Monday, February 2, 2026

ক্যান্সারে আক্রান্ত ছেলে, স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের আশায় পরিযায়ী শ্রমিক

Date:

Share post:

সংসার চালাতে পরিবার নিয়ে ভিন রাজ্যে পাড়ি দিয়েছিলেন মালদহের (Maldah) হরিশ্চন্দ্রপুরের কুশিদা এলাকার বাসিন্দা মামুন। সেখানে দিনমজুরি করে সংসার চালাতেন। কিন্তু আচমকাই নেমে আসে বিপর্যয়। অসুস্থ বড়ো ছেলের চিকিৎসা করাতে গিয়ে ধরা পড়ল ক্যান্সার (Cancer)। কিন্তু সেই চিকিৎসার খরচ চালানোর মতো সামর্থ্য নেই পরিবারের। এখন ভরসা স্বাস্থ্যসাথী কার্ড (Helth Card)। সরকারের দিকে মুখ চেয়ে ক্যান্সার আক্রান্ত ছেলেকে নিয়ে ফিরে এসেছেন রাজ্যে (State)।

কয়েক বছর ধরে রাজস্থানে দিনমজুরি করে কোনোরকমে দিন গুজরান করেন মামুন (Mamun)। সেখানে ক্যান্সারের মতো মারণ রোগের চিকিৎসা করার সামর্থ্য নেই তাঁর। ভিন রাজ্যে বসেই শুনলেন নিজের এলাকায় প্রশাসনের তরফে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড দেওয়া হচ্ছে। সেই কার্ড থাকলে নিখরচায় ছেলের চিকিৎসা করাতে পারবেন। তাই দেরি না করে ভিন রাজ্য থেকে হরিশ্চন্দ্রপুরের কুশিদা গ্রামের বাড়িতে ফিরছেন ক্যান্সারাক্রান্ত ছেলেকে নিয়ে। বাড়িতে এসেই স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের জন্য আবেদনও করেছেন মামুন এর স্ত্রী নাসিমা খাতুনের (Nasima Khatun) নামে।

কপর্দকহীন ওই পরিযায়ী পরিবারের কাছে একমাত্র ভরসা স্বাস্থ্যসাথীর কার্ড। কবে সেই কার্ড মিলবে অসুস্থ ছেলেকে বুকে আঁকড়ে এখন সেই অপেক্ষায় দিন গুণছেন নাসিমা।

কুশিদা মুসলিমপাড়ার বাসিন্দা মামুনের দুই ছেলে দুই মেয়ে। সংসার চালাতে পাঁচ বছর ধরে সপরিবারে আজমেঢ়ে থাকেন। লকডাউনেও সেখানে ছিলেন। কুশিদায় বাড়ি বলতে ভাঙাচোরা মাটির বাড়ি। আবেদন করেও আবাস যোজনায় ঘর মেলেনি বলেও অভিযোগ। সম্প্রতি বড় ছেলে নাসিরুদ্দিন (Nasiruddin) অসুস্থ হয়ে পড়ে। সেখানে তার চিকিৎসা করার পরেই তার ক্যান্সার ধরা পড়ে। ওই পরিযায়ী পরিবারটি যাতে স্বাস্থ্যসাথীর কার্ড পায় তা নিয়ে নিজেই উদ্যোগী হয়েছেন কুশিদা গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ-প্রধান মহম্মদ নূর আজম। প্রশাসনের তরফেও বিষয়টি সহানুভূতির সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

হরিশ্চন্দ্রপুর ১ বিডিও অনির্বাণ বসু (Anirban) জানান, আবেদনপত্র জমা পড়েছে। দ্রুত যাতে ওরা কার্ড পায় তা দেখছি। মামুনের দাদা মন্টু শেখ বললেন, “মাস খানেক আগে থেকে ছেলেটি অসুস্থ। এখন সরকারের কাছে আবেদন যেন স্বাস্থ্যসাথী কার্ডটি হয়ে যায়। কার্ড না হলে বাচ্চাটিকে বাঁচাতে পারব না।”

কুশিদা গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ-প্রধান মহম্মদ নূর আজম বলেন, “আমি দায়িত্ব পাওয়ার পর যে লিস্ট করেছি তাতে ওই পরিবারের নাম আছে”। এখন এই দরিদ্র পরিযায়ী পরিবার পথ চেয়ে বসে আছে কবে তারা স্বাস্থ্য সাথীর কার্ড পাবে এবং সমস্যার সমাধান হবে।

 

spot_img

Related articles

বিকালে কমিশনে মমতা-অভিষেক: ৬ চিঠির পরে জ্ঞানেশ-সাক্ষাৎ

বাংলায় যে প্রক্রিয়ায় এসআইআর তা কতটা পক্ষপাতমূলক, প্রাণঘাতী, তা ছয়টি চিঠির মাধ্যমে এতদিন তুলে ধরেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা...

আজকের রাশিফল

আকাশের গ্রহ-নক্ষত্রের বিন্যাস প্রতিনিয়ত আমাদের জীবনের ছন্দ বদলে দেয়। আজকের দিনটি কারও জন্য নিয়ে আসবে প্রাপ্তির আনন্দ, আবার...

কোচ ব্যারেটোর রণকৌশলে বেঙ্গল সুপার লিগ খেতাব জিতল হাওড়া-হুগলি ওয়ারিয়র্স

রয়্যাল সিটিকে ৩-২ গোলে হারিয়ে শ্রাচি  আয়োজিত বেঙ্গল সুপার লিগ(Bengal Super League )খেতাব জিতল হাওড়া-হুগলি ওয়ারিয়র্স(Howrah Hooghly Warriors)...

পাক বধ করে যুব বিশ্বরকাপের সেমিতে ভারত, বৈভবদের ব্যাটিং নিয়ে থাকল উদ্বেগও

পাকিস্তানকে ৫৮ রানে হারিয়ে আইসিসি যুব বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ভারত(India)। ম্যাচ শেষ হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হল না। ৩৩.৩...