Wednesday, April 22, 2026

ভোটার তালিকা থেকে বাদ: বিক্ষোভের জেরে কালিয়াচকে আটকে ৭ বিচারবিভাগীয় আধিকারিক

Date:

Share post:

রাজ্যে এসআইআর-এর অ্যাডজুডিকেশন মামলাগুলির নিষ্পত্তি শুরু হতেই প্রায় ৪৫ শতাংশ মানুষের নাম বাদ পড়েছে। যার জেরে রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিণের সব প্রান্তে শুরু হয়েছে স্থানীয় মানুষের বিক্ষোভ। এবার মালদহের কালিয়াচকে (Kaliachak) সেই বিক্ষোভ একেবারে সব সীমা ছাড়াল। ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক সকাল থেকে অবরুদ্ধ রেখে বিডিও দফতরের (BDO Office) বাইরে দিনভর বিক্ষোভের পরে রাতেও জারি বিক্ষোভ। ফলে বিডিও দফতরেই আটকে পড়েন সাতজন বিচার বিভাগীয় আধিকারিক (Judicial Officers)। নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) তরফে রাজ্য পুলিশের ডিজি-র (DGP) সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁদের মুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। রাজ্যের শাসকদলের তরফে দাবি করা হয়, রাজ্যের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব তৈরির জন্য এই পরিকল্পনা করেছে বিজেপি।

কালিয়াচকের ১ নম্বর বিডিও দফতরের (Kaliachak-1 BDO office) বাইরে সকাল ১০টা থেকে বিক্ষোভ শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিনও সেই বিক্ষোভে যোগ দেন। অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক (National Highway 12)। সাবিনা ইয়াসমিন (Sabina Yasmin) বিক্ষোভকারীদের অনুরোধ করেন, যেন কোনওভাবেই বিক্ষোভ হিংসার পথে না যায়।

তবে রাত ১১টার পরেও দেখা যায় বিক্ষোভ ও জাতীয় সড়কের অবরোধ অব্যাহত। ফলে বিডিও দফতরে (BDO office) আটকে পড়েন অ্যাডজুডিকেশনের (adjudication) যাচাই প্রক্রিয়া চালানো বিচার বিভাগীয় আধিকারিকরা (Judicial Officers)। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে স্থানীয় বিডিও আলোচনার প্রক্রিয়া শুরু করার কথা জানালেও তা সম্ভব হয়নি।

এই পরিস্থিতিতে হস্তক্ষেপ করে নির্বাচন কমিশন। জেলাশাসকের কাছে রিপোর্ট চেয়ে পাঠানো হয়। সেই সঙ্গে ডিজিপি-কে নির্দেশ দেওয়া হয় পরিস্থিতি থেকে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের বের করে আনার জন্য। জেলা প্রশাসনের তরফে অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠানো হয় এলাকায়। সেই সঙ্গে রাতেই অতিরিক্ত জেলাশাসক ও জেলা পুলিশ সুপার রওনা দেন কালিয়াচকের উদ্দেশ্যে।

আরও পড়ুন : আর সাপ্লিমেন্টারি তালিকা নয়! ভোটার তালিকায় নিয়ে নতুন ধোঁয়াশা কমিশনের

এই ঘটনায় বিশৃঙ্খলায় বিজেপির মদতপুষ্ট সংগঠকে দায়ী করেছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ দাবি করেন, গোটা রাজ্যে অলিখিত জরুরি অবস্থা (Emergency) জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। মানুষকে অনিশ্চয়তায় ফেলেছে নির্বাচন কমিশন। তার মধ্যে বিজেপির মদত দেওয়া দুটো দলকে বলছে তোমরা ওখানে এমন কিছু করো যাতে নেতিবাচক হয়। যাতে রাষ্ট্রীয় অপশক্তি ব্যবহারের আরও একটা জায়গা তৈরি করা যায়। কোনওরকম বিশৃঙ্খল আচরণ সমর্থন করে না তৃণমূল কংগ্রেস। গোটা প্লট বিজেপির। দায়দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের।

Related articles

গদ্দারের জন্য তৃণমূলের দরজা চিরতরে বন্ধ! দেগঙ্গার সভা থেকে হুঙ্কার অভিষেকের 

বুধবার উত্তর ২৪ পরগনা জেলার দেগঙ্গা বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী আনিসুর রহমানের সমর্থনে দেগঙ্গার বেনাপুর রোহিত ইটভাটা মাঠে দ্বিতীয়...

উজাড় হবে ২৪টি গ্রাম: মধ্যপ্রদেশে প্রতিবাদের জেরে বন্ধ মোদির ৪৯০০০ কোটির প্রকল্প

বিজেপি রাজ্যেই গ্রামবাসীদের প্রতিরোধের মুখে থমকে গেল প্রধানমন্ত্রীর শিলান্যাস করা প্রকল্প। বিজেপির প্রকল্পগুলির সঙ্গে যেভাবে জনজীবনের উন্নয়নের থেকে...

প্রার্থীদের সমর্থনে হাওড়ায় জননেত্রীর পদযাত্রায় জনজোয়ার

প্রথম দফার ভোটের আগের দিন একের পরে এক সভার পর হাওড়ায় পদযাত্রা করলেন তৃণমূল (TMC) সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়...

প্রার্থীদের আচরণবিধি নিয়ে স্পষ্ট নির্দেশ কমিশনের

রাজ্যে প্রথম দফার ভোটের আগে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন (Election Commission) প্রার্থীদের আচরণবিধি নিয়ে...