বিজেপির সোনার বাংলার নমুনা! কলকাতার গর্বের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হিন্দি ফতোয়া জারি কেন্দ্রের

বিধানসভা ভোটের মুখে ‘সোনার বাংলা’ গড়ার প্রতিশ্রুতি নিয়ে গলা ফাটাচ্ছেন নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ, জেপি নাড্ডা থেকে শুরু করে বিজেপির নানা স্তরের নেতারা। অথচ খোদ কলকাতায় বাঙালির প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই দেখা যাচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকারের হিন্দি (hindi) আগ্রাসনের নমুনা। ভোট পাওয়ার লক্ষ্যে বিজেপি (bjp) নেতারা বাংলার জাত্যভিমান ও গৌরবকে সম্মান জানানোর কথা বললেও দেখা গেল বাস্তবে সেই হিন্দি ভাষার আধিপত্য কায়েম করে ভাষা- ফতোয়া চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা। কলকাতার অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কালটিভেশন অফ সায়েন্সের (IACS) একটি বিজ্ঞপ্তি (circular) ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। ১৯ মার্চ জারি করা কেন্দ্রের (central govt.) এই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানের সব চিঠিপত্রের মধ্যে অন্তত ৫৫ শতাংশ হিন্দিতে লিখতে হবে। হিন্দিতে লেখা চিঠির উত্তরও আবশ্যিকভাবে হিন্দিতেই দিতে হবে। ফাইলপত্রের নোট ৩৩ শতাংশই করতে হবে হিন্দিতে। প্রতিষ্ঠানের সব ফাইলে নাম প্রথমে হিন্দিতে এবং তারপর ইংরাজিতে থাকবে। সার্ভিস বুকের এন্ট্রি পুরোটাই হবে হিন্দিতে। প্রতিষ্ঠানের কাজকর্মে সই করতে হবে হিন্দিতেই।

কেন্দ্রীয় ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সরকারি ভাষা আইনের ৩ (৩) ধারায় এই নিয়ম ১০০ শতাংশ মেনে চলতে হবে। প্রতিটি বিভাগই আগামী মাসের ৫ তারিখের মধ্যে এবং প্রতি অর্থবর্ষের শেষে এ বিষয়ে অগ্রগতি নিয়ে হিন্দি সেলকে রিপোর্ট দেবে। ইতিমধ্যেই গোটা বিষয় পর্যবেক্ষণে ওই প্রতিষ্ঠানে এক জন হিন্দি বিষয়ক আধিকারিক নিয়োগ করা হয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, হিন্দি ভাষার প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে কেন্দ্রের যে লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, তার অনেকাংশই পূরণ করেনি আইএসিএস।

রাজ্যের মন্ত্রী ব্রাত্য বসু গেরুয়া শিবিরের এই হিন্দি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সরব হয়ে বলেছেন, এটাই হল বিজেপির প্রকৃত চরিত্র। আঞ্চলিক বৈশিষ্ট্য, ভাষা, সংস্কৃতি নষ্ট করে পুরোপুরি হিন্দি আগ্রাসনের চেষ্টা। বিজেপি-র যে হিন্দি-হিন্দু-হিন্দুস্তান তত্ত্ব রয়েছে, এটা তারই প্রতিফলন।

আরও পড়ুন- আব্বাসকে পাত্তা না দিয়ে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত দেগঙ্গায় দলীয় প্রতীকে প্রার্থী ফরওয়ার্ড ব্লকের

Advt