বর ২০২৫-এ আয়োজিত রাজ্য ব্যবসায়ী...

ইংল্যান্ডের ‘দ্য হানড্রেড’ প্রতিযোগিতায় রিচা, বিশ্বকাপজয়ী তারকা এবার ম্যাঞ্চেস্টার সুপার জায়ান্টসে 

ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটের নির্ভরযোগ্য উইকেট কিপার ব্যাটার রিচা ঘোষ (Richa Ghosh) এবার খেলবেন ইংল্যান্ডের ‘দ্য হানড্রেড’ (The Hundred)...