সারারাত বাইরে খোলা থাকে হাতি-ঘোড়া! কারণ শুনলে তাজ্জব হবেন

জয়িতা মৌলিক :   সারারাত বাড়ির উঠোনে বারান্দায় রাখা থাকে হাতি-ঘোড়া। চোরেও নেয় না, পালিয়ে যায় না। এই বাংলার গ্রামে আছে এমন জায়গা। তবে হাতি-ঘোড়া আসল নয়; পুতুল। কিন্তু কখনও সেগুলো চুরি করা হয় না। কারণ শুনলে তাজ্জব হয়ে যাবেন।

টেরাকোটার গ্রাম পাঁচমুড়া,
বাঁকুড়া (Bankura) থেকে বাসে একঘণ্টার পথ। গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে টেরাকোটার (Teracotta) পুতুল ও সামগ্রী তৈরি হয়। পাঁচমুড়ার ঘোড়া জগৎবিখ্যাত। প্রতিটি বাড়ির দাওয়ায় থরে থরে সাজানো মাটির ছোটবড় ঘোড়া। আছে হাতিও।

বাড়ি সাজানোর কাজে এই ঘোড়া অনেকে কিনলেও, মূলত সন্তানের শুভকামনায় মাটির ঘোড়া ও হাতি দেবতার কাছে মানত করার চল রয়েছে। বর্ষাকাল বাদ দিলে মাটির তৈরি হাতি-ঘোড়া বাড়ির উঠোনেই থাকে। রাতে তাদের বাড়ি ঢোকানো হয় না।

চুরি হয় না মূর্তিগুলি? স্থানীয় মৃৎশিল্পী ভূতনাথ কুম্ভকার বলেন, “এলাকার মানুষের বিশ্বাস হাতি-ঘোড়া হচ্ছে ঠাকুরের কাছে মানত করার জিনিস। এই পুতুল চুরি করলে ‘অভিশাপ’ লাগবে। তাই রাতে দাওয়ায় এগুলি পড়ে থাকলেও কেউ চুরি করার সাহস করে না”। যদিও অনান্য মাটির তৈরি জিনিস সন্ধের পরে ঘরে ঢুকিয়ে রাখা হয়। আর ভাটিতেও গাদাগাদি হয়ে পড়ে থাকে মাটি হাতি ঘোড়া। মানুষের বিশ্বাসী তাকে অন্যায় করতে আটকায়।

Advt