‘৭ মিনিটের আতঙ্ক’ কাটিয়ে মঙ্গলে নামার ভিডিও পাঠাল পার্সি

শেষ ‘৭ মিনিট আতঙ্ক’ কাটিয়ে লালগ্রহের মাটিতে পা রাখার মুহূর্তের ভিডিও পাঠাল নাসার রোভার ‘পার্সিভারেন্স’। মঙ্গলে ‘পার্সিভারেন্স’ রোভারের অবতরণের মুহূর্তের এই ভিডিওটি নাসার তরফে শেয়ার করা হয়েছে। প্যারাশুটের মাধ্যমে লালগ্রহের মাটি ছোঁয়ার  মুহূর্তের ভিডিও ধরা পড়েছে ক্যামেরায়। সাত মাস আগে ‘পার্সিভারেন্স’ রোভার পৃথিবী থেকে টেক অফ করেছিল। এর পর  চারদিন আগে অর্থাৎ ১৯ ফেব্রুয়ারি লালগ্রহের মাটি ছুঁয়েছিল ‘পার্সিভারেন্স’ রোভার। হাই ডেফিনিশন ক্যামেরায় অবতরণের মুহূর্ত ধরা পড়ল।পৃথিবীতে বসে দেখা গেল মঙ্গলের বুকে নামার ছবি।

মঙ্গলের বায়ুমন্ডল ঢোকার মুহূর্ত থেকে শুরু হয় ভিডিওটি।  যে সময় গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় সাড়ে ১২ হাজার মাইল। মঙ্গলের বায়ুমন্ডলে প্রবেশ করা মাত্রই ছোট্ট সিলিন্ডার থেকে বেড়িয়ে আসে বিরাটাকার প্যারাসুট। গতি কমানো জন্য চলে আপ্রাণ চেষ্টা। লাল গ্রহে এই প্রথম এত বড় প্যারাসুট পাঠানো হয়েছে। পারসিভ্যারেন্সের রোভারে রয়েছে ২৫ টি ক্যামেরা। এই ক্যামেরাগুলি থেকে ভিন্ন ভিন্ন কোণ থেকে লাল গ্রহের ছবি তোলা হয়েছে। মঙ্গলের পৃষ্ঠদেশের এত কাছ থেকে ভিডিও এই প্রথম সামনে এসেছে। ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, মঙ্গলের পৃষ্ঠদেশ ঢেউ খেলানো। পৃষ্ঠদেশে মাঝেমধ্যেই দেখা যাচ্ছে বড় বড় গহ্বর।
মঙ্গলকে আপাতদৃষ্টিতে দেখে কোনও মরুভূমির মতো মনে হচ্ছে। রোভার যতই মঙ্গলের পৃষ্ঠদেশের কাছে এগিয়েছে, ততই এর জেট থেকে ছড়িয়ে পড়া হাওয়ায় পৃষ্ঠদেশ থেকে ধুলো উড়তে শুরু করে। এই ভিডিওটি তখনকার, যখন রোভার লালগ্রহের মাটি থেকে মাত্র ২০ মিটার দূরে। পৃষ্ঠদেশের কাছে পৌঁছতেই রোভারের আটটি চাকাই খুলতে শুরু করে এবং কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই রোভার মঙ্গলের বুকে অবতরণ করে।

‘পার্সিভারেন্স’ মঙ্গল গ্রহে কার্বনডাইঅক্সাইড থেকে অক্সিজেন তৈরির কাজ করবে। সেইসঙ্গে লালগ্রহে জলের খোঁজও চালাবে। সেইসঙ্গে মঙ্গল গ্রহের মাটির নিচে জীবনের ইঙ্গিত নিয়েও গবেষণা চালাবে। সেইসঙ্গে লালগ্রহের আবহাওয়া ও জলবায়ু নিয়েও গবেষণা চালাবে ‘পার্সিভারেন্স’।

Advt