Monday, April 6, 2026

উত্তরাখণ্ডের মতো বিপর্যয় কড়া নাড়ছে কলকাতাতেও, আশঙ্কা গবেষকদের

Date:

Share post:

উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলায় হড়পা বাণের জেরে এখনও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৩১ জনের। নিরুদ্দেশ ১৭০ জনেরও বেশি মানুষ। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের বিশ্লেষণে এখন ব্যস্ত গবেষকরা। তাঁদের অনুমানে দেখা গেছে,  হিমানি সম্প্রপাত বা হিমবাহ হ্রদের হঠাৎ ফেটে যাওয়া, যাকে ইংরেজিতে গ্লেসিয়াল লেক আউট বার্স্ট ফ্লাড (GLOF) বলে, সেই কারণেই উত্তরাখণ্ডের বিপর্যয় ঘটেছে। তবে একে সহজভাবে নেওয়াটা ঠিক নয়। কলকাতাও এই বিপদসীমার আওতায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। বিজ্ঞানীদের দাবি, উত্তরাখণ্ডের মতো কলকাতাতেও অচিরেই ঘটে যেতে পারে এই ধরণের বিপর্যয়। কিন্তু কেন?

পুণের ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অফ ট্রপিকাল মেটিরিওলজির জলবায়ু বিজ্ঞানী ডক্টর রক্সি মেথিউ কোল বলেছেন, এই ঘটনার অন্যতম কারণ হতে পারে জলবায়ুর পরিবর্তন। এছাড়াও উত্তরাখণ্ডের বিভিন্ন এলাকায় যে নতুন তুষারপাত হয়েছে, সেই বরফ জলের উপরে জমে যাওয়ায় ফ্ল্যাশ ফ্লাড হওয়ার সম্ভাবনাকেও একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছেন না ডক্টর কোল। প্রতিবছর ভারতের জলবায়ুর পরিবর্তন নিয়ে সম্প্রতি যে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে সেখানে বলা হয়েছে, প্রতি দশকে জলবায়ুর পরিবর্তনের জন্য হিমালয়ের তাপমাত্রা .২ ডিগ্রি সেলসিয়াস করে বৃদ্ধি পাচ্ছে।  ৪০০০ মিটারের বেশি উচ্চতায় এই উষ্ণায়নের পরিমাণ দশক প্রতি .৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এভাবে ক্রমাগত উষ্ণতা বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য বিগত কয়েক দশকে হিমালয়ের বরফ গলতে শুরু করেছে এবং যে বিপুল পরিমাণ বরফ এত দিন জমা হয়েছিল সেটার পরিমাণও কম হয়ে যাচ্ছে বলে অনুমান করছেন ডক্টর কোল। টেরি (TERI)-র সেন্টার ফর হিমালয়ান ইকোলজির তরফ থেকে হিমবাহবিদ শ্রেষ্ঠ তয়াল বলেছেন, প্রাকৃতিক বিপর্যয় রোধ করা যাবে না ঠিকই, কিন্তু সেটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। যদি এই বিপর্যয়প্রবণ এলাকা আগে থেকে চিহ্নিত করে নেওয়া যায়, তাহলে সম্পদ ও মানুষের প্রাণহানি অনেক কম হবে। আর সেই চেষ্টাই তাঁরা করছেন। যে সমস্ত হিমবাহ হ্রদ খুব দ্রুত আয়তন বিস্তার করছে বা ক্রমাগত বৃষ্টি হয়ে চলেছে যে সব হ্রদ অঞ্চলে, সেগুলিকে আলাদা গুরুত্ব দিয়ে খুঁজে বের করা হচ্ছে। কারণ এই জাতীয় অঞ্চলেই বিপর্যয়ের আশঙ্কা বেশি থাকে।

গবেষকরা জানিয়েছেন, ভারতের অন্যান্য জায়গার পাশাপাশি বিপদসীমার বাইরে নয় শহর কলকাতাও। বিজ্ঞানীদের দাবি, উত্তরাখণ্ডের মতো হিমবাহ বিস্ফোরণ নয়, কলকাতা মেঘ ভাঙা বৃষির কবলে পড়তে পারে। তবে এরকমটা হলে তিলোত্তমা চলে যেতে পারে জলের তলায়। ভেসে যেতে পারে গোটা শহর। কলকাতার বিপদ যে দোড়গোড়ায় তা ভালই জানান দিয়েছে আমফান । তছনছ করে দিয়েছিল গোটা শহর। এর আগেও অবশ্য সতর্কতা দিয়েছিল আয়লা। তারপর মাঝের কয়েকটা ছোটখাটো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাক্ষী থেকেছে কলকাতা। পরিবেশবিদদের দাবি, আসলে শহরের বিপদ বাড়াচ্ছে বঙ্গোপসাগরের জলের উষ্ণতা বৃদ্ধি। যার জেরে এখন ঘন ঘন ঘূর্ণীঝড় জন্ম নিচ্ছে বঙ্গোপসাগরের বুকে।  তাতেই কড়া নাড়ছে বিপদ।

Advt

Related articles

অভিষেকের মা বলেছে…: শান্তিপুরের তাঁতের ঐতিহ্য তুলে ধরে কী জানালেন মমতা

বাংলার তাঁতের শাড়ির আঁতুড়ঘর নদিয়া। ফুলিয়া- শান্তিপুরে ঘরে ঘরে তাঁতশিল্প। সোমবার, সেই শান্তিপুর স্টেডিয়ামে তৃণমূল প্রার্থী ব্রজকিশোর গোস্বামীর...

কালিয়াচক কাণ্ডে গাফিলতির অভিযোগ! মালদহের অতিরিক্ত জেলাশাসককে শোকজ নবান্নের 

মালদহের কালিয়াচকের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে চরম গাফিলতির অভিযোগ উঠল খোদ জেলার অতিরিক্ত জেলাশাসকের (ল’ অ্যান্ড অর্ডার)...

গেট ভেঙে দিল্লি বিধানসভায় গাড়ি, স্পিকারের গাড়িতে কালি মুখ ঢাকা অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির

নিরাপত্তাহীনতার চূড়ান্ত নিদর্শন! লালকেল্লার সামনে বিস্ফোরণের ঘটনা এখনও ফিকে হয়নি, তার মধ্যেই রাজধানীতে নিরাপত্তা ফের একবার নিয়ে উঠল...

আজ রাতেই তালিকা প্রকাশ করতে পারে কমিশন, নন্দলাল বসুর পরিবারকে সম্পূর্ণ সহযোগিতার সুপ্রিম নির্দেশ 

সুপ্রিম কোর্টে সোমবার হয়ে গেল এসআইআর শুনানি। এর আগে দেশের সর্বোচ্চ আদালত বিচারবিভাগের তদারকিতে এসআইআর-এর কাজ চলার নির্দেশ...