Saturday, February 28, 2026

নব্য, তৎকালদের থেকে বাঁচতে এবার ‘সেভ বেঙ্গল বিজেপি’র ডাক দলের আদি নেতা-কর্মীদের

Date:

Share post:

আজ না হয় কাল, সংঘাত যে বাধবে তা জানাই ছিল। কেন্দ্রীয় নেতারা আর কতদিনই বা চেপে রাখবেন! বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলের ফ্লাডগেট খুলে দেওয়ার পর যেভাবে অন্য দলের নেতা-কর্মীরা সুযোগ বুঝে ঢুকে পড়ছেন, তাতে বাংলার আদি বিজেপি নেতা-কর্মীরা চূড়ান্ত অস্তিত্বের সংকটে। অবস্থা এতটাই ঘোরালো যে ক্ষুব্ধ বিজেপি কর্মীরা এবার ‘সেভ বেঙ্গল বিজেপি’ (savebengalbjp) প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে নিজেদের দলেরই নব্য, তৎকাল সহকর্মীদের থেকে দলকে রক্ষা করতে প্রচার শুরু করে দিয়েছেন। সেভ বেঙ্গল বিজেপির টুইটারে (tweeter) নব্য ও তৎকাল বিজেপি নেতাদের সম্পর্কে অভিযোগের ঝড়। কোনও টুইটে জনৈক নেতার অস্বাভাবিক বৈভবের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, কোনও টুইটে লেখা হয়েছে কী কারণে পামেলা গোস্বামী, রাকেশ সিংয়ের মত ড্রাগ পাচারকারী বা শঙ্কুদের পাণ্ডার মত জালিয়াতকে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে তার জবাব দেওয়া হোক। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা, কৈলাস বিজয়বর্গীয়, সৌমিত্র খাঁ, লকেট চ্যাটার্জির মত নেতাদের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বিজেপি ও রাজ্য বিজেপির টুইটার হ্যান্ডেল ট্যাগ করে ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটাচ্ছেন দলের আদি কর্মীরা।

জানা যাচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির একাধিক পুরনো নেতা ও একাধিক যুব নেতা এই সেভ বেঙ্গল বিজেপি গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত। এঁদের কথায়, লজ্জা হচ্ছে ভাবতে যে আমাদের নেতারা এখন ড্রাগ পাচারকারীকে বাঁচাতেও বিবৃতি দিচ্ছেন! অথচ তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে এসে এখন যারা লম্বাচওড়া কথা বলছেন তাঁরা কেউ বিজেপির নীতি-আদর্শ ভালবেসে আসেননি। এই তৎকাল নেতা-কর্মীদের বেশিরভাগই তৃণমূলে থেকে সবরকমের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন, তৃণমূলে থাকার সময় সাধারণ বিজেপি কর্মীদের উপর অত্যাচারও করেছেন। এখন যেই বুঝেছেন বিজেপির (bjp) দিকে হাওয়া, ওমনি নানা কেলেঙ্কারি থেকে বাঁচতে বিজেপিতে এসে ভিড় করছেন। আদি বিজেপির এক যুবনেতা বলেন, যারা আসছে তাদের সঙ্গে বিজেপির রাজনৈতিক মতাদর্শের কোনও সম্পর্ক নেই। এদের অনেকের বিরুদ্ধে নানারকম দুর্নীতির তদন্ত চলছে। এখন দলবদল করে বাঁচতে চায়। আবার অনেকেই তৃণমূলে থাকলে এবার আর টিকিট পাবেন না বুঝে গেরুয়া শিবিরে নাম লিখিয়েছেন। বিজেপি দলের প্ল্যাটফর্মটা এদের কাছে এখন তৃণমূলের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত ক্ষোভ-বিক্ষোভ, আক্রোশ মেটানোর জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আদি বিজেপির এক নেতা বলেন, লোকসভা ভোটের আগে এঁরা কিন্তু ঝুঁকি নেননি। তখন সিংহভাগ পুরনো কর্মীই মাটি কামড়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই করে বাংলায় দলকে জয় এনে দিয়েছেন। সেভ বেঙ্গল বিজেপির সদস্যরা তাই বলছেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে ভালবেসে এই দলটা করি। দল থেকে আখের গোছানোর ধান্দা নিয়ে নয়, বরং দলের রাজনৈতিক আদর্শের টানে আমরা বিজেপির পতাকা ধরেছি। কোনও অবস্থাতেই বাংলার বিজেপি দলকে ড্রাগ পাচারকারী, দুর্নীতিগ্রস্ত, চরিত্রহীন, ধান্ধাবাজ নেতাদের হাতে তুলে দেব না আমরা।

Advt

spot_img

Related articles

বিরল রোগ রুখতে অস্ত্র ‘জেনেটিক কাউন্সেলিং’: নজিরবিহীন সাফল্য কলকাতা পুরসভার

বিরল জিনের অসুখ রুখতে নজিরবিহীন সাফল্যের পথে কলকাতা পুরসভা। শহরের সরকারি স্বাস্থ্য কাঠামোর হাত ধরে বংশগত মারণ রোগ...

সীমান্ত সুরক্ষায় ১০৫ একর জমি, মন্ত্রিসভার কমিটির প্রথম বৈঠকেই ছাড়পত্র

আন্তর্জাতিক সীমান্তে নজরদারি ও নিরাপত্তা আরও আঁটসাঁট করতে বড়সড় পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা বিএসএফ-কে কাঁটাতারের...

‘তফসিলি সংলাপ’: সোমে নজরুল মঞ্চে নয়া কর্মসূচির সূচনা অভিষেকের 

মণীশ কীর্তনিয়া বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার আগেই বড়সড় রাজনৈতিক কর্মসূচির ডাক দিল তৃণমূল কংগ্রেস। আগামী সোমবার, ২ মার্চ নজরুল...

রঙের উৎসবে চলবে না মেট্রো! আংশিক সূচি প্রকাশ কর্তৃপক্ষের

হোলি উপলক্ষ্যে ৩ মার্চ কলকাতার মেট্রো (Metro) পরিষেবা আংশিক বন্ধ থাকবে। কলকাতা মেট্রো (Kolkata Metro) কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দোলের...